২০১৪ সালের এসএসসি পরীক্ষা: বিশেষ প্রস্তুতি-১২

মাসুক হেলাল
মাসুক হেলাল

সৃজনশীল প্রশ্ন  অংশ-২
প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী, শুভেচ্ছা রইলো। আজ বাংলা ১ম পত্রের ‘ছুটি’ গল্পের ওপর একটি সৃজনশীল প্রশ্নোত্তর আলোচনা করব।
ছুটি
# সেই সুদূর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে এ দেশে ব্যবসা করতে এসেছিল আলখেল্লা পরা, দাড়ি-গোঁফওয়ালা, উঁচা-লম্বা কাবুলিওয়ালারা। তাদের বেশভুষা দেখেই যেকোনো ছেলেমেয়ে ভয়ে দৌড়ে পালাত। ব্যতিক্রম কেবল মিনি। বৃদ্ধ এক কাবুলিওয়ালার সঙ্গে ছোট্ট এই মেয়েটির ভীষণ ভাব। বাবা-মার বকুনি, নিষেধাজ্ঞা, ভয়ভীতি কোনো কিছুই মিনিকে কাবুলিওয়ালা থেকে দূরে রাখতে পারেনি। কাবুলিওয়ালাও নিজের ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা ভুলে গিয়ে মিনির সঙ্গে দেখা করত, ওর জন্য আখরোট, পেস্তাবাদাম নিয়ে আসত। মিনিও অধীর আগ্রহে কাবুলিওয়ালার জন্য অপেক্ষা করত। একদিন জানা গেল, আফগানিস্তানে মিনির মতো কাবুলিওয়ালারও একটা মেয়ে আছে।
ক. মামির স্নেহহীন চোখে ফটিক কিসের মতো প্রতিভাত হতো?
খ. ১৩-১৪ বছরের ছেলেমেয়েদের ‘বালাই’ বলার কারণ কী?
গ. উদ্দীপকের মিনি আর ‘ছুটি’ গল্পের ফটিক কোন দিক থেকে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো
ঘ. ‘ফটিকের মামি যদি কাবুলিওয়ালার মতো হতো, তাহলেই ফটিকের করুণ পরিণতি রোধ করা যেত’ বলে তুমি মনে করো? যুক্তি দাও
১ (ক) নং প্রশ্নের উত্তর: মামির স্নেহহীন চোখে ফটিক দুর্গ্রহের মতো প্রতিভাত হতো।
১ (খ) নং প্রশ্নের উত্তর: ১৩-১৪ বছরের ছেলেমেয়েদের ‘বালাই’ বলা হয়েছে, কারণ শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের জন্য অনেকেই এ বয়সী ছেলেমেয়েকে অকল্যাণ বা আপদ-বিপদ মনে করে।
‘ছুটি’ গল্পে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৩-১৪ বছরের ছেলেমেয়েদের বালাই বলে উল্লেখ করেছেন। কেননা, এ সময় তারা বয়ঃসন্ধিকালে প্রবেশ করে। অর্থাৎ তাদের মধ্যে হঠাৎ এক ধরনের শারীরিক পরিবর্তন আসে। তারা শৈশব রেখে যৌবনে প্রবেশ করার মাঝপথে থাকে। কণ্ঠস্বরের মিষ্টতা দূর হয়ে যায়, কাপড়-চোপড়ের পরিমাণ লক্ষ না করেই হঠাৎ করে বেড়ে ওঠে। চেহারার মিষ্টতাও দূর হয়ে যায়। তাদের মুখে মুখে আধো আধো কথা ন্যাকামি, বড় কথা জ্যাঠামি মনে হয়। তাছাড়া আর এদের কথামাত্রই প্রগলভতা অর্থাৎ অসংকোচে, নির্লজ্জভাবে, স্পষ্ট ভাষায় এরা কথা বলে। তাই এসব কারণে অনেকেই এদের অকল্যাণ বা আপদ-বিপদ মনে করে। তাই লেখক ১৩-১৪ বছরের ছেলেমেয়েদের ‘বালাই’ বলেছেন।

১ (গ) নং প্রশ্নের উত্তর: উদ্দীপকের মিনি এবং ‘ছুটি’ গল্পের ফটিক স্নেহ-ভালোবাসার দিক থেকে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
‘ছুটি’ গল্পে গ্রাম্য পরিবেশে বেড়ে ওঠা মুক্ত বিহঙ্গের মতো স্বচ্ছন্দবিহারী ফটিক পড়াশোনার জন্য শহরে আসে। কিন্তু আত্মকেন্দ্রিক মামি নিজের তিন ছেলে ও স্বামী-সংসারের মধ্যে ফটিকের আগমন ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। স্নেহকাতর ফটিক সামান্য স্নেহের জন্য মামি কোনো কাজ করতে বললে সে তার চেয়ে বেশি বেশি করত। কিন্তু মামি তাতেও সন্তুষ্ট হতো না বরং ফটিকের প্রতি ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করত। বই হারানোর পর মামির কাছে বই কিনে চাইলে মামির কটাক্ষে সে বুঝতে পারে—সে পরের পয়সা নষ্ট করছে। আর তখনই সে নিজের হীনতা ও দীনতার কারণে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ফটিক জ্বরে আক্রান্ত হলে মামিকে বাড়তি কোনো জ্বালাতন করতে চায়নি। তাই তো সে পালিয়ে মায়ের কাছে গ্রামে রওনা দেয়।
উদ্দীপকের মিনি কাবুলিওয়ালাকে দেখে অন্যদের মতো ভয় পায় না। বরং তার জন্য অপেক্ষা করে থাকে। কারণ, সে কাবুলিওয়ালার কাছ থেকে স্নেহ-ভালোবাসা পেয়েছে। যদিও মিনি বাবা-মার কাছে থেকেও স্নেহ-ভালোবাসা পায়, কিন্তু তবুও সে কাবুলিওয়ালার জন্য অপেক্ষা করে।
অর্থাৎ উদ্দীপকের মিনির সঙ্গে ফটিকের স্নেহকাতরতার দিকটি বৈসাদৃশ্যপূর্ণ।
১ (ঘ) নং প্রশ্নের উত্তর: ‘ফটিকের মামি যদি কাবুলিওয়ালার মতো হতো, তবেই ফটিকের করুণ পরিণতি রোধ করা যেত’ বলে আমি মনে করি। কেননা মামির স্নেহ-ভালোবাসা পেলে অন্য প্রতিকূলতাগুলো দূর হয়ে যেত।
‘ছুটি’ গল্পে দেখা যায়, ফটিক চক্রবর্তী ১৩-১৪ বছরের এক বালক। সে খুব স্নেহকাতর। মায়ের কাছ থেকে দূরে মামির কাছে চলে আসে সে। মামি ফটিককে দেখতেই পারত না, সব সময় তাকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করত। মামির লাঞ্ছনার জন্য এবং মামাতো ভাইদের ভালোবাসার অভাবে পৃথিবীটা তার কাছে নিরর্থক বলে মনে হতো। ফলে করুণ পরিণতি হিসেবে স্নেহের অভাবে সে মৃত্যুবরণ করে।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মিনি বাবা-মার কাছে ভালোবাসা, স্নেহ, আদর পায়। কিন্তু তবুও সে কাবুলিওয়ালার জন্য অপেক্ষা করে। তার সঙ্গে দেখা করে। কাবুলিওয়ালাও মিনিকে খুবই স্নেহ করত। কেননা, মিনিকে সে নিজের মেয়ের মতোই দেখত।
অন্যদিকে ফটিক তার মামির কাছে দুর্গ্রহের মতো প্রতিভাত হতো। তাই মামির স্নেহ-ভালোবাসার অভাবে ফটিক একসময় মৃত্যুবরণ করে। ফটিকের মামি যদি কাবুলিওয়ালা হতো, তবে সে ফটিককে নিজের ছেলের মতো করে দেখত। ফলে ফটিকের স্নেহ-ভালোবাসার কোনো অভাব হতো না। মামি ফটিককে স্নেহ করলে মামাতো ভাইয়েরা ফটিকের সঙ্গে শোভন আচরণ করবে, এটা সহজেই অনুমেয়। আর এসব ঘটনা যদি ঘটত, তাহলে ফটিক ক্লাসে অমনোযোগীও হতো না এবং শিক্ষকের হাতে মারও খেত না এবং বাড়িতে মায়ের কাছে যাওয়ার এত আকুলতাও ফটিকের মধ্যে দেখা দিত না। অতএব বলা যায়, ‘যদি ফটিকের মামি কাবুলিওয়ালার মতো হতো, তাহলেই ফটিকের করুণ পরিণতি রোধ করা যেত’ বলে আমি মনে করি।

সিনিয়র শিক্ষক, সেন্ট গ্রেগরী হাইস্কুল, ঢাকা