বিশ্ববাজারে স্মার্টফোনসহ ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের দাম বাড়তে পারে যে কারণে
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ স্মার্ট টিভির মতো দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত ডিজিটাল যন্ত্রের দাম এ বছর বাড়তে পারে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে র্যাম বা র্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের পর থেকে র্যামের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।
র্যাম এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা স্মার্টফোন ও কম্পিউটার ছাড়াও স্মার্ট টিভি এবং বিভিন্ন চিকিৎসা যন্ত্রে ব্যবহৃত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সেবা পরিচালনায় ব্যবহৃত ডেটা সেন্টারের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। এসব ডেটা সেন্টারে বিপুল পরিমাণ র্যাম প্রয়োজন হয়। ফলে হঠাৎ করেই র্যামের চাহিদা বেড়েছে। তবে সেই তুলনায় সরবরাহ বাড়েনি। এতে বাজারে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে দামে। সাধারণ পরিস্থিতিতে উৎপাদন ব্যয় সামান্য বাড়লে নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তা নিজেরাই সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে ব্যয় যখন বড় অঙ্কে বেড়ে যায়, তখন সেই চাপ পণ্যের দামের মাধ্যমে ভোক্তাদের ওপর পড়তে বাধ্য হয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে র্যামের মূল্যবৃদ্ধি সেই পর্যায়েই পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কম্পিউটার ও প্রযুক্তিপণ্যের বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান সাইবারপাওয়ারপিসির মহাব্যবস্থাপক স্টিভ মেসন জানিয়েছেন, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে র্যামের দাম কয়েক গুণ পর্যন্ত বেড়েছে। যেসব পণ্যে মেমোরি বা স্টোরেজ ব্যবহৃত হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রেই দাম বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একটি সময় আসবে, যখন এই বাড়তি উপাদান মূল্য নির্মাতাদের পণ্যের দাম পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।
কম্পিউটার ও ল্যাপটপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পিসি স্পেশালিস্টের প্রতিনিধি ড্যানি উইলিয়ামস জানিয়েছেন, র্যামের দাম বাড়ার এই ধারা বছরজুড়েই অব্যাহত থাকতে পারে। সব র্যাম উৎপাদনকারীর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি এক রকম নয়। যেসব প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলনামূলক বেশি মজুত রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে দাম বেড়েছে দেড় থেকে দুই গুণের মধ্যে। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানের মজুত কম, তারা দাম বাড়িয়েছে কয়েক গুণ পর্যন্ত।
চিপ ওয়ার বইয়ের লেখক ও প্রযুক্তি বিশ্লেষক ক্রিস মিলারের মতে, র্যামের চাহিদা বাড়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি। এআই পরিচালনায় প্রয়োজনীয় উচ্চগতির র্যামের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে সব ধরনের র্যামের দামে।
টেক ইনসাইটসের বিশ্লেষক মাইক হাওয়ার্ড জানিয়েছেন, ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য বড় ক্লাউড সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের র্যামের চাহিদা চূড়ান্ত করেছে। এতে র্যাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে অ্যামাজন, গুগলসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পিত চাহিদা পূরণের মতো সরবরাহ বাজারে নেই। চাহিদা স্পষ্ট হওয়া এবং সরবরাহ সীমিত থাকার কারণে উৎপাদনকারীরা ধাপে ধাপে দাম বাড়াচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে দাম এত দ্রুত বেড়েছে যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে নতুন দাম ঘোষণা বন্ধ রেখেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভবিষ্যতে আরও মূল্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি