ভুটান ম্যাচে জেমির লড়াই এক ইংরেজের সঙ্গে

জেমি ডের আজ দুই প্রতিপক্ষ। একটি ভুটান। অপরটি ভুটানের ইংরেজ কোচ মরগান। ছবি: শামসুল হক
জেমি ডের আজ দুই প্রতিপক্ষ। একটি ভুটান। অপরটি ভুটানের ইংরেজ কোচ মরগান। ছবি: শামসুল হক
>

জেমি ডের লড়াইটা অন্য রকম। ভুটান প্রতিপক্ষ হলেও বাংলাদেশ কোচ লড়বেন তাঁর স্বদেশি কোচ মরগানের সঙ্গেও

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম দিন আজ ভুটানের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এই ম্যাচটি একদিক দিয়ে ভুটানের জন্য নিজেদের উন্নতির প্রমাণ রাখা, অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য ২০১৬ সালের হারের জবাব দেওয়ার মঞ্চও। কিন্তু এই লড়াইয়ের আড়ালে এটি দুই ইংরেজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইও। বাংলাদেশের ডাগ আউটে জেমি ডে। তাঁর পাশেই প্রতিপক্ষ ডাগ আউটে পাল্টা ছক নিয়ে তৈরি থাকবেন তাঁরই স্বদেশি ট্রেভর মরগান।

স্বাগতিক দলের কোচ হিসেবে জেমি সুবিধাজনক অবস্থানেই থাকার কথা। তবে নামে, ভারে, ব্যক্তিগত প্রোফাইলে ভুটান কোচ মরগান বাংলাদেশ কোচের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে। ৬১ বছর বয়সী মরগানের কাছে ৩৮ বছরের জেমি রীতিমতো ছাত্রতূল্যই। জেমি যেখানে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় দলের কোচ হয়েছেন, সেখানে মরগান ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের ‘বড় দাদা’। ভারতের ঐতিহ্যবাহী ইস্ট বেঙ্গলসহ ডেম্পো ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্লাব কেরালা ব্লাস্টার্সের সহকারী কোচ ছিলেন তিনি।

তবে দুই ইংরেজ কোচের মধ্যকার সম্পর্কটা যে বেশ ভালো, সেটি জানিয়েছেন জেমি নিজেই, ‘মরগানের সঙ্গে আমার অনেক আগে থেকেই পরিচয়। ইংল্যান্ডে আমাদের বেশ কয়েকবার সাক্ষাৎ হয়েছে। আর এখন হোটেল তো দেখা হচ্ছেই।’

সাধারণত ৫-৩-২ ফরমেশনে দল সাজিয়ে থাকেন মরগান। দুই উইংব্যাকই হয় তাঁর দলের মূল চালিকা শক্তি। এই কৌশলে দুই মেয়াদে প্রায় চার মৌসুমে ইস্ট বেঙ্গলকে ফেডারেশন কাপসহ জিতিয়েছেন একাধিক শিরোপা। তবে দুর্ভাগ্য তাঁর। আইলিগের শিরোপাটা পাননি। তারপরও ইস্ট বেঙ্গল সমর্থকদের কাছে তিনি সব সময়ই আস্থার প্রতীক।

তবে চলতি বছর মে মাসে ভুটানের দায়িত্ব নেন। তাঁর অধীনে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে মালদ্বীপ ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে দুটি ম্যাচেই ৭-০ গোলের বড় ব্যবধানে হারে ভুটান। এর পরপরই দলের খোলস পাল্টে ফেলার অভিযানে নেমেছেন মরগান। অভিজ্ঞদের ছাঁটাই করে তরুণদের নিয়ে কাজ করছেন তিনি। এবারের সাফে ভুটানি দলটা তারুণ্যনির্ভর। আজ তাঁর অধীনে ভুটানের একটা বড় পরীক্ষাই, ‘বাংলাদেশ অবশ্যই এ আসরের ফেবারিট। ম্যাচটি কঠিন হবে। তবে আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে হারিয়ে নকআউট পর্বের জন্য এগিয়ে যাওয়া।’

বাংলাদেশ কোচ জেমি অবশ্য ২০১৬ সালের সেই হারের কথা মাথাতেই আনতে চান না। এশিয়াড তাঁর অধীনে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলেছে বাংলাদেশ। সে আত্মবিশ্বাস নিয়েই বাংলাদেশ ইংরেজ কোচের কণ্ঠে নরম সুর, ‘আগের কী হয়েছে, তা নিয়ে ভাবছি না। আমার ভাবনা শুধু একটাই ভালো ম্যাচ উপহার দিয়ে ম্যাচ বাই ম্যাচ এগিয়ে যাওয়া। আমার দলের ফুটবলারদের ওপর কোনো চাপ নেই।’