
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ বাংলা ১ম পত্রের ‘অপরাহ্নের গল্প’ প্রবন্ধ থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।
# ইয়াসিন সাহেব যখন নয় বছরের তপুকে তুলে আনলেন, তখনো বোঝা যাচ্ছিল না সে বেঁচে আছে কি না। এ অবস্থায় তিনি ভাবছেন এই তো সেদিন ওর বাবা বিদেশ থেকে এল। বাবা যেদিন মারা গেল সেদিন তপুর জন্ম। এত দিন সে মায়ের আশ্রয়ে পূর্ণ নিরাপত্তায় ছিল। গেল মাসে ছেলেটির মাও মারা গেল। কত মানুষেরই তো মা-বাবা থাকে না। তাই বলে আত্মহত্যা। অনেক চেষ্টায় তপুর জ্ঞান ফিরলে জানা যায় তার রক্তে HIV পজিটিভ পাওয়া গেছে। তার মায়ের মৃত্যুর কারণও তাই। আপন ভাই-বোনেরা তাকে একঘরে করে দিয়েছে। কেউ তার সঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করে না। মেলামেশা করে না। এমনকি কথা পর্যন্ত বলে না।
ক. আবদুল মজিদ কোথায় কাজ করতেন?
খ. এ দেশে যৌনতাবিষয়ক ‘ট্যাবু’ বলার কারণ ব্যাখ্যা করো।
গ. তপুর HIV-তে আক্রান্ত হওয়ার কারণ ‘অপরাহ্নের গল্প’ অবলম্বনে ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘ইয়াসিন সাহেব তপুকে উদ্ধার করে HIV সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েছেন’ ‘অপরাহ্নের গল্প’ অবলম্বনে বিশ্লেষণ করো।
উত্তর: ক.
আবদুল মজিদ ইন্দোনেশিয়ায় কাজ করতেন।
উত্তর: খ.
ট্যাবু (Taboo) শব্দের অর্থ নিষিদ্ধ, অলঙ্ঘনীয়। আমাদের দেশে যৌনতা বিষয়কে একটা গোপন বিষয় বলে মনে করা হয়। মনে করা হয়, এটা যেহেতু গোপন বিষয়, অতএব এটা নিয়ে কোনো আলোচনা করা যাবে না। কিন্তু মানবজীবনে যৌনতা একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা মানুষের জানা প্রয়োজন। কিন্তু সেখানে এ বিষয়ে আলোচনা হয় না, শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই, সেখানে এটি গোপন ও অজানা বিষয় হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। আমাদের সন্তানেরা নানা ধরনের ভুল ধারণা নিয়ে যৌনতার প্রতি কৌতূহলী হয়ে অনিয়মতান্ত্রিক ও অনিরাপদ যৌনতার দিকে এগিয়ে যায়। সামাজিক ও রাষ্ট্রিক ব্যবস্থায় যৌনতার শিক্ষার ব্যবস্থা থাকলে এ বিষয়ে যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারলে যৌনতা কোনো নিষিদ্ধ বা অলঙ্ঘনীয় বিষয় হতো না। ট্যাবু বলার কারণ এখানেই নিহিত। যৌনতার একটি সঠিক ধারণা থাকা যেখানে আবশ্যক, সেখানে এটাকে একটি নিষিদ্ধ অপরাধের বিষয় মনে করা হয়।
উত্তর: গ.
HIV-তে আক্রান্ত হওয়ার কারণ এবং কীভাবে বিস্তার লাভ করে তা হুমায়ূন আহমেদ রচিত ‘অপরাহ্নের গল্পে’ আলোচিত হয়েছে।
AIDS-এর জন্য দায়ী HIV ভাইরাস। এটি কোনো ছোঁয়াচে রোগ নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির বীর্য, রক্ত ও মায়ের দুধ—এ তিনটির আদান-প্রদানে এ রোগ ছড়ায়। উল্লিখিত উদ্দীপকে তপুর HIV-তে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে এ কারণ বিদ্যমান। গল্পের লেখক এ বিষয়টি সুন্দরভাবে আলোচনা করেছেন।
জনপ্রিয় ও খ্যাতিমান লেখক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একটি অভিজ্ঞতার আলোকে রচিত ‘অপরাহ্নের গল্প’। তিনি AIDS-এর মতো একটি ঘাতক ব্যাধিকে প্রাণবন্ত করে তুলে ধরেছেন। ৯ বছরের ছোট শিশুর তো এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার কথা নয়। কিন্তু আমরা জানি যে আক্রান্ত মায়ের দুধ পানে সন্তানের দেহেও HIV ভাইরাসের বিস্তার ঘটে। জানা গেল তপুর মাও HIV-তে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মায়ের বুকের দুধ পান করায় তপুও HIV-তে আক্রান্ত হয়। যার পরিণতিতে মৃত্যু অনিবার্য হয়ে ওঠে। হুমায়ুন আহমেদের ‘অপরাহ্নের গল্প’-এ আবদুল মজিদ অনিরাপদ যৌনতার মাধ্যমে HIV ভাইরাসে আক্রান্ত হন। ধীরে ধীরে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এখানে যেমন কাজ করেছে অনিরাপদ যৌন মিলন আর তপুর ক্ষেত্রে মায়ের দুধ পানের ফলে সে HIV-তে আক্রান্ত হয়েছে।
উত্তর: ঘ.
HIV ভাইরাস স্বাভাবিক মেলামেশায় কোনো সমস্যা সৃষ্টি করে না। এটি ছোঁয়াচে রোগ নয় যে এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্বাভাবিক মেলামেশায় সংক্রমিত হবে। আবদুল মজিদের করুণ অবস্থার দিনগুলোতে তার সংস্পর্শে কেউ যায়নি এই ভেবে যে না-জানি তাদের এই রোগ হয়। তারা জানত না কীভাবে AIDS ছড়ায়। সাধারণ জীবনযাপনে মেলামেশায় এ রোগের কোনো প্রভাব পড়ে না।
উদ্দীপকের ইয়াসিন সাহেব তপুকে উদ্ধার করে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েছেন বিষয়টি ঠিক নয়। কাউকে উদ্ধার করার ফলে তো এই রোগ হয় না। উদ্ধার করতে গিয়ে নির্দিষ্ট তিন তরলের আদান-প্রদান ঘটেনি, তাই তার সংক্রমণের বিষয়টি অমূলক। আসলে AIDS সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে। অহেতুক ধারণা ও কুসংস্কারের বশবর্তী হয়ে এর প্রতি ঘৃণা বা অবহেলা করা উচিত নয়।
‘অপরাহ্নের গল্প’-এর আলোকে যে জ্ঞান ও ধারণা পাওয়া যায় তাতে উদ্দীপকের ইয়াসিন সাহেবের HIV সংক্রমণের ঝুঁকি নেই। তাই বলা যায়, ‘বাঁচতে হলে জানতে হবে’ এই স্লোগানটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
রূপনগর মডেল কলেজ, ঢাকা