বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হলেন। তারপর এত মানুষকে আপনার জন্য অপেক্ষা করতে দেখে কেমন লাগছে?
লিওনেল মেসি: (মুখভর্তি চওড়া হাসি নিয়ে) এটা একটা এলাহি কাণ্ড! সত্যি বলতে, আমি খুব খুশি। সবচেয়ে বড় কথা, জয় দিয়ে ম্যাচটা শেষ করতে পেরেছি, এটাই সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের আসল লক্ষ্য ছিল, গ্রুপে প্রথম হওয়া নিশ্চিত করা। তাই ভালো লাগছে।
এই যে নতুন একটা রেকর্ড গড়লেন, এর অর্থ আপনার কাছে কী?
মেসি: কিছুই না, শুধু আনন্দ। আসল ব্যাপার হলো দল একটা ভীষণ কঠিন ম্যাচ জিতেছে। ওরা (অস্ট্রিয়া) শারীরিকভাবে বেশ শক্তিশালী ছিল। মাঝেমধ্যে খুব আক্রমণাত্মক খেলছিল। ওদের ওই তীব্রতার কারণে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছিল। ম্যাচটা এভাবেই খেলার দরকার ছিল এবং আমরা সফলভাবে তা করতে পেরেছি।
ব্রাজিলের রোনালদো কী বলেছেন দেখেছেন? তিনি নাকি ৩৮ বছর বয়সে ১২০ কেজি ওজনের হয়ে গিয়েছিলেন...
মেসি: একটু আগেই আমাকে একজন কথাটা বলছিল। সত্যি বলতে, ওঁর ক্যারিয়ারে একবার নয়, বেশ কয়েকবার মারাত্মক সব ইনজুরি হয়েছে। ঈশ্বরের কৃপায় আমি সব দিক থেকে বেশ ভাগ্যবান, তেমন কোনো বড় ইনজুরিতে পড়তে হয়নি, কখনো অস্ত্রোপচারের টেবিলেও যেতে হয়নি, এটা অনেক বড় একটা ব্যাপার। আর ওঁর ক্ষেত্রে পরিস্থিতিটাই তেমন ছিল।
এই বয়সেও আপনি কি নিজেকে এভাবে দেখার আশা করেছিলেন?
মেসি: জানি না। একটু আগে যা বললাম, সেটাই আবার বলছি, আমি আসলে নিজের বয়সের কথা ভেবে খেলি না; বরং শারীরিকভাবে কেমন বোধ করছি, সেটাই আমার কাছে আসল। আমি শারীরিকভাবে ভালো আছি, খুশি আছি এবং দলকে নিজের সেরাটা দিয়ে সাহায্য করতে চাই। বয়সের কথা চিন্তা না করে সব সময় নিজের শতভাগ উজাড় করে দেওয়ার চেষ্টা করি। নিশ্চিতভাবেই কোনো এক সময় শরীর ভেঙে পড়বে এবং বলবে ‘আর না’। তবে আপাতত আমি খেলাটা উপভোগ করছি, এটাই আমার সবচেয়ে প্রিয় কাজ এবং সব সময় সেরা ফর্মে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছি।
সামনেই আপনার জন্মদিন। যখন মোমবাতি নেভাবেন, তখন কী প্রার্থনা করবেন?
মেসি: সত্যি বলতে, আমার আর নতুন করে কিছুই চাওয়ার নেই। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। যেমনটা আমি আগেও অনেকবার বলেছি, এই জীবনে তিনি আমাকে সবকিছু দিয়েছেন। এখন শুধু নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং সব সময় যাঁরা আমার পাশে থেকেছেন, তাঁদের সবার জন্য সুস্থতা কামনা করি। একই সঙ্গে এ মুহূর্তগুলো যেন আরও উপভোগ করতে পারি এবং এই দলের সঙ্গী হয়ে থাকতে পারি। এই দলটা বহু বছর ধরে মানুষকে আনন্দ দিয়ে আসছে এবং প্রতিটি প্রতিযোগিতায় নিজেদের ছন্দ ধরে রেখেছে। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন, প্রতিটি ম্যাচেই তারা প্রথম ম্যাচের মতো লড়াই করে। আর সবচেয়ে বড় কথা, এই দলের সঙ্গে থাকতে পারার আনন্দটা আমার জন্য বিশেষ কিছু।
আপনি সব সময় বলতেন, ‘আমি জানি, ঈশ্বর আমাকে একটা বিশ্বকাপ দেবেন।’ তিনি তো আপনাকে দুটিও দিতে পারেন...
মেসি: সত্যি বলতে, সেটা চাইলে বোধহয় একটু বেশিই চাওয়া হয়ে যাবে। তিনি আমাকে যা দিয়েছেন, তা প্রয়োজনের চেয়েও অনেক বেশি। এখন আমার কাজ হলো মুহূর্তটা উপভোগ করা এবং আমরা সব সময় যেভাবে চেষ্টা করে এসেছি, সেভাবেই চেষ্টা করা। যেমনটা একটু আগেও বললাম, প্রতিপক্ষ দলটা কে, সেটা নিয়ে এই দল মাথা ঘামায় না, তারা প্রতি ম্যাচেই লড়াই করে। এবারও তারা লড়াই করবে, নিজেদের সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করবে। আমরা সব সময় যেভাবে ধাপে ধাপে এগিয়েছি, এবারও তাই করব—সামনের প্রতিপক্ষকে নিয়ে ভাবব, এর চেয়ে বেশি দূরে এখনই তাকাতে চাই না।