খবর: পূর্ব সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজননকেন্দ্রে আবারও ১৯টি কুমিরের বাচ্চা মারা পড়েছে। আজ রোববার দুপুরে কুমিরের মৃত বাচ্চাগুলোর খণ্ডিত দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। বন বিভাগের দাবি, উদ্ধার হওয়া মৃত ১৯টি কুমিরের বাচ্চা কোনো হিংস্র মাংসাশী প্রাণীর আক্রমণে মারা পড়েছে। (সূত্র: প্রথম আলো, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)

এক দেশে ছিল গভীর আর বিশাল একটা বন। নাম তার বাদার বন। সাগরঘেঁষা সেই বনে ছিল হরেক রকমের গাছপালা, ডাঙায় অসংখ্য ডোরাকাটা বাঘ, হরিণ আর বানরের বিচরণ। আর বনের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা নদ-নদীর অথই পানিতে ছিল বড় বড় কুমিরের আবাস।
সেই বনে বাঘের দাপটে বড্ড অসহায় ছিল শিয়ালেরা। তবে শিয়ালদের ছিল ভীষণ বুদ্ধি। বুদ্ধির মারপ্যাঁচে একসময় বাঘেরা হলো ঘরছাড়া। শিয়ালদের নজর গেল কুমিরদের ওপর। একসময় দেখা গেল, কুমিরদের ডিম ফুটে বাচ্চা হচ্ছে। কিন্তু অজানা কারণে একের পর এক কুমিরছানা হয়ে যাচ্ছে গায়েব!
একদিন কুমিরদের রাজা ভাবলেন, ‘অনেক হয়েছে। এদিক-ওদিক ঘোরাঘুরি করলে বিপদ। মারা পড়তে হবে। কারণ, আমাদের মাংসও নাকি শিয়ালদের খুব পছন্দ। চামড়াও বেশ দামি। বাঘ মামাদের মতো আমাদের সংখ্যাও কমে যেতে দেরি নেই।’
তাই বাদার বনের কাছে নিরিবিলি এক জায়গা বেছে নিলেন কুমির রাজা। পুকুর আছে, চারপাশে আছে প্রাচীর। আক্রমণ সামাল দেওয়া যাবে। সে জন্য দুই রানি কুমিরকে নিয়ে রাজা গেলেন সেই সুরক্ষিত আবাসস্থলে। বছর দশেক বেশ সুখে ছিলেন কুমিরের রাজা আর দুই রানি। ডিম থেকে অনেক বাচ্চা হলো তাদের। প্রায় এক শ বাচ্চার বাবা-মা হলেন তারা।
তবে ধূর্ত শিয়ালদের নজর এড়ানোর সাধ্য কি কারও আছে! যে করেই হোক কুমিরছানা পেটে পুরতে হবে। বিক্রি করলেও ফায়দা হাসিল।
আবাসস্থলের পুকুরে কুমির বেড়ে গেছে জানার পর ছটফট করে ওঠে শিয়ালদের মনপ্রাণ। দল বেঁধে শিয়াল পণ্ডিতের কাছে ছুটে যায় বাকিরা। শিয়াল পণ্ডিতের কাছে একজন আবদার করে, ‘কুমির খাব।’ কেউবা বায়না ধরে, ‘কুমিরছানা বিক্রি করব।’ কিন্তু শিয়াল পণ্ডিত বেশ সাবধানী। হিসাব কষে চশমার ফাঁক দিয়ে চোখ রাঙিয়ে বললেন, ‘হুহ্, কুমির ধরার কোনো প্ল্যান নাই আর এনারা স্বপ্ন দেখছেন কুমির খাবেন আবার বিক্রিও করবেন! আগে কুমির শিকারের চিন্তা করো, বুদ্ধুর দল।’
শিয়ালরা নিশ্চুপ। আসলেই তো, উপায় কী? গলা উঁচিয়ে শিয়াল পণ্ডিত বললেন, ‘আমরা নিজেরাই কুমিরছানা ধরব। তবে মেছো বাঘও সঙ্গে যাবে।’
এ কথা বলে মেছো বাঘকে খবর দিতে বললেন শিয়াল পণ্ডিত। মেছো বাঘ এল। শিয়াল পণ্ডিত বললেন, ‘তুমি তো হরিণও মারতে পারো না। আবার কুমিরের জ্বালায় মাছও ধরতে পারো না। এক কাজ করো, ওই যে পুকুরে গিয়ে দেখো, কয়টা কুমির আছে। তোমার কাজ কুমিরের সংখ্যা গোনা। তবে আমি না বলার আগে তুমি যাবে না।’ এদিকে মেছো বাঘ যাওয়ার আগেই একে একে গোটা পঞ্চাশেক কুমিরছানা হাপিশ করে দিল শিয়ালের দল। কুমির রাজা তো রাগে-দুঃখে অস্থির! ঘটনা বুঝতে পেরে শিয়ালদের ধরার উপায় খুঁজতে লাগলেন তিনি। আর ঠিক সে সময় মেছো বাঘটাকে পুকুরের ওদিকটায় পাঠালেন শিয়াল পণ্ডিত। তিনি ভালো করেই জানেন, কুমিরেরা তাড়া করলে প্রাচীর ডিঙিয়ে মেছো বাঘ লাফ দিতে পারবে না। তাই বন্দুক নিয়ে শিয়ালের দল বসে রইল চুপিচুপি।
পুকুরের কাছে গিয়ে কুমিরছানা গুনতে শুরু করল বোকা মেছো বাঘটা। ঠিক তখনই শিয়াল পণ্ডিত ছুড়লেন গুলি—বুম! এক গুলিতেই ফুটো হয়ে গেল মেছো বাঘের পেট।
শিয়াল পণ্ডিত চোখে পানি ছিটিয়ে মেছো বাঘের মরদেহ নিয়ে গেলেন কুমির রাজার কাছে। গিয়ে বললেন, ‘মহারাজা, এই দেখুন, মেছোর কাণ্ড। এই বদমাশই আপনার ছানাদের খেয়েছে। এখন আর কী করা যাবে, যে কটা কুমিরছানা বেঁচে আছে, ওদের আমার হাতে তুলে দিন। আমরা ওদের দেখেশুনে রাখব।’
কুমির রাজা আর কী করেন! অনেক ভেবে দেখলেন, ঠিকই তো, এই পরিস্থিতিতে বাচ্চাদের নিরাপত্তার জন্য শিয়ালরাই উপযুক্ত। তাই মাথা তুলে বললেন, ‘ঠিক আছে, শিয়াল পণ্ডিত, আমার ছানাদের দেখভাল এখন থেকে তুমিই করবে।’
বি.দ্র.: ওপরের খবরটির সঙ্গে এই গল্পের কোনো সম্পর্ক নেই।