স্মার্টফোন-টিভিতে আসছে নিরাপদ স্ক্রিন

দিন দিন স্মার্টফোন, ট্যাব, টিভি বা পিসির পর্দা থেকে চোখ সরানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এসব যন্ত্র থেকে বের হওয়া নীল আলো চোখের রেটিনার ক্ষতি ও রাতের ঘুম নষ্ট করছে বলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই উদ্বেগের বিষয়টিকে এখন সুযোগ বলে মনে করছে বড় বড় প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো। তাঁদের সর্বশেষ পণ্যগুলোকে ‘নিরাপদ পর্দা’ যুক্ত বলে ঘোষণা দিচ্ছে। গতকাল এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জার্মানির বার্লিনে অনুষ্ঠিত আইএফএ ইলেকট্রনিকস শোতে নেদারল্যান্ডসের প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ফিলিপস কম্পিউটার স্ক্রিনের জন্য নতুন পর্দা আনার ঘোষণা দিয়েছে। তাঁর বলছে, ‘সফটব্লু’ নামের এই পর্দা নিরাপদ কারণ এটি রেটিনার কোনো ক্ষতি করে না।
ফিলিপসের বিপণন ব্যবস্থাপক স্টেফান সমার বলেন, ‘এখন আমরা ক্ষতিকর নীল আলোর বদলে ৪৫০ থেকে ৪৬০ ন্যানোমিটারের কম তরঙ্গের আলোর দিকে সরে এসেছি।’
বাজারে আসুস, বেনকিউ, ভিউসনিকের মতো ব্র্যান্ডগুলো তাদের পণ্যের বিক্রি বাড়াতে ‘নিরাপদ স্ক্রিন’ ব্যবহারের ঘোষণা দিয়েছে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান আইএএচএস গ্লোবাল ইনসাইটের বিশ্লেষক পল গ্রে বলেন, ‘বেশিক্ষণ টিভি স্ক্রিনের সামনে থাকলে চোখ নষ্ট হয়ে যাবে, ছোটবেলা থেকে মা-বাবার কাছে এটা শুনে আসছি। নিরাপদ স্ক্রিন গ্রাহকদের এ সমস্যা থেকে মুক্তি দেবে।’
কম শক্তি খরচে বেশি ঘনত্বের আলো উৎপন্ন করে বলে স্মার্টফোনম টিভি ও পিসিতে লাইট এমিটিং ডায়োড বা এলইডি স্ক্রিন অধিক ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু এই স্ক্রিন থেকে নীল রশ্মি বেশি নির্গত হচ্ছে বলে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
অবশ্য গবেষকেরা দাবি করছেন, দীর্ঘ তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলো অতিবেগুনি রশ্মির মতো চোখের জন্য ক্ষতিকর। তবে সূর্যরশ্মির মতো অতটা প্রখর নয়। প্যারিসের ইনস্টিটিউট অব সাইটের বিশেষজ্ঞ সার্জ পিকাউড এ দাবি করেন।
ফ্রান্সের চক্ষুবিশেষজ্ঞ ভিনসেন্ট গুয়ালিনো বলেন, স্ক্রিন নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আসল সমস্যা হচ্ছে, স্ক্রিনের দিকে অধিক সময় চেয়ে থাকার বিষয়টি। স্ক্রিনের দিকে ছয় ঘণ্টার বেশি তাকিয়ে না থাকার পরামর্শ দেন তিনি। যাঁদের বেশিক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয় তাঁদের বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী চশমা পরার পরামর্শ দেন তিনি। শিশুদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এই বিশেষজ্ঞ।