
সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর
প্রিয় শিক্ষার্থীরা, আজ বাংলা ১ম পত্রের ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতা থেকে একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর দেওয়া হলো।
এখানে ঘুঘুর ডাকে অপরাহ্নে শান্তি আসে মানুষের মনে
এখানে সবুজ শাখা আঁকাবাঁকা হলুদ পাখিরে রাখে ঢেকে
জামের আড়ালে সেই বউ কথা কওটিরে যদি ফেল দেখে
একবার,—একবার দু’প্রহর অপরাহ্নে যদি এই ঘুঘুর গুঞ্জনে
ধরা দাও,—তাহলে অনন্তকাল থাকিতে যে হবে এই বনে;
ক. ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতার উৎস কী?
খ. ‘হূদয় ছুঁয়ে-যাওয়া সিক্ত নীলাম্বরী’ বলতে কী বোঝানো হযেছে?
গ. কবিতাংশ ও ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতায় শান্তির উৎসের পার্থক্য—ব্যাখ্যা করো।
ঘ. প্রকৃতির রূপময়তায় সাদৃশ্য থাকলেও কবিতাংশটির সঙ্গে ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতার ব্যক্তিগত অনুভবের পার্থক্য বিদ্যমান—মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।
উত্তর: ক. ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতাটি কবির একক সন্ধ্যায় বসন্ত কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।
উত্তর: খ. নায়িকার সিক্ত নীল শাড়ি নায়কের মনে যে গভীর অনুরাগের জন্ম দেয়, হূদয় ছুঁয়ে যাওয়া সিক্ত নীলাম্বরী বলতে তা-ই বোঝানো হয়েছে। এ চিত্রকল্পে মধ্যযুগের বাংলা কবিতার প্রসঙ্গ এসেছে। বৈষ্ণব কবিতায় বর্ষা রাতে রাধার বিরহের যে ছবি পাওয়া যায়, তাতে দেখা যায়, বর্ষাকে উপেক্ষা করে বিরহ-বিহ্বল রাধা নীল শাড়ি পরে রাতের অন্ধকারে অভিসারে যেতেন। নায়িকার সিক্ত নীল শাড়ি নায়কের মনে যে গভীর অনুরাগের জন্ম দিয়ে এসেছে, পূর্ব বাংলার নীলাভ শ্যামল প্রাকৃতিক পরিবেষ্টন তেমনি কবির অন্তর ছুঁয়ে যায়। চিত্রকল্পটিতে কবির হূদয়াবেগ ও রূপমুগ্ধতা প্রকাশিত হয়েছে।
উত্তর: গ. ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতা ও উদ্দীপকের কবিতাংশের প্রকৃতির মধ্যে যে শান্তির উৎসের সন্ধান করা হয়েছে, তাতে যথেষ্ট পার্থক্য আছে। কবিতাংশে অপরাহ্নের ঘুঘুর ডাকের মধ্যে মানুষ বিশ্রামের শান্তি খুঁজে পেয়েছে। ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতায় কবির অনুভবে বিষণ্নতার মধ্যেও একধরনের প্রশান্তির আভাস রয়েছে; কবির ভাষায় যাকে বলা হয়েছে ‘বিমুগ্ধ বেদনার শান্তি’।
‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতায় বাংলাদেশের রূপবৈচিত্র্য কবির অনুভূতিতে বহুমাত্রিকতা ও বৈচিত্র্য নিয়ে উপস্থিত হয়েছে এবং সেগুলো তার অফুরন্ত আনন্দের উৎস। নায়িকার সিক্ত নীল শাাড়ি নায়কের মনে যে গভীর অনুরাগের জন্ম দিয়ে আসছে, পূর্ব বাংলার নীলাভ শ্যামল প্রাকৃতিক পরিবেষ্টন তেমনি কবির অন্তর ছুঁয়ে যায়। বিষণ্নতার মধ্যেও কবি একধরনের প্রশান্তির আভাস পেয়েছেন। এখানে সন্ধ্যা-প্রকৃতিকে শান্তির উৎস হিসেবে পাওয়া যায়। কিন্তু পূর্ব বাংলার সবকিছুই কবির চোখে সীমাহীন আনন্দ ও শান্তির উৎস হিসেবে ধরা পড়েছে। কাজেই উভয় ক্ষেত্রে প্রকৃতির উৎস থাকা সত্ত্বেও শান্তির উৎসে যথেষ্ট পার্থক্য বিদ্যমান।
উত্তর: ঘ. উদ্ধৃত কবিতাংশটির সঙ্গে ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতার কবির ব্যক্তিগত অনুভবের পার্থক্য আছে।
কবিতাংশ ও ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতায় চিত্রিত প্রকৃতির রূপময়তায় সাদৃশ্য রয়েছে। উদ্ধৃত কবিতাংশে সন্ধ্যা-প্রকৃতির রূপময় চিত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতায় প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য বহুমাত্রিকতা নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। বাংলাদেশের সন্ধ্যা-প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য অঙ্কিত হয়েছে। অপরাহ্নের ঘুঘুর ডাকে এখানকার মানুষ শান্তি পায়। দিনের কর্ম-কোলাহলের শেষে সন্ধ্যালগ্নে প্রকৃতিতে যে অনির্বচনীয় সৌন্দর্যের বিস্তার ঘটে, তা মনে অপূর্ব ভাব জাগায়। ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতায় বাংলাদেশের রূপবৈচিত্র্য কবির ব্যক্তিগত অনুভূতিতে বহুমাত্রিকতা ও বৈচিত্র্য নিয়ে উপস্থিত হয়েছে এবং সেগুলো তার অফুরন্ত আনন্দের উৎস।
‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতায় কবির ভাব প্রকাশ পেয়েছে একান্ত ও অন্তরঙ্গ ইন্দ্রিয়ানুভূতির তীব্রতা। অন্ধকারের তমালগুচ্ছ যে অনুপম কোমল মাধুর্যের দ্যোতনা দেয়, পূর্ব বাংলার শ্যামল, শান্ত ও কোমল পরিবেশ যেন ঠিক তেমনি। পাতায় ছাওয়া লতায় ঘেরা গৃহ যেমন অনুপম আবাস, সবুজ-শ্যামল পূর্ব বাংলাকেও কবি তেমনই মনে করেন। কবির স্বদেশচেতনা, সৌন্দর্যপ্রীতি, ব্যক্তিগত অনুভব, শিকড়-সন্ধানী চেতনা এ কবিতার উপমা, রূপক ও চিত্রকল্পের সুনিপুণ বিন্যাসে এক অখণ্ড ভবমূর্তিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির বিষণ্নতার মধ্যেও কবি একধরনের প্রশান্তির আভাস পেয়েছেন। বর্ষাস্নাত পূর্ব বাংলার নীলাভ শ্যামল প্রকৃতি যেন মূর্তমতী নারীরূপী পূর্ব বাংলার দেহ ঘিরে থাকা নীল শাড়ি। স্বদেশের রূপলাবণ্য ও বৈচিত্র্যে কবি অভিভূত। কিন্তু উদ্ধৃত কবিতাংশে প্রকৃতির রূপময় চিত্র পাওয়া গেলেও ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতার ব্যক্তিগত অনুভবের মিল নেই। উদ্ধৃতাংশে সন্ধ্যায় ঘুঘুর ডাকে মানুষের মনে শান্তি এসেছে। ‘আমার পূর্ব বাংলা’ কবিতায় বাংলাদেশের প্রকৃতির প্রতিটি উপকরণের মধ্যে কবি নির্মল শান্তি ও অফুরন্ত আনন্দের সন্ধান পেয়েছেন।
প্রভাষক, রূপনগর মডেল কলেজ, ঢাকা