মাইকেল শুমাখারের মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তি: আসল ঘটনা কী
‘মাইকেল শুমাখার’ নামটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাল রঙের সেই ফেরারি গাড়ি। কানে বাজে তপ্ত পিচ চিরে তীব্র গতিতে ছুটে চলা ইঞ্জিনের গর্জন। শুধু ফর্মুলা ওয়ানের কিংবদন্তিই নন, তিনি হয়ে উঠেছিলেন খেলাধুলার জগতের বড় এক আইকন। সেই শুমাখার ফরাসি আল্পসে স্কি করতে গিয়ে মাথায় প্রচণ্ড চোট পেয়েছিলেন ২০১৩ সালে। এরপর এক যুগের বেশি সময় ধরে তিনি আসলে মৃত্যুর সঙ্গেই লড়ছেন, এই প্রায় পুরো সময়টাতেই তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে।
কিন্তু কয়েক দিন আগে হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়ে—‘মারা গেছেন মাইকেল শুমাখার’। মুহূর্তেই শোকের ছায়া ক্রীড়াবিশ্বে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘রেস্ট ইন পিস’ লিখে শোক প্রকাশ করতে শুরু করেন। সঙ্গে কেউ কেউ জুড়ে দিয়েছেন কিংবদন্তি ফর্মুলা ওয়ান তারকার ছবিও। কিন্তু পরক্ষণে শোনা যায় ঘটনা খানিকটা ভিন্ন। মারা গেছেন ঠিকই, তবে তিনি ফর্মুলা ওয়ানের শুমাখার নন; তিনি প্রখ্যাত মার্কিন লেখক ও সাংবাদিক মাইকেল শুমাখার!
কে এই লেখক মাইকেল শুমাখার
গত ২৯ ডিসেম্বর ৭৫ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে প্রখ্যাত লেখক ও সাংবাদিক মাইকেল শুমাখার মারা যান। তাঁর মেয়ে এমিলি জয় শুমাখার বাবার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি।
এই মাইকেল শুমাখার সাহিত্য ও সাংবাদিকতার জগতে এক শ্রদ্ধেয় নাম। বিশ্বখ্যাত সব ব্যক্তিত্বের জীবনী লিখে তিনি জয় করেছেন পাঠকদের মন। হলিউড পরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা থেকে শুরু করে সঙ্গীত কিংবদন্তি এরিক ক্ল্যাপটনের জীবনই তাঁর কলমে জীবন্ত হয়ে উঠেছে। এমনকি বাস্কেটবল তারকা জর্জ মিকানকে নিয়েও তিনি লিখেছেন দুর্দান্ত এক বই। কিন্তু তাঁর এই পরিচয় ছাপিয়ে মৃত্যুর খবরটিতে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে শুধু তাঁর নামের কারণে।
ফর্মুলা ওয়ান কিংবদন্তি সেই শুমাখার কেমন আছেন
লেখক শুমাখার চলে গেলেও ভক্তদের দীর্ঘশ্বাস আসলে সেই চিরচেনা ‘রেসিং কিং’–এর জন্য। সেই যে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ফরাসি আল্পসে স্কি করতে গিয়ে মাথায় চোট পেলেন, তার পর থেকে তিনি একেবারেই আড়ালে। ১২ বছর পেরিয়ে গেছে, কিন্তু বিশ্বের কোটি কোটি ভক্তের কাছে তিনি এখনো এক বিষণ্ণ অধ্যায়।
মাঝেমধ্যে শুমাখারের অবস্থার কিছু খবর আসে। স্ত্রী কোরিনা আর একদল চিকিৎসক দিনরাত তাঁকে ঘিরে থাকেন জেনেভা হ্রদের তীরের বাড়িতে। শোনা যায়, তিনি কথা বলতে পারেন না, চলাফেরার ক্ষমতাও প্রায় হারিয়েছেন। গত বছর একটি চ্যারিটির জন্য হেলমেটে স্বাক্ষর করতে তাঁর স্ত্রী তাঁকে সাহায্য করেছিলেন—এটুকুই খবরই পাওয়া গিয়েছিল। সাতবারের এই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে খুবই গোপনীয়তা রক্ষা করে চলেছে তাঁর পরিবার।