
‘জানুক সবাই, দেখাও তুমি’ স্লোগানে স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো ‘জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা ২০১৫’। ঢাকা মহানগর, ঢাকা বিভাগ, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, চট্টগ্রাম ও বরিশাল—এই আটটি আঞ্চলিক পর্বের পর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় ২৯ মে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের উদ্যোগে ঢাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্ত পর্বের এ আয়োজনে ৯৯৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে আইসিটি কুইজে (জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি) ৮০৩ জন এবং প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় ছিল জুনিয়র (ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি) এবং সিনিয়র (দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি) বিভাগের ১৭০ জন।
প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় জুনিয়র বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মওদুদ হাসান এবং সিনিয়র বিভাগে চট্টগ্রামের আসিফ জাওয়াদ। এই দুই খুদে চ্যাম্পিয়ন প্রোগ্রামারকে নিয়ে এ প্রতিবেদন।
অনলাইনে চর্চা করে করে
‘শুরুতে কম্পিউটারে গেম খেলা আর সিনেমা দেখা ছাড়া কিছুই করতে পারতাম না। একদিন কম্পিউটারে গেম খেলছিলাম, বড় ভাই বুয়েটের ছাত্র মুস্তাফিজুর রহমান বললেন, “কী গেম খেলছ। তুমি গেম বানাবা, অন্যরা খেলবে।” ভাইয়া সি প্রোগ্রামিং ভাষার প্রাথমিক কিছু বিষয় শিখিয়ে দিলেন।’ এভাবেই শুরু হলো মওদুদের প্রোগ্রামিং চর্চা। এবারে হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় জুনিয়র বিভাগে শীর্ষস্থানটি দখল করে নিল।
খুলনার জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্টের পাশে গিলাতলা গ্রামে মওদুদ হাসানের বাড়ি। খুলনা ল্যাবরেটরি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়ছে। বাবা অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক মো. ইউসুফ আলী। নয় ভাইবোনের মধ্যে মওদুদ সবার ছোট।
প্রাথমিক বিষয় শেখার পর মওদুদ কম্পিউটার প্রোগ্রামিং চর্চা শুরু করল। সে বলে, ‘আমি এরপর ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা শুরু করলাম। কোনো সমস্যা হলেই ইন্টারনেটে খুঁজতাম। এরপর সি++ শিখি এবং কম্পিটিটিভ প্রোগ্রামিং করা শুরু করি। এর পাশাপাশি তামিম শাহরিয়ারের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বই আমাকে সাহায্য করত। কোডফোর্স নামের একটি ওয়েবসাইটে চর্চা করি, যেখানে নিয়মিত অনলাইন প্রতিযোগিতা হয়।

প্রোগ্রামিং আয়ত্তে আনতে ‘ইউভিএ’-এর সমস্যাগুলো বেশ কাজের বলে মনে করে মওদুদ। জানাল, ইন্টারনেটের গতি কম থাকায় প্রথমে বেশ সমস্যা হতো অনুশীলন চালাতে। প্রতিযোগিতা ঠিকমতো করতে পারতাম না। আবার রাতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সকালে স্কুলে যেতে পারতাম না। ফলে মাঝেমধ্যে স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যেত।
হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার পর আজ থেকে ঢাকায় একটি প্রোগ্রামিং ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। মওদুদ বলল, ‘এতে আমার মতো অনেকেই অংশ নিতে পারছে না। কারণ, এই সময়টা আমাদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছে। ক্যাম্পটি একটু পেছানো গেলে খুব ভালো হতো।’
নিজে নিজেই শিখেছে প্রোগ্রামিং
সবার যেমন শুরু হয়, চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র আসিফ জাওয়াদের প্রোগ্রামিং শুরু করার গল্পটাও তেমন। বাবা আবু জাফর সরকারি চাকরিজীবী। দুই ভাইবোনের মধ্যে আসিফ ছোট। ফেসবুকে মাধ্যমে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার খবর শুনে খুবই আগ্রহী হয়ে ওঠে আসিফ। এরপর তো সিনিয়র বিভাগের চ্যাম্পিয়ন।
অষ্টম শ্রেণি থেকে প্রোগ্রামিংয়ে আগ্রহ জাগে প্রোগ্রামার আসিফের। এরপর শুরু হয় প্রোগ্রামিং সমস্যা সমাধানের যুদ্ধ। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে সমস্যা সমাধান করতে শুরু করে। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ইনফরমেটিকস অলিম্পিয়াডে জুনিয়র বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বেশির ভাগ সময় আসিফ প্রোগ্রামিং নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ‘তবে পরীক্ষার সময়টা একটু দূরেই থাকি প্রোগ্রামিং থেকে।’ বলে আসিফ।
এবারের প্রতিযোগিতা নিয়ে আসিফ বলে, ‘প্রতিযোগিতার একটি সমস্যার সমাধান করতে খুব কষ্ট হয়েছে। কিন্তু সমস্যা সমাধানের পর মনে হলো কোনোটাই জটিল না। ডায়নামিক সমস্যাগুলো সমাধান করতে ভালো লাগে আমার। তবে তামিম শাহরিয়ারের কম্পিউটার প্রোগ্রামিং বইটি বেশ কাজে লেগেছে।’