ইতিহাস ২য় পত্র

সৃজনশীল প্রশ্নোত্তরn

প্রিয় শিক্ষার্থী, আজ ইতিহাস ২য় পত্র থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।

# ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের কারণে উত্পন্ন পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে পাম অয়েল, কপার, রাবার, কোকা ও স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়। একই সঙ্গে শিল্প বিপ্লবের ফলে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি তাদের উত্পাদিত অতিরিক্ত পণ্যগুলোর বাজার খুঁজছিল। এসব কারণে আফ্রিকা মহাদেশ ইউরোপের কাছে একটি লোভনীয় স্থান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। তা ছাড়া ইউরোপে উচ্চমূল্যের শ্রমবাজার ইউরোপীয় ব্যবসায়ীদের মুনাফার হার কমিয়ে দিচ্ছিল বলে তারা নিজ নিজ সরকারপ্রধানদের আফ্রিকার দেশগুলোয় উপনিবেশ প্রতিষ্ঠার মন্ত্রণা দিচ্ছিল। নিজেদের স্বার্থের কারণে মিসর ও সুদানকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় ফ্রান্স ও ব্রিটেনের দ্বন্দ্ব এবং মরক্কোকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় জার্মানি ও ফ্রান্সের দ্বন্দ্ব। ইউরোপীয়রা আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোয় তাদের কিছু অনুসারী সৃষ্টি করে, যারা নিজ গোষ্ঠীর অন্যের চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে থাকত। সংখ্যালঘু ইউরোপিয়ানরা সংখ্যাগুরু আফ্রিকানদের ওপর নিজেদের প্রথা, বিশ্বাস, নিয়ম-নীতি চাপিয়ে দিয়েছিল।

প্রশ্ন:

ক. আন্তরিক আঁতাত চুক্তি কোন দেশগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?

খ. অস্ট্রো-হাঙ্গেরি এবং সার্বিয়ার মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধকে বিশ্বযুদ্ধ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা করো।

গ. প্রথম বিশ্বযুদ্ধের যে কারণটি উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে, তা ব্যাখ্যা করো।

ঘ. আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলোর ওপর ইউরোপিয়ান ঔপনিবেশিকতাবাদের ফলাফল এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফলের তুলনামূলক আলোচনা করো।

উত্তর: ক. ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স।

উত্তর: খ. অস্ট্রো-হাঙ্গেরি এবং সার্বিয়ার মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধকে বিশ্বযুদ্ধ বলা হয় কারণ এই যুদ্ধের বিস্তৃতি ছিল প্রায় বিশ্বব্যাপী। ১৯১৪ সালের ২৮ জুলাই অস্ট্রো-হাঙ্গেরি এবং সার্বিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। কয়েক দিনের মধ্যেই ইউরোপের প্রায় সব দেশই এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ এশিয়ার বেশ কিছু দেশেও এই যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্বব্যাপী যুদ্ধের এ রকম বিস্তৃতি আগে কখনো হয়নি বলে একে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বলা হয়।

উত্তর: গ. পুঁজির সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পুঁজিবাদী দেশগুলোর সাম্রাজ্যবাদী মনোভাবই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম কারণ। পুঁজি ও সাম্রাজ্য একে অন্যের পরিপূরক। পুঁজিবাদের উচ্চতর স্তর হলো সাম্রাজ্যবাদ। পুঁজির বিকাশ তথা অর্থনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য পুঁজিবাদী দেশগুলো তাদের রাজনীতিকে সাম্রাজ্যবাদী করে তোলে। যেমন ঊনবিংশ শতকে ব্রিটিশ পণ্য জার্মানির পণ্যের কাছে চ্যালেঞ্জস্বরূপ ছিল। আর এভাবে যখন প্রতিটি সাম্রাজ্যবাদী দেশই অন্য দেশের পণ্যেকে হটিয়ে নিজ পণ্যের বাজার সৃষ্টিতে আত্মনিয়োগ করে, তখনই সৃষ্টি হয় সংঘাত, সংঘর্ষ। ফলে রূপ নেয় ভয়াবহ যুদ্ধ। উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, পুঁজিবাদের সম্প্রসারণের ফলে শিল্পের বিকাশ ঘটে আর এসব শিল্পের কাঁচামালের প্রয়োজনীয়তা আবার উত্পাদিত পণ্যের বাজার সৃষ্টির জন্য ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো আফ্রিকার উপনিবেশ স্থাপনে উদ্যোগ গ্রহণ করে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিজেদের স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য সৃষ্টি হয় প্রতিযোগিতা। আর এ কারণেই মিসর ও সুদানকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় ফ্রান্স ও ব্রিটেনের দ্বন্দ্ব এবং মরক্কোকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় জার্মানি ও ফ্রান্সের দ্বন্দ্ব।

উত্তর: ঘ. উদ্দীপকের আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলোর ওপর ইউরোপিয়ান ঔপনিবেশিক শক্তি যে রকম প্রভাব বিস্তারের উল্লেখ রয়েছে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল অনুরূপ ছিল না। উদ্দীপকে দেখা যায়, আফ্রিকায় ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার পর ইউরোপিয়ান রাষ্ট্রগুলো আফ্রিকার ওপর নিজেদের নিয়ম-নীতি, প্রথা, বিশ্বাস এমনকি মূল্যবোধ চাপিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল। তাদের প্রভাবে আফ্রিকানরা তাদের নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিশ্বাস ভুলে গিয়ে ইউরোপীয়দের অন্ধ অনুকরণে মেতে উঠেছিল। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা সাধারণ মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ নিয়ে এলেও তাদের জাতীয়তাবাদী চিন্তাচেতনাকে নষ্ট করতে পারেনি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর একচেটিয়া মালিকদের রমরমা অবস্থা তৈরি করে। তবে এই যুদ্ধ মানুষকে ক্রমেই পুঁজিবাদী সমাজের অলীক স্বপ্ন থেকে মুক্ত হতে সুযোগ করে দেয়। রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কে হতাশার ব্যাপক প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে। এতে কেউ কেউ সমাজ সম্পর্কে গভীরভাবে বুঝতে শুরু করে। কেউ বা উগ্র জাতীয়তাবাদী ভাবধারায় নিজেদের বিলিয়ে দেয়।

সুতরাং এ কথা বলা যায় যে উদ্দীপকের আফ্রিকান রাষ্ট্রগুলোর ওপর ইউরোপিয়ান ঔপনিবেশিক শক্তির যে রকম প্রভাব বিস্তারের উল্লেখ রয়েছে, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ফলাফল অনুরূপ ছিল না।