রোমে ইতালিয়ানদের ৫০ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে জোকোভিচের পাশে সিনার

৫০ বছর পর প্রথম ইতালিয়ান হিসেবে রোম মাস্টার্সের পুরুষ একক জিতেছেন ইয়ানিক সিনাররয়টার্স

রোম মাস্টার্স। গ্র্যান্ড স্লামের বাইরে টেনিসের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টটির পোশাকি নাম ইতালিয়ান ওপেন। সেই ইতালিয়ান ওপেনের পুরুষ এককটা ৫০ বছর ধরেই অধরা ছিল ইতালিয়ানদের। অবশেষে আজ পাঁচ দশকের সেই অপূর্ণতা দূর হলো ইয়ানিক সিনারে র‍্যাকেটে। আদ্রিয়ানো পানাত্তার পর প্রথম ইতালিয়ান হিসেবে রোম মাস্টার্সের পুরুষ এককে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন বিশ্বের এক নম্বর খেলোয়াড় সিনার।

ফোরো ইতালিকোর লাল মাটির কোর্টে রোববারের ফাইনালে নরওয়ের ক্যাসপার রুডকে সরাসরি ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়েছেন সিনার। এই জয়ের মধ্য দিয়ে নোভাক জোকোভিচের পর মাত্র দ্বিতীয় পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে অসাধারণ এক কীর্তিও গড়লেন তিনি। গ্র্যান্ড স্লামের বাইরে টেনিসের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ নয়টি ‘মাস্টার্স ১০০০’ টুর্নামেন্টের সব কটিই অন্তত একবার জিতে ‘গোল্ডেন মাস্টার্স’  পুরো করলেন সিনার।

এর আগে ২০১৮ সালে সিনসিনাটিতে ৩১ বছর বয়সে এই ‘ক্যারিয়ার সেট’ পূর্ণ করেছিলেন জোকোভিচ; পরে প্রতিটি টুর্নামেন্টই অন্তত দুবার করে জিতেছেন এই সার্বিয়ান কিংবদন্তি। সেখানে সিনারের বয়স মাত্র ২৪। আর ডান হাতের কবজির চোটে তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কার্লোস আলকারাজ বর্তমানে কোর্টের বাইরে থাকায়, সিনারকে থামানোর মতো কাউকেই যেন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

সিনারের আগে গোল্ডেন মাস্টার্স পুরো করেছেন শুধু নোভাক জোকোভিচ, সেটিও দুবার
এএফপি

রুডের বিপক্ষে জয়ে নিজের টানা ম্যাচ জয়ের রেকর্ডকে ২৯-এ নিয়ে গেলেন সিনার। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি কাতার ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালে ইয়াকুব মেনসিকের কাছে হেরেছিলেন; এরপর আর হারের মুখ দেখেননি এই ইতালিয়ান তারকা। আগামী রোববার থেকে শুরু হতে যাওয়া ফ্রেঞ্চ ওপেনের আগে চলতি বছর লাল মাটিতে তাঁর জয়ের পরিসংখ্যানটা এখন ১৭-০!

আরও পড়ুন

ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত সিনার বলেন, ‘অবিশ্বাস্য! দীর্ঘ ৫০ বছর পর কোনো ইতালিয়ান এই শিরোপা জিতল। ইতালিয়ান টেনিসের এই দুর্দান্ত সময়ের সুযোগ আমাদের কেউ একজন কাজে লাগাতে পেরেছে, এতেই আমি ভীষণ খুশি।’

সিনারের আগে সর্বশেষ ইতালিয়ান হিসেবে রোম মাস্টার্স জেতা আদ্রিয়ানো পানাত্তা ছিলেন সিনারের পাশে
রয়টার্স

অবশ্য শিরোপা জয়ের পর বরাবরের মতোই শান্ত ভঙ্গিতে উদ্‌যাপন করেছেন সিনার। প্রথম চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্টেই নিখুঁত এক ইনসাইড-আউট ফোরহ্যান্ডে বল লাইনে ফেলতেই তাঁর মুখে ফুটে ওঠে চওড়া হাসি। এরপর গ্যালারির করতালিমুখর দর্শকদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন তিনি। ভিআইপি গ্যালারির একদম প্রথম সারিতেই বসে এই ম্যাচ উপভোগ করছিলেন ১৯৭৬ সালের চ্যাম্পিয়ন খোদ পানাত্তা।

আরও পড়ুন