ট্যাবলেট কথা

সব বয়সীদেরই পছন্দ এখন ট্যাবলেট কম্পিউটার।
সব বয়সীদেরই পছন্দ এখন ট্যাবলেট কম্পিউটার।

আকারে ছোট, সহজে বহনযোগ্যও। আর তাই ল্যাপটপ কম্পিউটারের পাশাপাশি হাতে এখন অনায়াসে জায়গা করে নিয়েছে ট্যাবলেট কম্পিউটার। শুধু কি তাই? ডেস্কটপ, ল্যাপটপের চেয়ে বাড়তি সুবিধা আর স্মার্টফোনের চেয়ে ভালো গতি ট্যাবলেট ব্যবহারে তরুণদের আগ্রহী করে তুলছে। ল্যাপটপের অনেক কাজই করা যায় ট্যাব বা প্যাড নামে পরিচিতি পাওয়া হাতের এই যন্ত্র দিয়ে।
তারহীন ওয়াই-ফাই সুবিধা থাকায় ইন্টারনেট যেমন ব্যবহার করা যায়, তেমনি কোনো কোনো ট্যাবলেটে সিমকার্ড যুক্ত করে সেরে নেওয়া যায় ফোনের কাজও।
আধুনিক জীবনযাত্রায় ট্যাবলেট অনেকেরই কাজে লাগছে। আবার এর নকশা ও আকারের কারণে ফ্যাশনেবল যন্ত্র হিসেবেও কদর বেড়েছে। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের ইলেক্ট্রো ভিশনের স্বত্বাধিকারী এনামুল হক চৌধুরী বলেন, কোন ট্যাবে কেমন সুবিধা, তা দেখে ক্রেতারা চাহিদা জানাচ্ছেন ট্যাবলেটের। ঝোঁক রয়েছে বড় পর্দার ট্যাবলেট কেনার দিকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হচ্ছে কাজের ধরন, প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই ট্যাব কেনা উচিত। বাজারে এখন নানা রকমের ট্যাব পাবেন। কিন্তু কিনবেন কোনটি? ট্যাব কেনার আগে কিছু হিসাব-নিকাশ করে নিলে সহজেই আপনার পছন্দসই ট্যাব কিনতে পারবেন। ট্যাবলেট বাজারে এখনো আইপ্যাডকেই অনেকে সেরা ট্যাব বলে মনে করেন। কিন্তু জনপ্রিয়তার বিচারে ২০১৩ সালেই আইপ্যাডকে টপকে গেছে অ্যান্ড্রয়েডনির্ভর ট্যাব। বাজারে এখন

.
.

উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমনির্ভর ট্যাবলেটও রয়েছে। কেনার আগে যা জেনে নিতে হবে—
* কোন অপারেটিং সিস্টেমের সঙ্গে বেশি পরিচিত এবং কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
* ট্যাবলেটটি কী কাজে ব্যবহার করা হবে।
* ব্যাটারি একবার চার্জ দিলে ট্যাবলেটটি কতক্ষণ চলবে।
* প্রসেসর ও র্যা মের ক্ষমতা কত—এ দুটির ওপরই নির্ভর করবে ট্যাবলেটে কাজ করার গতি।
* মেমোরি কত।
* পর্দার রেজ্যুলেশন কত।
* মুঠোফোনের থ্রিজি বা ফোরজি নেটওয়ার্ক সমর্থন করে কি না এবং
* ওয়াই-ফাই সুবিধা আছে কি না।
* মাল্টিটাস্কিং সুবিধা আছে কি না।
দেশের বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন নির্মাতার তৈরি ৭ থেকে ১২ ইঞ্চির নানা ধরনের ট্যাবলেট কম্পিউটার।
বাজারে অ্যান্ড্রয়েডনির্ভর স্যামসাংয়ের ট্যাবলেট কম্পিউটারের চাহিদা বেশি। ঈদ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানটির তিনটি ট্যাবলেট কম্পিউটার—ট্যাব থ্রি ভি, ট্যাব ফোর সেভেন, ট্যাব ই মডেলের যেকোনো একটি কিনলে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে। গ্যালাক্সি ট্যাব-ই মাল্টিটাস্কিং বা একাধিক কাজ একসঙ্গে করার জন্য ভালো এবং মাইক্রোএসডি কার্ড সমর্থন করে। এতে রয়েছে কিডস মোড যেখানে অ্যাপগুলো একটি শিশুবান্ধব জিইউআই-এ সহজভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া এই মোড শিশুদের তাদের উপযোগী বিষয়গুলো দিয়ে ট্যাব ব্যবহারে উৎসাহিত করবে। এ ছাড়া বাবা-মায়ের জন্য রয়েছে অ্যাকটিভিটি রিপোর্ট এবং প্লে টাইম লিমিটেশনের মতো নিয়ন্ত্রণমূলক বৈশিষ্ট্য। বাবা-মায়েরা একাধিক বাচ্চার জন্য আলাদা প্রোফাইল এবং অ্যাকাউন্ট করতে পারবেন।

ট্যাবলেট কম্পিউটারের বাজার স্যামসাং
গ্যালাক্সি ট্যাব থ্রিভি ১৩,৫০০ টাকা; ট্যাব ফোর ৭ ইঞ্চি ১৬,৫০০ টাকা; গ্যালাক্সি ট্যাব ই ২৩,৫০০ টাকা।

অ্যাপল
আইপ্যাড মিনি ১৬ গি.বা. ৪৬,০০০ টাকা; ৩২ গি.বা. ৫০,০০০ টাকা; ৬৪ গি.বা. ৬০,০০০ টাকা; আইপ্যাড টু ১৬ গি.বা. ৪৭,০০০ টাকা; ফোর ৮ গি.বা. ৩৯,০০০ টাকা; ৩২ গি.বা. ৫০,০০০ টাকা ও ৬৪ গি.বা. ৬০,৫০০ টাকা।

লেনোভো
এ৭-৫০ ৭ ইঞ্চি ৮ গি.বা. ১৭,৫০০ টাকা; ইয়োগা ৮ ২৭,৫০০ টাকা; এ৭-৩০ ৮ ইঞ্চি ১৪,৫০০ টাকা ও ইয়োগা ১০ ২৯,৫০০ টাকা।

আসুস
ট্রান্সফরমার টি-১০০ টিএম ১০.৫ ইঞ্চি ৩৭,০০০ টাকা।

মাইসেল
পি-৮ স্মার্ট ট্যাব ৭,৪৯০ টাকা।