
ঝালকাঠির এনএস কামিল মাদ্রাসা (নেছারাবাদ মাদ্রাসা) আলিম পরীক্ষায় এ বছর ১২১টি জিপিএ-৫ পেয়ে মাদ্রাসা বোর্ডে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এ মাদ্রাসা থেকে ১৬৫ জন ছাত্র আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। যাঁদের মধ্যে বিজ্ঞানে ৩৪ জন ছাত্রের মধ্যে ২৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। বাকি সবাই এ গ্রেডে পাস করেছেন। সাধারণ বিভাগে ১৩১ জন ছাত্রের মধ্যে ৯৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। বাকি সবাই এ গ্রেডে পাস করেন।শুধু উচ্চমাধ্যমিক সমমান নয়, এ মাদ্রাসায় অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে লেখাপড়ার সুযোগ রয়েছে। দাখিল-আলিমে বিজ্ঞান, কম্পিউটার, ফাজিলে দুটি বিষয়ে অনার্সসহ কামিলে হাদিস তাফসির ও ফিকহ বিভাগ চালু রয়েছে। প্রায় ১২ একর জমির ওপর গড়ে ওঠা মাদ্রাসা ক্যাম্পাস চার হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণে মুখরিত থাকে।কথা হয় এ বছর আলিম পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী (বিজ্ঞান) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মাদ্রাসায়ও যে এত সুন্দর বিজ্ঞান পড়ানো হয়, তা এখানে ভর্তি না হলে বুঝতাম না। আমি মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।’সাধারণ বিভাগে জিপিএ-৫ পাওয়া জাহিদুল ইসলাম বলেন, এখানে ভর্তি হওয়ার পর থেকে পড়াশোনার ব্যাপারে শিক্ষকেরা সার্বক্ষণিক নজর রাখেন। মাহামুদুল হাসান বলেন, নিয়মিত ক্লাস না করলে বা ক্লাস টেস্ট ও নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশ না নিলে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে অভিভাবকদের চিঠি দিয়ে জানানো হয়। যার কারণে পড়ালেখায় ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
আবুল বাসার বলেন, ‘আমার বাবা যখন আমাকে দাখিলে এনএস কামিল মাদ্রাসায় ভর্তির সিদ্ধান্ত জানান তখন খুব মন খারাপ হয়েছিল এই ভেবে যে সবাই আমাকে হুজুর বলবে। কিন্তু দাখিল ও আলিমে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পাওয়ার পর বুঝতে পেরেছি বাবার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।’
আরেক শিক্ষার্থী আবু সাঈদ বলেন, মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে যেমন কোনো রাজনীতি নেই, তেমনি এখানকার শিক্ষার্থীরা বাইরে কোনো রাজনীতি করে না। ক্যাম্পাস ও হোস্টেলের পরিবেশও মনোমুগ্ধকর।
প্রতিষ্ঠানের এ সাফল্যের কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান নেছারাবাদী বলেন, দলীয় রাজনীতিমুক্ত শিক্ষাঙ্গন, সেমিস্টার পদ্ধতিতে পরীক্ষা গ্রহণ, শিক্ষার্থীদের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় ক্লাস টেস্ট গ্রহণ, দুর্বল ছাত্রদের জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে বিশেষ ক্লাস, শিক্ষাসহায়ক কার্যক্রম, আবাসিক ছাত্রদের জন্য পরিদর্শক ও টিউটর শিক্ষকের ব্যবস্থা এবং অভিভাবক সম্মেলনসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগুলোয় এ মাদ্রাসা বরাবরই ভালো ফল অর্জন করে আসছে।
এ মাদ্রাসা থেকে ২০১২ সালে আলিম পরীক্ষায় ১৪১ জন অংশ নিয়ে ৯৫ জন জিপিএ পায়। একই বছর দাখিলে ২২০টি জিপিএ-৫ লাভ করে সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে। ২০১১ সালে দাখিলে ১৩০ জন ছাত্র জিপিএ-৫ লাভ করে মাদ্রাসা বোর্ডের ইতিহাসে ফলাফলে সর্ব শীর্ষে এবং আলিমে ৯৪ জন ছাত্র জিপিএ-৫ লাভ করে সেরা ১০ প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এ মাদ্রাসা।
নেছারাবাদ কমপ্লেক্স ট্রাস্টের সহকারী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন ‘মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাম্মদ খলিলুর রহমান নেছারাবাদী ১৯৯৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে গভর্নিং বডি, শিক্ষকমণ্ডলী ও অভিভাবকদের সহযোগিতায় মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেন; যার ফলে দেশে মাদ্রাসাশিক্ষার ক্ষেত্রে সেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর এক মাইলফলকে পরিণত হয় এই মাদ্রাসা।