বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

টেস্টে পেসাররা ভালো করবেন, এটা বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা। পেসারদের পারফরম্যান্স কেমন মনে হলো?

ডমিঙ্গো: বিদেশে ভালো করতে হলে ভালো ফাস্ট বোলার প্রয়োজন। ছেলেরা এক–দুই বছর ধরে কঠোর পরিশ্রম করছে। সেটার ফলই এখন একটু একটু করে পাওয়া শুরু হয়েছে। অনেকে হয়তো পেসারদের পারফরম্যান্স দেখে অবাক হচ্ছেন। তবে নিউজিল্যান্ডেই কিন্তু তাসকিনদের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার আদর্শ কন্ডিশন ছিল। এমন কন্ডিশন গত দুই বছরে ওরা পায়নি। সেটি পেয়ে প্রথম সুযোগেই ভালো করেছে।

দলে অনেক তরুণ ক্রিকেটার থাকাতে কি একদিক থেকে সুবিধা হলো?

ডমিঙ্গো: এটা বলা কঠিন। কারণ, সাকিবরা নিউজিল্যান্ডে অনেক সাফল্য পেয়েছে। তবে এটাও সত্যি যে তরুণদের অনেকেই আগে নিউজিল্যান্ড সফর করেনি। যে কারণে আগের সফরের দুঃস্মৃতি ওদের মধ্যে নেই। প্রথম টেস্টে ওরা দেখিয়েছে ওদেরও সামর্থ্য আছে বিশ্বের এক নম্বর দলকে হারানোর।

default-image

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্য পেতে তরুণ ব্যাটসম্যানদের ৮-১০ ম্যাচ লেগে গেছে। এই সময়টা তাঁদের সমর্থন দিয়ে যাওয়া নিশ্চয়ই কঠিন ছিল...

ডমিঙ্গো: ৮-১০ ম্যাচ নয়, মূল্যায়ন করার আগে ওদের কমপক্ষে ২০টি ম্যাচ সুযোগ দেওয়া উচিত। ১০ ম্যাচ একজন ক্রিকেটারকে গড়ে তোলার জন্য কিছুই নয়। তরুণেরা এর মধ্যেই ভালো কিছু পারফরম্যান্স এনে দিয়েছে। আবার অনেকের উন্নতি দ্রুতও হচ্ছে। আসলে একটা দল এভাবেই তৈরি হয়। সবাই একসঙ্গে উন্নতি করে না। তরুণদের গড়ে তুলতে ধৈর্য ধরতে হবে।

ইবাদত, তাসকিনদের ক্ষেত্রে তো সেটাই হয়েছে...

ডমিঙ্গো: ইবাদতের মধ্যে ম্যাচ জেতানোর প্রতিভা সব সময়ই ছিল। কিন্তু একটা জিনিস আমরা সবাই ভুলে যাই, সেটা হচ্ছে ইবাদতের কিন্তু অভিজ্ঞতা কম। শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নয়, সে ক্রিকেটেই এসেছে দেরিতে। মাত্র ১২টি টেস্ট খেলেছে। অথচ সেই আমাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ পেসার! টেস্টে আমাদের বোলিং আক্রমণই খুব অনভিজ্ঞ। আমাদের তিন পেসার মিলে সম্ভবত ২৩টির মতো টেস্ট খেলেছে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডের তিন পেসার মিলেই খেলেছে প্রায় আড়াই শ ম্যাচ।

default-image

অধিনায়ক মুমিনুল হককে এবার কেমন দেখলেন?

ডমিঙ্গো: মুমিনুলকে অধিনায়ক হিসেবে অনেক দূর যেতে হবে। এখনো সে নিজের পথ খুঁজছে, অধিনায়কত্বের ধরন বুঝতে চেষ্টা করছে। তবে ও এই সিরিজে রান পেয়েছে, দলের সেরা ব্যাটসম্যান সে। সবাই তার দিকে তাকিয়ে থাকে, সম্মান করে। সে নিজেও অধিনায়কত্বটা উপভোগ করছে।

টেস্ট দলের কোন কোন জায়গায় আরও বেশি কাজ করা উচিত বলে মনে করেন?

ডমিঙ্গো: দেশের বাইরে টেস্ট জেতাটা গুরুত্বপূর্ণ। ঘরের মাঠে টেস্ট জেতানোর মতো ক্রিকেটার আপনি সব সময়ই পাবেন। কিন্তু দেশের বাইরে ভালো খেলার মতো একটা দল গড়া গুরুত্বপূর্ণ। আমরা হয়তো একটা ভালো সিরিজ খেলেছি, এর মানে এই নয় যে আমরা অনেক বড় দল হয়ে গেছি। এখনো অনেক কাজ বাকি। ব্যাটসম্যানদের আরও ধারাবাহিক হতে হবে। আমরা এখনো এক সেশনে ৪-৫ উইকেট হারিয়ে বসি। তবে লক্ষণ এখন পর্যন্ত ভালো।

default-image

এ বছর দেশের বাইরে বেশ কিছু টেস্ট ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। সেগুলোতে মাউন্ট মঙ্গানুই ফেরানোর আশা কি করা যায়?

ডমিঙ্গো: সামনে আমরা দক্ষিণ আফ্রিকা, ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো দেশে সফর করব। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও টেস্ট আছে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরটি আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে আমাদের ফাস্ট বোলাররাও সেখানে সুবিধা পাবে। ওরা যদি উন্নতির ধারাবাহিকতাটা ধরে রাখে, সেখানে দারুণ কিছুই হতে পারে।

পেস বোলিং কোচ হিসেবে শেষ দুই বছরে সফল ছিলেন ওটিস গিবসন। তাঁর অনুপস্থিতি অনুভব করবেন?

ডমিঙ্গো: ওটিসের চলে যাওয়াটা আমাদের জন্য ক্ষতিকর হবে। সেই বোলিং বিভাগটাকে গড়ে দিয়েছে। পেসাররা এতে অনেক উপকৃত হয়েছে। তার মতো একজন কোচের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন।

বিসিবি ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে জেমি সিডন্সকে নিয়োগ দিয়েছে। তাঁর দায়িত্ব কী হবে, এ ব্যাপারে কি আপনাকে কিছু জানানো হয়েছে?

ডমিঙ্গো: জেমি সিডন্সের সঙ্গে আমার কথা হয়নি। তাঁর দায়িত্ব কী হবে, এ নিয়েও আমার সঙ্গে কারও কথা হয়নি। আমি সংবাদমাধ্যমে দেখেছি তাঁকে ব্যাটিং পরামর্শক হিসেবে আনা হচ্ছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত নই তিনি কোন দলের পরামর্শকের কাজ করবেন। সেটা কি জাতীয় দল নাকি হাই পারফরম্যান্স দল, এসব বিষয় হয়তো আমি কিছুদিনের মধ্যে জানতে পারব। কাজেই আমি এখনো নিশ্চিত নই তাঁকে আমরা কীভাবে পাব। তবে তাঁকে পেলে ভালোই হবে। তাঁর অভিজ্ঞতা নিশ্চয়ই আমাদের সাহায্য করবে।

default-image

শেষ প্রশ্ন, বাংলাদেশ দলের কোচ হিসেবে আপনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা রকম গুঞ্জন শোনা যায়। আসন্ন আফগানিস্তান সিরিজে থাকছেন তো?

ডমিঙ্গো: আমি এখন কিছুদিন পরিবারের সঙ্গে কাটানোর অপেক্ষায় আছি। গত বছর মনে হয় মাত্র পাঁচ সপ্তাহের মতো দেশে থাকতে পেরেছি। এরপর আফগানিস্তান সিরিজের আগে বাংলাদেশ দলের সঙ্গে যোগ দেব।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন