বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ ছিলেন ২০০৫ সালে। আবাহনীর কোচ হন ২০০৭ সালে। ১৪ বছর পর ফিরে এসে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে কোনো বদল কি দেখছেন?

আন্দ্রেস ক্রুসিয়ানি: সত্যি বলতে, বড় কোনো বদল নেই। হয়তো এখন খেলোয়াড়দের গতি বেশি, লড়াইয়ের মানসিকতা বেড়েছে দলগুলোর। এখনকার ফুটবল অনেক বেশি ফিটনেস–নির্ভর। কিন্তু আমার সময়ের সেই আলফাজ, আরমানদের মতো নজরকাড়া প্রতিভা দেখছি না। খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত নৈপুণ্য আগে বেশি ছিল বাংলাদেশে। এখন সেটার খুবই অভাব। স্ট্রাইকার, মিডফিল্ডার বা ডিফেন্ডার—সব বিভাগেই একই অবস্থা। তা ছাড়া বদল যদি বলেন, সেটা রেফারিংয়ে। আগে এমন বিতর্কিত রেফারিং দেখিনি।

বিতর্কিত রেফারিং বলতে রেফারিরা কোথায় ভুলটা করছেন?

ক্রুসিয়ানি: রেফারিরা এখন খুব দ্রুত পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দিয়ে দিচ্ছেন। আগে এটা দেখিনি। খেলোয়াড়ের গায়ের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষ হলো না অথচ পেনাল্টি! মনে হয়, রেফারি তৈরিই থাকেন পেনাল্টি দিতে। আগে বাংলাদেশে কাজ করার সময় এমন কিছু চোখে পড়েনি।

রেফারিং নিয়ে অন্তত তিনটি ম্যাচ শেষে তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছেন আপনি। অনেকে বলেন, হারলেই দেখা যায় রেফারির দোষ। ব্যাপারটা কি সে রকম, নাকি সত্যিই কারণ আছে?

ক্রুসিয়ানি: দেখুন, রেফারিং নিয়ে সাইফ স্পোর্টিং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার কথা এমনি এমনি বলেনি। ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে আমাদের বিপক্ষে বিতর্কিত পেনাল্টি দেওয়া হলো আবাহনীকে। না হলে ফাইনালে যেতাম আমরা। লিগের ৫ ম্যাচের মধ্যে ২টি ম্যাচে আমরা বাজে রেফারিংয়ে শিকার হয়ে ৪ পয়েন্ট হারিয়েছি। আবার নিজেরা ন্যায্য পেনাল্টিও পাইনি।

কোন দুটি ম্যাচের কথা বলছেন?

ক্রুসিয়ানি: প্রথমটি লিগের তৃতীয় রাউন্ডে মুন্সিগঞ্জে শেখ রাসেলের সঙ্গে। সেদিন আমাদের বিপক্ষে দেওয়া বিতর্কিত পেনাল্টিই ম্যাচের ফল গড়ে দেয়। কাল (পরশু) মুন্সিগঞ্জে আমাদের বিপক্ষে বাজে পেনাল্টি দেন রেফারি। ম্যাচ শেষে আমার ডিফেন্ডার আবিদ শপথ করে আমাকে বলল, চট্টগ্রাম আবাহনীর স্ট্রাইকারের সঙ্গে বক্সে ওর কোনো সংঘর্ষই হয়নি। অথচ পেনাল্টি দিয়ে দেওয়া হলো। ম্যাচ শেষ হওয়ার ৩০ সেকেন্ড আগে আমরা তৃতীয় গোলটি খেয়েছি। ফল হয়ে যায় ৩-৩। ভিডিও দেখলে বোঝা যায়, গোলের আগে চট্টগ্রাম আবাহনীর স্ট্রাইকার হ্যাটট্রিকম্যান থ্যাঙ্কগড অফসাইডে ছিল।

রেফারিরা বলছেন, তাঁরা ভুল করলেও সেটা ইচ্ছাকৃত নয়...

ক্রুসিয়ানি: কিন্তু তাঁদের একটি সিদ্ধান্তে একটি দল ভীষণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এটা তো মানবেন।

মাঠে রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কোনটা ভুল আর কোনটা ঠিক, এটা আসলে কে ঠিক করবে?

ক্রুসিয়ানি: মানছি রেফারিই সর্বেসর্বা। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, একই রেফারি ফেডারেশন কাপে একই ঘটনায় আমাদের পক্ষে পেনাল্টি দেননি। কাল ম্যাচ শেষে আমি রেফারি ও ম্যাচ কমিশনারকে এটাই জিজ্ঞেস করলাম। রেফারি বললেন, ফেডারেশন কাপে যা হয়েছে, সেটা নাকি তাঁর ভুল। আমার খেলোয়াড়দের ভাষ্যমতে, শেখ রাসেল ম্যাচের পর রেফারি নাকি ওদের বলেছিলেন, ‘দুঃখিত, আমি ভুল করেছি।’ সত্যি বলতে, এসব নিয়ে আমি এখনো রেগে আছি।

কিন্তু আপনার দল জেতার মতো খেলতে পারছে? রেফারির দোষ ধরে দলের ব্যর্থতা লুকোচ্ছেন না তো?

ক্রুসিয়ানি: একদমই না। আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে, এটা মানছি। আমি বরং সেটা নিয়েই বেশি ভাবছি। তবে দেখুন, ৫ ম্যাচের মধ্যে শুধু মোহামেডানই আমাদের তুলনায় ভালো খেলেছে। ওই ম্যাচে আমরা দুটি ন্যায্য পেনাল্টি পাই, কিন্ত সেটা দেয়নি। কাল চট্টগ্রাম আবাহনীর চেয়ে অনেক ভালো খেলেও আমরা জিততে পারিনি রেফারির বিতর্কিত সিদ্ধান্তে।

আপনি শুধু রেফারিং নিয়ে বলছেন। কিন্তু বাংলাদেশের ক্লাবগুলোর বিনিয়োগ বেড়েছে এখন। বসুন্ধরা কিংস নিজস্ব ফুটবল স্টেডিয়াম করেছে। এগুলোও তো বিরাট পরিবর্তন...

ক্রুসিয়ানি: অবশ্যই এটা বড় বদল। ক্লাব অনেক খরচ করছে। বসুন্ধরার প্রকল্পটা খুবই ভালো। অন্য ক্লাবগুলোরও এগিয়ে আসা উচিত।

বাজে মাঠ নিয়ে কদিন আগেও অনেক কথা হয়েছে। এটাকে কীভাবে দেখছেন?

ক্রুসিয়ানি: বাংলাদেশের ফুটবল মাঠ আসলে ভালো নয়। মুন্সিগঞ্জের মাঠটা দেখতে হয়তো খারাপ লাগবে না। কিন্তু অসমতল। বসুন্ধরার মাঠটা ভালো শুনেছি। তবে আমরা এখন পর্যন্ত লিগের ৫ ম্যাচই মুন্সিগঞ্জে খেলায় অন্য মাঠগুলোর কথা জানি না।

এই লিগে ৫ ম্যাচে দুই জয় আর এক ড্রয়ে সাইফের পয়েন্ট ৭। পারবেন তো বাংলাদেশে নিজের তৃতীয় ইনিংসে নিজের সম্মান রাখতে?

ক্রুসিয়ানি: চেষ্টা তো করছি। দেখা যাক। আমাদের আরও ভালো ফুটবল খেলতে হবে।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন