নিজের আইপি ঠিকানা নিয়ে দুশ্চিন্তা?

সব ইন্টারনেট যোগাযোগব্যবস্থায় দরকার হয় ইন্টারনেট প্রটোকল বা আইপি ঠিকানার। আমরা যেসব ওয়েবসাইট পরিদর্শন করি, সেগুলো যদি আমাদের আইপি ঠিকানা দেখতে না পারে, তাহলে পেজ, ছবি বা ফাইল—এসব আমাদের কাছে পাঠানোর কোনো উপায় থাকবে না। একটি ওয়েবসাইট কত সহজে আমাদের আইপি ঠিকানা জানতে পারে তা দেখতে হলে www.whatismyipaddress.com ঠিকানায় যেতে পারেন অথবা গুগলে গিয়ে সার্চ বক্সে লিখতে পারেন what’s my ip address. এভাবে আইপি ঠিকানা জেনে নেওয়াটা নিজের টেলিফোন নম্বর বের করা থেকেও সহজ। দেখে যতটা মনে হচ্ছে, আসলে এতে ভয়ের কিছু নেই। কেউ যদি রাউটার ব্যবহার করেন, তাহলে ওয়েবসাইট শুধু সেই রাউটারের আইপি ঠিকানা দেখতে পারবে, নিজের কম্পিউটারের নয়।
এভাবে রাউটারের পেছনে থেকে ওয়েবসাইট দেখলে নিজের আইপি ঠিকানা আড়াল থাকায় খানিকটা স্বস্তি পাওয়া যেতেই পারে। এভাবে বিভিন্ন ম্যালওয়্যার আক্রমণ থেকেও বাঁচা যায়।
কিন্তু ওয়েবসাইটের অ্যাডমিনিস্ট্রেটর যদি আপনাকেই খুঁজে বের করতে চায় তাহলে? সে ক্ষেত্রে ওই রাউটার কোন ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের অধীনে আছে এবং তার সম্ভাব্য অবস্থান কী, তা বের করা যাবে।
পাশাপাশি আপনি অথবা ওই রাউটার যাঁরা ব্যবহার করেন, তাঁরা কতক্ষণ ওয়েবসাইটটিতে থাকেন, তাও দেখা যাবে। কিন্তু এসব তথ্য সব সময় একই রকম থাকবে বিষয়টা এমন নয়। তাই বলে নিজের আইপি ঠিকানা বারবার পরিবর্তন করাটাও অবশ্য স্থায়ী কোনো সমাধান নয়।
অধিকাংশ বাসাবাড়ির ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ডাইনামিক আইপি ঠিকানা ব্যবহার করেন, যা আইএসপি সময় সময় পরিবর্তন করে। আবার নিজের ল্যাপটপটিকে যদি কোনো কফি শপ, লাইব্রেরি বা অন্য কোনো ইন্টারনেট সংযোগের আওতায় নিয়ে যাই, তাহলে সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো আইপি ঠিকানা দেখা যাবে।
এর পরও যদি নিজের আইপি ঠিকানা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে, তাহলে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন সেবা ব্যবহার করতে পারেন। একবার এ ব্যবস্থাটি হয়ে গেলে ইন্টারনেট সংযোগ নিজের কম্পিউটার থেকে ভিপিএন সার্ভার পর্যন্ত নিরাপদ বা এনক্রিপ্টেড অবস্থায় যোগাযোগ করবে, তারপর সেখান থেকে আনএনক্রিপ্টেড হয়ে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছাবে। এখন যেসব ওয়েবসাইট পরিদর্শন করবেন, শুধু সেই ভিপিএন সার্ভারের আইপি ঠিকানা দেখতে পারবেন।
—মঈন চৌধুরী