সাক্ষাৎকারে নিগার সুলতানা

‘আমি বুঝি না দলে গ্রুপিং বলতে আসলে কী বোঝায়’

চার বছর ধরে ওয়ানডে ও টি–টুয়েন্টি, দুই সংস্করণেই বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা। কিন্তু এশিয়ান গেমসের আগে টি-টুয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিয়েছেন। সেটি যেমন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, নিগারকে নিয়ে সমালোচনা আছে আরও। প্রথম আলোকে দেওয়া দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে সেসব নিয়েই কথা বলেছেন তিনি—

প্রশ্ন:

অস্ট্রেলিয়ায় প্রথমবার দ্বিপক্ষীয় সিরিজে খেলতে যাচ্ছেন। তাদের বিপক্ষে পাঁচ ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশ এখনো কোনো জয় পায়নি। এবার প্রত্যাশা কী?

নিগার সুলতানা: আপনি যে প্রশ্নটা করলেন, এখানেই কিন্তু উত্তর আছে। অস্ট্রেলিয়া অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ। আগে কয়েকবার ভালো খেলেছি, কিন্তু সর্বশেষ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সেটা পারিনি। এবার ভিন্ন সংস্করণে খেলা। চ্যালেঞ্জ অনেক বেশি, যেহেতু ওদের কন্ডিশনে খেলা। আমরা ওভাবেই প্রস্তুতি নেওয়ার চেষ্টা করেছি। মানসিকভাবে যত বেশি ফিট থাকব, তত ভালো হবে আমাদের জন্য।

প্রশ্ন:

আপনার দলও তো কঠিন পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। এশিয়া কাপে ব্যর্থতার পর এশিয়ান গেমসেও প্রথমবার পদক ছাড়া ফিরছেন...

নিগার: যা হয়ে গেছে, তা তো গেছেই। এগুলো তো বদলানো যাবে না। কীভাবে পারফরম্যান্স ভালো করা যায়, অন্তত ওয়ানডে সংস্করণে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি, তা নিয়েই ভাবছি। এখানে যেহেতু একটু সময় নিয়ে ব্যাট করার সুযোগ থাকে, এটা ভালো দিক আমাদের জন্য।

প্রশ্ন:

এশিয়া কাপের ব্যর্থতাটা চোখে লাগার মতো। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর একবার ফাইনালও খেলতে পারেনি দল। এটার কারণ কী মনে হয়?

নিগার: যে সময় আমাদের ভালো ক্রিকেট খেলার কথা ছিল, আমরা তা পারিনি। এমন যদি হতো যে দু–একজন খারাপ খেলছে, বাকিরা সবাই ভালো খেলছে, তা–ও না। পুরো দলই ভেঙে পড়েছে। আমার মনে হয় কঠিন ম্যাচে স্নায়ু ধরে রেখে যে পারফর্ম করতে হয়, সেই সক্ষমতাটা আমাদের সবারই কম। না হলে কেন আমরা এভাবে সব বড় টুর্নামেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচগুলো হেরে যাই! অজুহাত দিলে অনেক কিছু দেওয়া যাবে। আমাদের দলের সক্ষমতা আছে, কিন্তু আমরা খেলতে পারছি না, দল হিসেবে ভালো করতে পারিনি।

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক নিগার সুলতানা
এসিসি
প্রশ্ন:

বড় টুর্নামেন্টে ভালো করতে না পেরেই কি টি–টুয়েন্টির অধিনায়কত্ব ছেড়ে দিলেন?

নিগার: নেতৃত্ব ছেড়েছি পুরোপুরি ব্যক্তিগত কারণে। আমি আমার দলকে ব্যাটার হিসেবে আরও অনেক কিছু দিতে পারি। কয়েক বছর ধরে আপনি দেখবেন যে আমি ব্যাটার হিসেবে ধারাবাহিক ছিলাম, কিন্তু বছরখানেক ধরে তা নেই। আমার মনে হয়েছে, দলের চাপ নিতে গিয়ে ব্যাটিংয়ে মনোযোগ কম দিচ্ছি। এ জন্যই এই সিদ্ধান্ত। চাপ ছাড়া যদি ব্যাট করতে পারি, তাহলে সেটা দলকেও সাহায্য করবে।

প্রশ্ন:

কিন্তু আপনি যে সময়ে অধিনায়কত্ব ছাড়লেন, সেটা একটু কৌতূহল তৈরি করছে। দুটি টুর্নামেন্টের মাঝখানে কেন এমন সিদ্ধান্ত নিতে হলো?

নিগার: আমি আমার ব্যাটিংটা নিয়ে একেবারেই খুশি ছিলাম না। মনে হচ্ছিল চাপের সময় ব্যাটিংটা মনমতো হচ্ছে না, দলেও এটার প্রভাব পড়ছে। সবকিছু মিলিয়ে আমার মনে হয়েছে যেহেতু দুটি সংস্করণে করেছি, একটির নেতৃত্ব থেকে সরে এলে নিজেকে আরও বেশি সময় দেওয়া হবে। অনেকে ভাবে জটিল চিন্তা করে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আসলে তা নয়।

প্রশ্ন:

আপনি বোর্ডকে কীভাবে জানালেন নিজের সিদ্ধান্তের কথা?

নিগার: একজন অধিনায়ক যখন পদত্যাগ করতে চায়, যেসব নিয়ম থাকে, আমি সবগুলোই মেনেছি। যা যা করা দরকার, সব মেনে এগিয়েছি। যাঁর যাঁর সঙ্গে পরামর্শ করা দরকার বা জানানো দরকার, জানিয়েছি। জানানোর পরে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ই–মেইল দিয়েছি। (সংশ্লিষ্ট) প্রত্যেক লোক আমার সিদ্ধান্তের কথা জানতেন। তাঁদের জানানোর পরই আমি মেইল করেছি। তাঁরাও সেটাকে সম্মান করেছেন।

প্রশ্ন:

বিসিবির নারী উইংয়ের প্রধান তো বলেছেন, তিনি জানতেন না...

নিগার: আগেও বলছি যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যেসব নিয়ম মানার দরকার ছিল, আমি সবকিছু করেই বিসিবিতে মেইল পাঠিয়েছি।

প্রশ্ন:

বোর্ড থেকে তো বলা হলো সিদ্ধান্তের কথা জানানোর ক্ষেত্রে আপনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেননি, সেই ভুল নাকি স্বীকারও করেছেন...

নিগার: এটা একদমই সঠিক কথা নয়। যদি আমি নিজে থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকি যে আমি অধিনায়কত্ব করব না, ভুল স্বীকার করার কী আছে? আমি তো কোনো ভুল করিনি। আমি অনেক চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্তটা নিয়েছি। আমার সিদ্ধান্ত আমি মনে করি আমার জন্য সঠিক—আগেও ছিল, এখনো আছে।

নিগার সুলতানা
শামসুল হক
প্রশ্ন:

দেশে ফেরার পর বোর্ড সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করেছেন। অধিনায়কত্ব নিয়ে সেখানে কী কথা হয়েছে?

নিগার: যে ১৬–১৭ জন ক্যাম্পে ছিলাম, সবাই বসেছি। আমি আসলে নিজেও জানি না বিষয়টা অন্যভাবে কেন প্রচার হলো। আমার সঙ্গে কেউ একা বসেননি। প্রেসিডেন্ট স্যার এসেছিলেন, আমাদের চেয়ারম্যান ছিলেন, ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন, আমাদের যে ইনচার্জ উনিও ছিলেন। অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে দলের সঙ্গেই বসা হয়েছিল। তামিম ভাই আমাদের সঙ্গে বসতে চেয়েছিলেন, অনুপ্রাণিত করেছেন। আমার সঙ্গে একা আসলে কোনো কথা হয়নি। আমার অধিনায়কত্ব নিয়েও কোনো ধরনের কথা হয়নি।

প্রশ্ন:

বোর্ড চাইলে কি অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন?

নিগার: না, আমি আমার সিদ্ধান্তে অনড় থাকব। আশা করি বোর্ড নতুন কাউকে খুঁজে নেবে, যে দায়িত্বটা নিতে পারে। অধিনায়ক হিসেবে সব সময় চিন্তা করেছি দলের জন্য কীভাবে পারফর্ম করতে পারি, এখনো একই চিন্তাভাবনা। শুধু পদবিটা এখন থাকবে না।

প্রশ্ন:

বাংলাদেশ নারী দলের অধিনায়কত্ব করা কতটা কঠিন?

নিগার: অধিনায়কত্ব করা সত্যিই কঠিন। সেটা বাংলাদেশেরই হোক অথবা বাইরের দলের হোক। বাংলাদেশে একটু বেশিই কঠিন। কারণ, আমরা মাঠের ভেতরের চেয়ে বাইরের বিষয় দিয়ে বেশি আলোচিত হই। যেকোনো সময় যে কেউ চাইলেই কোনো একটা মন্তব্য করল, সেটা সত্য হিসেবে মেনে নেয় সবাই। এ জন্য অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছি। এমনিতে আমি নিজেকে নিয়ে অনেক গর্বিত, দলকে নিয়েও। যারা ক্রিকেট বোঝে, তারা ভালোভাবেই জানে নারী ক্রিকেট কতটুকু এগিয়েছে গত কয়েক বছরে এবং আমাদের আরও কত দূর যাওয়া বাকি। এই দলের অনেক সম্ভাবনা আছে, কিন্তু সময় দিতে হবে। আমাদের স্বল্প সক্ষমতা নিয়ে সব সময় পরিকল্পনা করতে হয়। বাইরের দেশগুলোতে দেখবেন অনেক বেশি রিসোর্স থাকে এবং তারা ওখান থেকে খেলোয়াড় বেছে নেয়। আমাদের যেহেতু রিসোর্স কম, সেদিক থেকে কঠিন হয়ে যায়। আমাদের কোনো খেলোয়াড় ব্যর্থ হলেও তাকে বারবার সুযোগ দিতে হয়।

প্রশ্ন:

বাইরের আলোচনার কথা বললেন। এটা কি কোনোভাবে আপনার ওপর প্রভাব ফেলে?

নিগার: বাইরে কী বিষয় নিয়ে কথা হয়, সেটাতে আমি একদম কান দিতে চাই না, দিইও না। সেটা আমার নিয়ন্ত্রণে নেই। যেটা আছে, তা হলো মাঠের ভেতরের পারফরম্যান্স, আমি এটাকেই প্রাধান্য দিই। মহান আল্লাহ পাক ও আমার মা-বাবার কাছে যদি শুদ্ধ থাকি, তারা যদি আমার বিষয়ে জানে, এতটুকুই আমার কাছে যথেষ্ট। আমার কারও কাছে নিজেকে প্রমাণ করার কিছু নেই।

ব্যাটিংয়ে মনোযোগ বাড়াতে চান নিগার
আইসিসি
প্রশ্ন:

গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে যা কিছু ঘটেছে, তার একটা প্রভাব তো পড়ার কথা, নাকি?

নিগার: ব্যক্তিগতভাবে যদি লক্ষ্যবস্তু হই, তাহলে কঠিন। সব থেকে বড় কথা যখন আমি জাতীয় দলে খেলছি, আমাকে নিয়ে তখন কথা হলে পুরো দলের ওপরেই কিন্তু কথাগুলো আসে। এটার প্রভাব অবশ্যই পড়ে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে সবকিছু দূরে রেখে কীভাবে পারফর্ম করতে পারি। বাইরের বিষয় আসলে ক্রিকেটারদেরকে স্পর্শ করা উচিত নয়। ক্রিকেট মানসিক খেলাও, যত সতেজ থাকা যায়, তত ভালো। আমি সব সময় দলের সবাইকে একই কথা বলি যে আলোচনা–সমালোচনা থাকবেই। যখন আপনি আলোচিত হবেন, তার মানে হচ্ছে আপনি ভালো কিছু করছেন।

প্রশ্ন:

মেয়েদের ক্রিকেটে অনেক গ্রুপিংয়ের কথা শোনা যায়। সত্যিই কি গ্রুপিং আছে?

নিগার: আমি বুঝি না দলে গ্রুপিং বলতে আসলে কী বোঝায়। আমি কখনো আমাদের দলে গ্রুপিং দেখিনি। কিন্তু যখন আমরা একটা খাবার টেবিলে বসি, আমার একটা সমবয়সী সতীর্থ আছে বা আমার থেকে জুনিয়র একজন আছে বা আমার থেকে সিনিয়র কেউ আছে—দেখা যায় খাবার টেবিলে অনেক সময় দু–তিনজন বসে আড্ডা মারে। একটা দলে আলাদা চিন্তাভাবনার মানুষ থাকে। মাঠের ভেতরে আমরা সবাই এক। কিন্তু দেখা যাচ্ছে মাঠের বাইরে কেউ কারও সঙ্গে গল্প করতে পছন্দ করে। তারা যদি বসে গল্প করে, কোথাও একসঙ্গে ঘুরতে যেতে চায়, এটা হতেই পারে। এটা যদি গ্রুপিং হয় তাহলে আমি জানি না, কিন্তু আমি কখনো খেলার ভেতরে গ্রুপিং দেখতে পাইনি।

প্রশ্ন:

‘গ্রুপের’ সদস্য হতে না পারায় দল থেকে বাদ পড়ার অভিযোগও তো আছে। আপনিই নাকি তাদের বাদ দেন…

নিগার: আমার মনে হয় আমাকে টার্গেট করাটা সহজ। যেকোনো খেলোয়াড় যখন দল থেকে বাদ পড়ে, সে একটা কারণ খুঁজে বেড়ায় যে কেন আমি দল থেকে বাদ পড়েছি। এটা খুব সহজ বলা যে, ‘অধিনায়ক আমাকে বাদ দিয়েছে।’ কিন্তু যারা ক্রিকেট বোঝে, তারা জানে অধিনায়ক দল নির্বাচন করে না। এটা পুরোপুরি নির্বাচকদের কাজ। যখন আমি প্রথম অধিনায়কত্ব পাই, আমাকে কোনো ধরনের নির্বাচনেই রাখা হতো না। ২০২৩ সালে যখন আমরা অস্ট্রেলিয়া সিরিজ খেলি, তখন আমাদের নতুন নির্বাচক আসেন। উনি এসে আমাকে দল নির্বাচনে নেন। তা–ও আমি মূল নির্বাচক নই, অধিনায়ক হিসেবে একটা মতামত নিত শুধু। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলটা নির্বাচকেরাই করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিগার সুলতানা
শামসুল হক
প্রশ্ন:

গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার দল থেকে বাদ পড়েছেন এবং তাঁদের সবারই অভিযোগ আপনার বিরুদ্ধে। এটা কেন?

নিগার: একটা জিনিস আমি সব সময় বলতাম, আমি এটা নিয়ে লড়াইও করেছি, বোর্ডেও অনেকবার বলেছি যে কোনো খেলোয়াড় যখন দল থেকে বাদ পড়ে, তার এটা জানার অধিকার আছে সে কেন বাদ পড়ল বা কী করলে সে পরবর্তী সময়ে আবার দলে ফিরতে পারবে। যখন আপনি ২, ৪, ৫ ম্যাচ রান করবেন না বা ১০ ম্যাচ রান করবেন না, তখন আপনার জায়গায় অন্য কাউকে চিন্তা করা হবেই। আমরা কেউ এটা মানতে পারি না।

প্রশ্ন:

অধিনায়ক হিসেবে আপনি কি বাদ পড়াদের সঙ্গে কথা বলেছেন?

নিগার: কেউ আমার কাছে কখনো জানতে চায়নি, তাকে কেন বাদ দেওয়া হলো। আর আমার সঙ্গে আসলে কথা বলে তো লাভও নেই। তারা কথা বলবে নির্বাচকদের সঙ্গে। আমার কাজ হলো মাঠ চালানো।

প্রশ্ন:

আপনার মাঠ চালানো নিয়েও তো এখন অনেক অভিযোগ। আপনি নাকি ক্রিকেটারদের সঙ্গে বাজে ব্যবহার করেন…

নিগার: আমি যখন উইকেট কিপিং করি, তখন ওখানে একটা মাইক থাকে। যদি আমি কোনো ধরনের অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে থাকি, সেটা কিন্তু ওখানে আসে। এটা যারা বলে, পুরোপুরি ভুল। কঠিন একটা মুহূর্তে যদি কোনো কিছু হয়, সে ক্ষেত্রে রাগ করা বা একটু রাগ দেখানো খুব স্বাভাবিক বিষয়, সব অধিনায়কই করে। আমি জানি না কেন এটাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।

প্রশ্ন:

আপনার বিরুদ্ধে সতীর্থদের গায়ে হাত তোলার অভিযোগও কিন্তু আছে…

নিগার: প্রথমে যখন এটা শুনেছি, হাসি পেয়েছিল। এগুলো অযৌক্তিক কথাবার্তা ছাড়া আর কিছু না।

প্রশ্ন:

সাম্প্রতিক একটা ঘটনা খুব আলোচনায় এসেছে। আপনি ভারতের অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলাননি। হাত না মেলানোর কারণ কী?

নিগার: প্রতি ম্যাচেই ভারতের অধিনায়কের সঙ্গে হাত মিলিয়েছি। কিন্তু এখন নিউজ করার একটা প্রবণতা হয়ে গেছে, একটা কিছু পেলেই হয়তো নিউজ করতে ভালো লাগে। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেললাম, আমরা হাত মিলিয়েছি, এশিয়া কাপে ম্যাচ শেষে মিলিয়েছি, এশিয়ান গেমসেও। এখন প্রশ্ন হচ্ছে টসের পরে কেন হাত মেলাইনি? আমরা ক্যামেরার সামনে আসার আগেই কিন্তু দুই অধিনায়কের ম্যাচ রেফারির সঙ্গে টিমশিট বদল হয়, আমাদের মধ্যে তখন কথাও হয়। যখন আমরা টস করি দেখবেন যে পাশে একজন উপস্থাপক থাকেন, তারপর দুই অধিনায়ক এবং ম্যাচ রেফারি থাকেন। টস করার পরে আমাদের নিয়ম যেটা থাকে যে জেতে সে ম্যাচ রেফারিকে বলে সাক্ষাৎকারের জন্য চলে যায়। ওখানে এত কিছু থাকে না। শুধু ভারত নয়, বাকি যে দল সবাই দেখবেন এখন এতটা হাত মেলায় না, ম্যাচ শেষে হয়তো হয়। কিন্তু ভারত–পাকিস্তানের কিছু ইস্যু আছে, এ জন্য এখন এটাকে এভাবে দেখা হচ্ছে।