default-image

শুভ্র: সুপার লিগে বাংলাদেশের ৯টি ম্যাচ দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। প্রথমটাই মনে হয় সবচেয়ে কঠিন। দক্ষিণ আফ্রিকায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলা...যেখানে বাংলাদেশ আগে কখনো জেতেনি। আপনার বাস্তবসম্মত প্রত্যাশাটা কী?

তামিম: আমরা এমন কিছু করতে চাই, যা আমরা আগে কখনো করিনি। নিজে ভালো করতে চাই, দল হিসেবে ভালো করতে চাই। ভালো করা মানে জেতা, এটা তো আর বলার দরকার নেই। জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সুযোগ নেই।

শুভ্র: তা তো ঠিকই, টেস্টে নাহয় ড্রয়ের কথা ভাবলেন, ওয়ানডেতে তো আর ড্র নেই...

তামিম: (হাসি) ঠিক। দেখেন, হারা-জেতা—এটা তো আর আমরা আগাম বলতে পারি না। তবে এটা বলতে পারি, আমরা জিততে চাই।

শুভ্র: তামিম, বিশ্বকাপই তো এখন আপনার পাখির চোখ। আমি ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা বলছি, ভারতে সেই বিশ্বকাপ শুরু হতে আরও প্রায় পৌনে দুই বছর...সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, মুশফিক আপনি...আপনাদের সবার আরও দুই বছর বয়স বাড়বে। এটা নিয়ে কি আপনি একটু চিন্তিত? বিশেষ করে রিয়াদকে নিয়ে..আফগানিস্তান সিরিজে ওর যে ফর্ম গেল...

তামিম: দাদা, আমার কাছে মনে হয়, রিয়াদ ভাই ইজ অ্যান অ্যাসেট। সবকিছু ভেবে আমার কাছে একটা জিনিসই মনে হয়, হি ইজ অ্যান অ্যাসেট টু দ্য টিম।

default-image

শুভ্র: তা তো অবশ্যই, বিশেষ করে আইসিসি টুর্নামেন্টে রিয়াদের পারফরম্যান্স তো দুর্দান্ত...কিন্তু ওর ব্যাটিংয়ে কি বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করেছে?

তামিম: হি ইজ কোয়াইট ফিট। অন্য অনেকের চেয়ে শরীরটাকে উনি ভালো রেখেছেন। আর আমি আগেও বলেছি, আবারও বলছি, রিয়াদ ভাই আমাদের দলের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

শুভ্র: আপনি আমাকে আগের একটা সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ২০২৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে ভালো করতে হলে আপনাদের এই চারজনকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে।

তামিম: জি, আমাদের খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে, তবে অবশ্যই অন্যদেরও সমর্থন লাগবে।

default-image

শুভ্র: এবার একটু টি-টোয়েন্টিতে আসি। আপনি বিপিএলে এত ভালো খেললেন, এর আগে আপনার টি-টোয়েন্টির কাহিনি তো সবাই জানে...আপনি ছয় মাস আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে ছুটি নিলেন, এটা একটু অদ্ভুত লেগেছে। আবার এটাও বলেছেন, ছয় মাস পর বাংলাদেশ দল প্রয়োজন মনে করলে আপনি খেলবেন। এটা যদি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের কথা ভেবে বলে থাকেন, এত দিন বাইরে থাকার পর এটা কেমন হবে না?

তামিম: আমার প্রথম কথা হলো এই প্রশ্ন গত বিশ্বকাপের আগেও বিভিন্নভাবে আমাকে অনেকবার করা হয়েছে বা অনেক জায়গায় অনেকজনকে করা হয়েছে যে তামিম তিন সিরিজ, চার সিরিজ খেলেনি, এই ওয়ার্ল্ড কাপে কেমনে খেলবে। আমি কিন্তু পাঁচ-ছয় সিরিজ না খেলেই বিপিএলে প্রথম টুর্নামেন্ট খেলেছি। আমি কত রান করেছি, সেটা কিন্তু লেখা আছে।

আমি ১৫ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি, আমি জানি কী করতে চাই, কী করতে চাই না। আর আপনি টি-টোয়েন্টি থেকে ছয় মাসের যে ছুটির কথা বললেন...দেখেন, আমার নিজের তো একটা প্ল্যান আছে। ওটা আপনারা আগামী মাসের মধ্যেই জানতে পারবেন। আমি কী চিন্তা করছি, আমি এই ফরম্যাটে খেলব কি খেলব না বা আমি কী করব বা করব না।

আমি আমার ক্রিকেট–জীবনে আমার সিদ্ধান্ত সব সময় পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছি সবাইকে। আমি কোনো কিছু লুকানোর মতো মানুষ নই। ওই যে আমি আপনাকে বললাম, আমি কী করতে চাই, তা আমার কাছে পরিষ্কার। কিছুদিনের মধ্যেই তা জানতে পারবেন। ছয় মাস ছুটির ব্যাপারটা আপনাদের কাছে হয়তো একটু আজব লাগছে।

তবে এটা আমাকে একটু সময় দিয়েছে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবার। এমন নয় যে আমি হুট করে এসে মিডিয়ার সামনে কথাটা বলে দিয়েছি। আমি বোর্ড প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলাপ করেছি, ক্রিকেট অপারেশনস চেয়ারম্যানের সঙ্গেও। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আমাদের তিনটা মিটিং হয়েছে। ওখানে বিভিন্ন ধরনের কথা হয়েছে, আমি কী করতে চাই বলেছি।

default-image

শুভ্র: আপনাকে নাকি গত বিশ্বকাপের পর টি-টোয়েন্টির অধিনায়ক হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল?

তামিম: নো কমেন্টস।

শুভ্র: এমন বললে তো ইন্টারভিউটা জমবে না...

তামিম: আমাকে অফিশিয়ালি ক্রিকেট বোর্ড থেকে কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি।

শুভ্র: আচ্ছা, ক্রিকেটারদের অবসর নিয়ে একটা প্রশ্ন করি। আগে এই সিদ্ধান্ত ছিল খুব সহজ। খেলাটা আর উপভোগ না করলেই শেষ বলে দিতেন ক্রিকেটাররা, এখন বিজ্ঞাপন-বাজার যোগ হওয়াতে কি সিদ্ধান্তটা নেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে? মহেন্দ্র সিং ধোনির মতো ক্রিকেটারও যে কারণে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্তটা ঝুলিয়ে রেখেছিলেন বলে ধারণা...

তামিম: না দাদা, আমি এক ফোঁটাও এভাবে করে চিন্তা করি না। প্রথম কারণ, আমার বয়স এখন ৩৩। যদি আমি ফিট থাকি আর পারফরম্যান্স ঠিক থাকে, তাহলে আমি আরও চার–পাঁচ বছর কেন খেলে যেতে পারব না!

শুভ্র: আপনার কথা হচ্ছে না, আমি বিশ্ব ক্রিকেটে সবার কথা বলছি...

তামিম: আমার তা মনে হয় না। আমি যদি বলি যে না, আর্থিক দিকটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটা বলা ঠিক হবে না। অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ খেলাটার প্রতি ভালোবাসা। আপনি যত বড় ক্রিকেটারদের নাম বললেন, শেষ দিন পর্যন্ত তারা খেলাটাকে ভালোবেসেছে। ওরা যদি আরও পাঁচ বছর আগেও খেলা ছেড়ে দিত, তারপরও তারা আরামে বাকি জীবন কাটিয়ে দিতে পারত।

আমি আমাদের বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কথা বলছি না। আপনি যাদের নাম বলেছেন, তাদের কথা বলছি। ওরা এখনো কেন খেলছে...আই ডিপলি বিলিভ, বিকজ অব দ্য লাভ ফর দ্য গেম। ওরা যে জায়গায় গেছে, ওদের জন্য ১১ টাকা কী, ১২ টাকা কী আর ১৩ টাকাই–বা কী!

default-image

শুভ্র: সাকিবকে নিয়ে একটা প্রশ্ন করতে চাই। সাকিব যে ইচ্ছা হলে টেস্ট ম্যাচ খেলে, ইচ্ছা হলে খেলে না। খেলবে কি খেলবে না, তা নিয়ে সব সময় অনিশ্চয়তা। এটা দলে কতটা প্রভাব ফেলে?

তামিম: দলে কতটা প্রভাব ফেলে, এটা বলা আমার জন্য একটু কঠিন। তবে এটা বলতে পারি, ও খেললে টিমের জন্য খুব ভালো হয়। কারণ, হি ইজ আ কোয়ালিটি প্লেয়ার। কিন্তু আপনি যে বললেন, ওর খেলা বা না খেলা নিয়ে যে অনিশ্চয়তা, আমার মনে হয় না এটা টিমকে অ্যাফেক্ট করে। করলে তা মেনে নেওয়া হতো না।

শুভ্র: সাকিব তো মূলত টেস্ট ম্যাচই বেছে বেছে খেলছেন। এখন ধরুন, সাকিব যখন নেই, তখন একজন খেলল। সাকিব ফিরতেই আবার বাদ, এতে টেস্ট দলটা গোছাতে সমস্যা হচ্ছে না?

তামিম: দেখেন, আপনার এই প্রশ্নের খুব ভালো উত্তর দিতে পারবে টেস্ট ক্যাপ্টেন। আমি আসলে ওইভাবে চিন্তা করিনি।

শুভ্র: আপনি তো টেস্ট ক্রিকেট খুব পছন্দ করেন, গত ডিসেম্বরে সাকিব-তামিমকে ছাড়াই বাংলাদেশ যে নিউজিল্যান্ডে টেস্ট জিতে গেল, ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের তুলনায় এই জয়কে আপনি কোথায় রাখেন?

তামিম: আমার কাছে মনে হয়, সব কটিই সমান। আপনি একটাকে বড় করবেন, একটাকে ছোট করবেন; আমি এ জিনিসটা পছন্দ করি না। আমরা ইংল্যান্ডকে যখন হারাই, ইংল্যান্ড বিশ্বের ১ নম্বর দল।

আমরা যখন অস্ট্রেলিয়াকে হারাই, তখন কেউ চিন্তাও করতে পারত না বাংলাদেশ টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারে। ওই মুহূর্তের জন্য ওটা সবচেয়ে বড় জয় ছিল। আমরা নিউজিল্যান্ডের কন্ডিশনে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছি, এটাও দারুণ একটা অ্যাচিভমেন্ট। কোনোটা বড় নয়, কোনোটা ছোট নয়।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন