
অনিক মাশফিকুর রহমান পুরকৌশল বিষয়ে পড়তে গত বছর পাড়ি জমান কানাডায়। এই অল্প সময়েই অচেনা ক্যাম্পাসকে মুখর করে তুলেছেন নিজের কর্মময় পদচারণায়। বিপুল ভোটে কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক ছাত্রদের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে কাজ করতে হচ্ছে ভিন্ন সংস্কৃতির সমন্বয়ক হিসেবেও। এ ব্যাপারে তাঁর ভাষ্য, নিজের দক্ষতাগুলোকে আবিষ্কার করার কিংবা ঝালাই করার যে সুযোগ এখানকার কার্যক্রমের মধ্যে পাওয়া যায়, তা সত্যিই নিজেকে একজন ভালো ছাত্র তো বটেই, প্রতিযোগিতামূলক যেকোনো ক্ষেত্রে একজন পরিপূর্ণ প্রতিযোগী হিসেবে গড়ে উঠতে সহায়ক।
এরপর অনিক শোনালেন তাঁর ছাত্র প্রতিনিধি হওয়ার গল্প, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা রকম কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার সখ্য গড়ে উঠতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের লিডারশিপ প্রোগ্রামের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে ১০০ স্বেচ্ছাসেবক ও ১৮টি সহকারীকে, যা আমাকে আরও বহির্মুখী করে তোলে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ইনস্ট্রাক্টররা খুব সহযোগিতা করেন, যেকোনো সমস্যার জন্য অনলাইন টিউটোরিয়াল থাকলেও তাঁরা নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে এমনকি স্কাইপ দিয়ে যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধান করে থাকেন। এমনটাই জানালেন ক্যাম্পাসে বাংলাদেশি ছাত্রদের উপদেষ্টার কাজে নিয়োজিত অনিক।
অনিক ইতিমধ্যেই আন্তবিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু প্রতিযোগিতায় নেতৃত্ব দিয়েছেন দলীয় প্রধান হিসেবে, জিতেছেন পুরস্কার। পরবর্তী প্রকল্পে ‘সহায়ক শিক্ষানবিশ’ হিসেবে কাজ করবেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় হাইড্রো ইলেকট্রিক প্ল্যান্টের প্রকৌশলী দলের সঙ্গে।
‘দেশ ছেড়ে আসার পর প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল পুরোনো সব অভ্যাস ছেড়ে থাকা। এখানকার খাবার ও পরিবেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেওয়াটাও সহজ কিছু ছিল না। তবে হলে থাকার কারণে আমি খুব দ্রুত দেশি-বিদেশি অনেক নতুন বন্ধু পেয়ে যাই। এখানকার বাঙালি কমিউনিটির সহযোগিতাও অনেক কাজে দেয়।’ ক্যাম্পাসে নিজের প্রথম দিনগুলোর অভিজ্ঞতা এভাবেই ব্যক্ত করলেন কানাডার নিউ ফাউন্ডল্যান্ডে অবস্থিত মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশি শিক্ষার্থী অনিক।
বিদেশে যেকোনো বাঙালি ছাত্রের শুরুটাকে তিনি দেখেছেন নতুন করে জন্ম নেওয়ার মতো। এখানে নিজের ভুল নিজেকেই খুঁজতে হয়, আবার তা শোধরানোর উপায়ও খুঁজতে হয় নিজেকেই।
প্রকৌশলী হিসেবে অনিক কাজ করতে চান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, এই লক্ষ্যেই রয়েছেন ‘ইঞ্জিনিয়ার্স উইথআউট বর্ডারস’ নামক সংস্থার সঙ্গে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি হতে চান। আরও চান, পৃথিবীর বড় বড় মঞ্চে তাঁর নামের সঙ্গে উচ্চারিত হোক একটি নাম—‘বাংলাদেশ’।
স্নাতক হওয়ার পর দেশে ফিরে সেসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চান দেশের উন্নয়ন ও উচ্চতর গবেষণায়। স্থাপনা ও নির্মাণশিল্পে উন্নত দেশগুলোর সমপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়েই দেশ থেকে হাজার মাইল দূরের অচেনা ক্যাম্পাসে অনিকের পথ চলা।