নিজে ৪ গোল করেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে সাফ যুব ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন করতে পারলেন না। একটু কি হতাশ?

মিরাজ: হতাশ তো লাগেই। চ্যাম্পিয়ন হতে পারলে ভালো লাগত।

ভারতের সঙ্গে ফাইনালে ৯০ মিনিট পর্যন্ত ২–২। অতিরিক্ত সময়ে কেন বিপর্যয়?

মিরাজ: আমরা অতিরিক্ত সময়ে নেমেই ৯ মিনিটে ৩ গোল খেয়ে গেলাম। গোল হয়ে গেছে, কী আর করা।

default-image

টুর্নামেন্টে আপনি মালদ্বীপের বিপক্ষেই শুধু পুরো ম্যাচ খেলেছেন। শ্রীলঙ্কা ও ভারতের সঙ্গে ফাইনালে নামেন বিরতির পর। তিন ম্যাচে ২০০ মিনিটের মতো খেলে দলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল আপনার। সব ম্যাচ খেলতে পারলে আরও বেশি গোল পেতেন?

মিরাজ: হ্যাঁ, সব ম্যাচ খেলতে পারলে হয়তো গোল আরও বাড়ত। তবে যা হয়েছে. সেটাও কম নয়।

বাফুফের এলিট একাডেমির হয়ে আপনি এবার পেশাদার লিগের দ্বিতীয় স্তর চ্যাম্পিয়নশিপে ১০ ম্যাচে ১১ গোল করেছেন। আন্তর্জাতিক ম্যাচেও গোল পেয়েছেন। গোল করা আসলে কতটা কঠিন বা সহজ?

মিরাজ: গোল করা সবখানেই কঠিন। ভারতে আমি গোল করতে পেরেছি সতীর্থরা সমর্থন দিয়েছে বলে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজেও যখন বলে পেয়েছি, আত্মবিশ্বাসী হয়েছি গোল করতে পারব।

default-image

তাহলে কি জাতীয় দলের বড় ভাইয়েরা আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভোগেন? কী মনে হয় আপনার?

মিরাজ: আমি কীভাবে বলব! বড় ভাইয়েরাই ভালো বলতে পারবেন তাঁদের কী সমস্যা হয়। তবে আমার মনে হয়, ওনাদের সময়টা ভালো যাচ্ছে না।

গোল করতে আসলে কোন গুণটা বেশি লাগে?

মিরাজ: ভালো পজিশনে থাকতে হয়, আর দরকার ভালো ফিনিশিং। পল স্মলি স্যার (বাফুফের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও এবারের সাফ অনূর্ধ্ব–২০ ফুটবলে বাংলাদেশের কোচ) এগুলো আমাকে বাফুফের এলিট একাডেমিতে শিখিয়েছেন। মাঠে সেভাবেই খেলার চেষ্টা করেছি।

জাতীয় দলে নাবিব নেওয়াজরা গোল পান না, কী মনে হয় আপনি সুযোগ পেলে গোল করতে পারবেন?

মিরাজ: আত্মবিশ্বাস আছে, পারব। স্বপ্নও দেখি জাতীয় দলে খেলার। তবে এখন ভাবছি সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ টুর্নামেন্ট নিয়ে। আগামী মাসে শ্রীলঙ্কায় এই টুর্নামেন্ট হবে। দলে থাকলে আমি খেলার সুযোগ পাব আশা করি।

সাফ যুব ফুটবলে ভারতের গুরকিরাত সিং সর্বোচ্চ ৮ গোল করেছেন। তাঁকে কেমন মনে হলো?

মিরাজ: খুবই ভালো স্ট্রাইকার। শুনেছি, এখন অনুশীলন করতে সে দুবাই যাচ্ছে। আসলে ওরা অনেক সুযোগ–সুবিধা পায়।

default-image

আপনারা কেমন পান সুযোগ–সুবিধা?

মিরাজ: বাফুফে আমাদের সাধ্যমতো সুযোগ–সুবিধা দেয়।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় পর্বে মোহামেডান আপনাকে ১০ লাখ টাকার চুক্তিতে নিয়েছিল। কিন্তু বদলি হিসেবে তিনটি ম্যাচে খেলেছেন অল্প কিছু সময়, গোলও পাননি। কী মনে হয়, ভবিষ্যতে শীর্ষ ফুটবলে সুযোগ পাবেন?

মিরাজ: আশা তো করি। তবে আমি এখন ফ্রি খেলোয়াড়।

আপনার গ্রামের বাড়ি তো ঝালকাঠির স্বরূপকাঠি উপজেলায়। পরিবারে কে কে আছেন?

মিরাজ: তিন ভাইয়ের মধ্যে আমি ছোট। মায়ের ক্যানসার, বাবাও অসুস্থ।

সাক্ষাৎকার থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন