স্পেনে যাওয়া এবং বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার গল্পটা জানতে চাই?
লিওনেল মেসি: আমার বয়স যখন ১৩, বাবা বার্সেলোনায় কাজ করতে যান। আমাদের এখানে তখন পরিস্থিতি ভালো ছিল না, তাই তিনি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে কয়েক মাস কাজ করার পর তিনি আমাকে ফোন করেন। তিনি সেখানকার এক ফুটবলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং আমার জন্য বার্সার ট্রায়ালের ব্যবস্থা করেন। আমি সুযোগ পাই, ১৫ দিনের ট্রায়ালের পর পরের সপ্তাহে তারা আমাকে ডেকে পাঠায় এবং জানায় যে আমাকে তারা দলে নিয়েছে।
এখানে (আর্জেন্টিনায়) কোথায় খেলতেন?
মেসি: ৬ বছর বয়স পর্যন্ত আমি গ্রান্দোলিতে খেলতাম। এরপর ৬ থেকে ১৩ বছর বয়স পর্যন্ত নিওয়েল’স ওল্ড বয়েজে খেলি।
‘চলে যাবেন’ জানানোর পর নিওয়েল’সে কোনো সমস্যা হয়েছিল? নাকি কিছুই জানাননি?
মেসি: চলে যাওয়ার সময় কিছু বলিনি, সরাসরি চলে গিয়েছিলাম। কিন্তু প্রথম ছয় মাসের পর আমি খেলতে পারিনি, কারণ, নিওয়েল’স আমার দলবদলের কাগজ পাঠাচ্ছিল না। আমাদের ফিফাতে যেতে হয়েছিল এবং তারা আমাদের কোনো সমস্যা নেই বলে আশস্ত করেছিল, তাদের মতে, একজন ১৬ বছর বয়সী খেলোয়াড়ের খেলা উচিত। তখন থেকেই আমার খেলার শুরু।
পরিবার ও আপনার জন্য ভালো ভবিষ্যতের সন্ধানে আপনার বাবা রোজারিও ছেড়েছিলেন?
মেসি: হ্যাঁ, তারাও সেটাই বলেছিল। যেহেতু আমার বাবা বার্সেলোনায় থাকতেন, তাই আমার তাঁর সঙ্গে থাকার অধিকার ছিল। সুতরাং কোনো সমস্যা হয়নি।
নিওয়েল’সে কি ভালো কোচ ছিল?
মেসি: হ্যাঁ, নিওয়েল’সে অনেক ভালো কোচ ছিল, সবাই খুব ভালো ছিল। সবার সঙ্গেই আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিল। বেশ কিছু বন্ধুকে সেখানে রেখে এসেছি। নিওয়েল’সে থাকাকালীন আমি খুব ভালো সময় কাটিয়েছি, তাই চলে যাওয়ার সময় খারাপ লেগেছিল।
বার্সেলোনার সবকিছু এত দ্রুত ঘটে গেল, অবাক লাগেনি?
মেসি: সবকিছুই দ্রুত ঘটেছে, ভাগ্যক্রমে সবকিছু ভালোভাবেই হয়েছে এবং আমি মানিয়েও নিয়েছি। এখন সবকিছু ভালোই চলছে।
দ্রুত কি মানিয়ে নিতে পেরেছেন? ব্যাপারটা কি সহজ?
মেসি: শুরুতে একটু কঠিন ছিল। ওখানকার (বার্সেলোনা) খেলা আরও দ্রুতগতির এবং বলে স্পর্শও হয় বেশি। আমার মনে হয়, মাত্র ১৪ বছর বয়স হওয়ায় দ্রুত মানিয়ে নিতে পেরেছিলাম।
নিওয়েল’সের বয়সভিত্তিক দলের অনুশীলনের সঙ্গে কি ওখানকার (বার্সেলোনা) পার্থক্য আছে?
মেসি: একদমই ভিন্ন। নিওয়েল’সে আমি বেলা ভিস্তায় যেতাম এবং অনুশীলনে শুধু দৌড়াতাম। পৌঁছেই দৌড়ানো শুরু করতাম। সপ্তাহে মাত্র একবার বল স্পর্শ করার সুযোগ পেতাম। বার্সেলোনায় সম্পূর্ণ উল্টো। প্রতিদিনই বল নিয়ে অনুশীলন। আমরা দৌড়াই না। শারীরিক প্রশিক্ষণও বলের সঙ্গেই হয়, সবকিছুই বল নিয়ে।
এটা কি বেশি আনন্দদায়ক?
মেসি: হ্যাঁ, এটা আরও বেশি আনন্দদায়ক, সময় দ্রুত কাটে এবং উদ্দীপনার সঙ্গে করা যায়।
বার্সেলোনার বয়সভিত্তিক দলে আপনার প্রথম ম্যাচটি কি মনে আছে?
মেসি: প্রথম ম্যাচটি বিদেশে খেলেছিলাম, সেটা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে এবং আমরা ২-০ গোলে জিতেছিলাম, আমি একটি গোল করি। বেশি কিছু মনে নেই, তবে গোল করার পাশাপাশি খুব ভালো খেলেছিলাম।
স্পেনে নতুন সতীর্থদের সঙ্গে কীভাবে মানিয়ে নিলেন?
মেসি: প্রথম দিকে একটু কঠিন ছিল; কারণ, তারা সবাই কাতালান ভাষায় কথা বলে। আমি তাদের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলতাম না। শুরুতে মানিয়ে নিতেও পারিনি, কিন্তু পরে তারা খুব ভালো আচরণ করে। আমার সঙ্গে কথা বলতে শুরু করে। সত্যি বলতে, তারা আমার সঙ্গে খুব ভালো আচরণ করেছে এবং তাদের জন্যই এখন আমি খুব ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পারছি।
আপনার গায়ে বার্সেলোনার জার্সি দেখে সবাই অবাক হয়নি? বিশেষ করে পর্তুগালে অভিষেকে?
মেসি: কেউ ভাবেনি যে এত অল্প বয়সে আমি মূল দলে খেলার সুযোগ পাব (১৬ নভেম্বর ২০০০, পোর্তোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ)। ব্যাপারটা একটু অদ্ভুত ছিল, কারণ এত দ্রুত অভিষেক হওয়া সাধারণ ঘটনা নয়। ওখানে (স্পেনে) ১৯ বা ২০ বছর বয়সে অভিষেক হয়, আর আমার বয়স ছিল ১৬। ব্যাপারটা চমক ছিল সবার জন্যই।