সাক্ষাৎকারে অর্পিতা পাল

‘ফুটবলের মতো নিয়মিত ক্যাম্প চাই’

২৩ থেকে ২৯ এপ্রিল ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় মেয়েদের এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্ব। এই প্রতিযোগিতা দিয়ে প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দল। আগামীকাল রাতে জাকার্তার বিমান ধরবেন মেয়েরা। ঐতিহাসিক এই সফর নিয়ে গতকাল বিকেএসপি থেকে মুঠোফোনে প্রথম আলোর সঙ্গে দলের প্রস্তুতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন অধিনায়ক অর্পিতা পাল

প্রথম আলো:

‎‎বাংলাদেশ জাতীয় নারী হকি দল প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সফরে যাচ্ছে। এই যাত্রাকে কীভাবে দেখছেন?

অর্পিতা পাল: এটি খুবই খুশির খবর, অনেক বড় আনন্দেরও। দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ দেওয়ার জন্য ফেডারেশনের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। এই সফরটা স্মরণীয় করে রাখতে চাই।

প্রথম আলো:

প্রতিপক্ষ দলগুলো সম্পর্কে ধারণা আছে?

অর্পিতা: সত্যি বলতে, অন্যান্য দেশের সিনিয়র দলগুলো সম্পর্কে আমাদের তেমন ধারণা নেই, যেহেতু সিনিয়র পর্যায়ে এই প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলতে যাচ্ছি আমরা। তবে প্রতিপক্ষ যে–ই হোক, আমরা সেরাটা দেওয়ার জন্যই প্রস্তুত আছি।

প্রথম আলো:

প্রস্তুতি কেমন হয়েছে? ‎

অর্পিতা: বিকেএসপিতে আমরা রাজু স্যারের (জাহিদ হোসেন) অধীনে খুব ভালো অনুশীলন করছি। যেহেতু আমাদের মেয়েদের কোনো প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলার মতো দল নেই, তাই আমাদের স্যার  বিকেএসপির ছেলেদের সঙ্গে প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলিয়েছেন, যাতে আমাদের পারফরম্যান্স আরও উন্নত হয়।

সিঙ্গাপুরে এএইচএফ কাপে হংকংয়ের সঙ্গে ম্যাচে অর্পিতা পাল, ২০২৪ সালের ১৬ জুনের ছবি
ছবি: সংগৃহীত
প্রথম আলো:

এমন প্রস্তুতি দিয়ে এশিয়ান গেমসের বাছাইপর্বে কতটা ভালো করা যাবে?

অর্পিতা: যেহেতু এটি আমাদের জাতীয় দলের প্রথম আন্তর্জাতিক সফর, তাই আমাদের প্রথম লক্ষ্য এশিয়ান গেমসে কোয়ালিফাই করা। আমরা সরাসরি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা চিন্তা না করে ম্যাচ বাই ম্যাচ এগোতে চাই। আগে কোয়ালিফাই (আট দলের চারটি যাবে) নিশ্চিত করে তারপর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা ভাবব।

প্রথম আলো:

প্রতিযোগিতায় আপনার ব্যক্তিগত কোনো লক্ষ্য আছে? ‎

অর্পিতা: দেখুন, আমার কাছে দলটাই আগে। আমি কেমন করলাম বা গোল পেলাম কি না, সেটি বড় নয়, আমার কাছে দলের জয়টাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমার গোলে যদি দল জেতে, দিন শেষে সেটাই আমার জন্য বড় পাওয়া। আপাতত একটাই লক্ষ্য, দলকে জেতানো।

প্রথম আলো:

শুরুতে আপনি অ্যাথলেটিকসে আগ্রহী ছিলেন, হকিতে আসাটা কীভাবে? ‎

অর্পিতা: হ্যাঁ, শুরুতে অ্যাথলেটিকসেই ঝোঁক ছিল। কিন্তু বিকেএসপিতে ভর্তি হওয়ার পর সেখানকার পরিবেশ এবং হকি খেলার প্রতি আগ্রহ বাড়তে থাকে। এখন এটাই আমার সবচেয়ে পছন্দের খেলা। বিকেএসপিই মূলত আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।

প্রথম আলো:

পরিবার থেকে কতটা সমর্থন পেয়েছেন?

অর্পিতা: আসলে আমার অতীতটা বেশ কঠিন ছিল। আমার পরিবারে আগে কেউ খেলোয়াড় ছিল না, তাই শুরুতে তাদের ধারণা বা সমর্থন পাওয়া সহজ ছিল না। দিনাজপুরের মতি ভাই (কোচ) আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন এবং বিকেএসপিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন। আজ যখন আমি জাতীয় দলের প্রথম অধিনায়ক, তখন মনে হয় আমার পরিবারের জন্য এবং দেশের জন্য বড় কিছু করার সুযোগ পেয়েছি।

প্রথম আলো:

ভবিষ্যতে এই নারী হকিকে কোথায় দেখতে চান?

অর্পিতা: বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দল যেমন সব সময় ক্যাম্পের মধ্যে থাকে, আমরাও চাই হকি ফেডারেশন আমাদের জন্য নিয়মিত ক্যাম্প ও টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা করবে। খেলা না থাকলে অনেক ভালো খেলোয়াড় ঝরে যায়। নিয়মিত লিগ ও টুর্নামেন্টের ব্যবস্থা করা হলে আমরাও ভালো করব। এত দিন ধরে ছেলেরা খেলছে, আমাদের দলটা মাত্র হলো। আমি বলব, সমান সুযোগ পেলে মেয়েরাও অনেক দূর যাবে। বিকেএসপি থেকে বের হওয়ার পর অনেক মেয়ে ঝরে পড়ে। কারণ, তাঁদের যাওয়ার মতো কোনো জায়গা থাকে না। সেনাবাহিনী বা বিমানবাহিনীর মতো দলগুলো যদি নারী হকি দল গঠন করে, তাহলে অনেক মেয়ের কর্মসংস্থান হবে এবং তারা খেলা চালিয়ে যেতে পারবে। হকিতে ছেলেরা ভালো করতে পারলে আমরাও পারব।

প্রথম আলো:

যাঁরা নতুন করে হকিতে আসতে চান, তাঁদের জন্য কিছু বলার আছে?

অর্পিতা: এতটুকুই বলব, নিজের চেষ্টা চালিয়ে যান, খেলার দিকে পুরোপুরি মনোযোগ রাখুন। এখন যেহেতু মেয়েদের একটা পথ তৈরি হয়েছে। ভালো পারফর্ম করলে দেশের জন্য আপনিও লড়তে পারবেন।

আরও পড়ুন