প্রথম আলো :
কিরগিজস্তানের মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে কাল (পরশু) বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় ১-০ গোলে জিতে এশিয়ার তৃতীয় সারির ক্লাব টুর্নামেন্ট এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে প্রথম খেলেই গ্রুপ পর্বে জায়গা পেয়েছে ঢাকার ফর্টিস এফসি। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে আপনি বলছিলেন, ফর্টিস নয়, দেশের জন্য খেলেছেন। কথাটা কি একটু ব্যাখ্যা করবেন?
মোহাম্মদ ইব্রাহিম: ওরা কিরগিজস্তানের দল, ফর্টিস বাংলাদেশের। ওই হিসাবেই চিন্তা করে বলছি যে এটা ন্যাশনাল টিমের ম্যাচ। এফসি কাপের ম্যাচে সব সময় আমরা দেশকে রিপ্রেজেন্ট করি। ওই জন্যই বলা, হ্যাঁ, মনে হয়েছে আমি জাতীয় দলের ম্যাচ খেলেছি।
আবাহনী থেকে এক মাসের জন্য ধারে ফর্টিসে এসেছেন আপনি। গতবার এই এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগেই সেমিফাইনালে খেলা কিরগিজ এই ক্লাবের কাছেই ঢাকায় ২-০ গোলে হারে আবাহনী। আপনিও আবাহনীর হয়ে খেলেছিলেন। সেই মুরাস আর মুরাসের মধ্যে কী পার্থক্য ছিল?
ইব্রাহিম: পার্থক্য বলতে, তখন আবাহনীর হয়ে আমরা এমন ম্যাচ খেলতে তৈরি ছিলাম না। মাত্র একজন বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে খেলেছি। আর এবার ফর্টিসে আটজন বিদেশি নিয়ে খেলছি। এটা একটা পার্থক্য গড়েছে। মুরাস গতবার যেমন খেলেছে, এবারও তা–ই। কিন্তু আমরা এবার বেশি বিদেশি পাওয়ায় জিততে পেরেছি।
প্রথম আলো :
ফর্টিসের সঙ্গে আপনার এক মাসের চুক্তির সময়টাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? গোলটা নিয়েই–বা কী বলবেন?
ইব্রাহিম: ফর্টিস খুব সুশৃঙ্খল দল। দলটাতে খেলে আমার ভালো লেগেছে। আর এই গোলটা আমার অনেক দরকার ছিল। কারণ, দলবদল চলছে, কিন্তু খেলোয়াড়দের বাজার খুবই খারাপ। কোন দলে যাব না যাব, এখনো ঠিক নেই। আবাহনী আমাদের রাখার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছে, বলেছে, তারা ফিফা ব্যান উইথড্র করে নেবে। কিন্তু এখনো ঝুলন্ত অবস্থায় আছি, ফাইনাল কিছু হয়নি।
প্রথম আলো :
২১ আগস্ট বসুন্ধরা কিংস–আবাহনী চ্যালেঞ্জ কাপ দিয়ে মৌসুম শুরুর কথা। আবাহনী ফিফা নিষেধাজ্ঞা তুলতে না পারলে তখন আপনার ক্যারিয়ারের কী হবে?
ইব্রাহিম: ওটাই তো চিন্তার। দেখা যাক কী হয়।
প্রথম আলো :
এখনো সবকিছু অনিশ্চিত। এ অবস্থায় মানসিক চাপটা সামলানো কতটা কঠিন? রাতে ঘুম হয়?
ইব্রাহিম: এ অবস্থা শুধু আমার একার নয়। পরিবারের লোকজনও বলছে, নতুন সিজনে কী করবা? কোনো উত্তর দিতে পারছি না। কালকেও (পরশু) ফর্টিসের হয়ে গোল করার পর আমার টেনশন ছিল—আমি কোথায় খেলব, কোন দলে যাব, কত টাকার চুক্তি হবে। তাই গোল করেও মনের মধ্যে সেই আনন্দটা ছিল না।
আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের ওপর ফিফার দলবদল নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশের ক্লাব ফুটবলকে কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে?
ইব্রাহিম: জবাই করার পর একটা মুরগি যেভাবে কিছুক্ষণ লাফায়, বাঁচতে চায়, ফুটবল সেভাবেই চলছে। আবাহনী-বসুন্ধরার এই অবস্থা হলে বাকি দলগুলোর অবস্থা বুঝে নিন। রেলিগেশনে যাওয়া টিমকে এখন প্রমোশন দিয়ে শীর্ষ লিগে খেলানো হচ্ছে। একটা জোড়াতালি দিয়ে চলার চেষ্টা হচ্ছে।
প্রথম আলো :
ঘরোয়া ফুটবলের অবস্থা করুণ, এ অবস্থায় জাতীয় দলের ২৩ বছর পর সাফ জেতার আশা করা কতটা বাস্তবসম্মত?
ইব্রাহিম: না, জাতীয় দলের ব্যাপারটা ভিন্ন। যেহেতু আমাদের হামজা, শমিত আছে, বাইরে থেকে প্লেয়ার আসছে। হামজা মাঠে থাকা মানে সবার মধ্যে একটা আত্মবিশ্বাস কাজ করে। ন্যাশনাল টিমের চেষ্টা ও স্বপ্ন সব সময় ভিন্ন।
প্রথম আলো :
এএফসি কাপে ফর্টিসের গ্রুপ পর্বের খেলায় থাকবেন দলটিতে?
ইব্রাহিম: এখনো জানি না। তবে ম্যাচগুলো ফর্টিসের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং হবে।
প্রথম আলো :
২০১৫ সালে ঢাকা স্টেডিয়ামে পেশাদার লিগে আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডানের হয়ে একমাত্র জয়সূচক গোল করে প্রথম আলোচনায় এসেছিলেন। মনে আছে?
ইব্রাহিম: হ্যাঁ, হ্যাঁ। ওই ম্যাচ থেকেই মানুষ আমাকে চেনা শুরু করে। কক্সবাজারের চকরিয়ার একটা তরুণের জন্য সেটা ছিল দারুণ যাত্রা। কিন্তু ক্যারিয়ারের এত বছর পর ঘরোয়া ফুটবলের আট দিন আগেও জানি না কোন দলে খেলব। এটাই সবচেয়ে বড় হতাশার।