বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ারে নজর কেড়েছে সৌরবিদ্যুতে চলা সান কার ও সেচ পাম্প

নভোথিয়েটারে চলছে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার। ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে এ আয়োজনছবি: প্রথম আলো

রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে চলছে তিন দিনের বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার। আজ শনিবার সকালে এ মেলার উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হওয়া এ মেলায় নিজেদের তৈরি নানা ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ প্রদর্শন করছে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি বিশ্ববিদ্যালয়সহ উদ্ভাবক ও গবেষকেরা। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ মেলায় প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশসহ বিভিন্ন উদ্ভাবন ও ধারণা প্রদর্শন করা হচ্ছে, যার মধ্যে সৌরবিদ্যুতে চলা যাত্রীবাহী গাড়ি ‘সান কার’ ও “সোলার সেচ” পাম্প নিয়ে দর্শনার্থীদের মধ্যে বেশ আগ্রহ দেখা গেছে।

সৌরবিদ্যুতে চলা চার চাকার ‘সান কার’ প্রদর্শন করছে ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ। বাহনটি চলার সময়ই সূর্যের আলো থেকে ব্যাটারি চার্জ করতে পারে
ছবি: প্রথম আলো

নানা ধরনের উদ্ভাবন

মেলায় যাত্রীবাহী অটোরিকশার বিকল্প হিসেবে সৌরবিদ্যুতে চলা চার চাকার ‘সান কার’ প্রদর্শন করছে ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ। চালকসহ তিনজন যাত্রী নিয়ে চলতে সক্ষম বাহনটি চলার সময়ই সূর্যের আলো থেকে ব্যাটারি চার্জ করতে পারে। বাহনটির বিষয়ে ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান ইমরান চৌধুরী বলেন, ‘আমরা সান কার নামে যাত্রীবাহী গাড়ি তৈরি করেছি, যা সূর্যের আলোতে চলবে। সূর্যের আলো না থাকলেও এটি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা চলতে পারবে। এটি প্যাডেলচালিত ও বিদ্যুৎ–চালিত রিকশার বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। গাড়িটি চার চাকার হওয়ায় এটি তুলনামূলকভাবে কম দুর্ঘটনাপ্রবণ। এটি তৈরি করতে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।’

ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের তৈরি বৈদ্যুতিক মোটরবাইক ও গাড়ি
ছবি: প্রথম আলো

মেলায় নিজেদের তৈরি সৌরবিদ্যুতে চলা সেচ পাম্পসহ বৈদ্যুতিক মোটরবাইক ও গাড়ি প্রদর্শন করছে ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন প্রভাষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘আমরা বিদ্যুৎ–চালিত বাইক ও গাড়ি তৈরি করেছি। আমাদের আরেকটি উদ্ভাবন হলো সৌরবিদ্যুতে চলা পাম্প “সোলার সেচ”। কৃষিজমির সেচকাজে ব্যবহার উপযোগী পাম্পটির মাধ্যমে প্রতি ২০ সেকেন্ডে ৫০০ লিটার পানি উত্তোলন করা যায়।’

চৌকস প্রহরী নামের আগ্নেয়াস্ত্রের প্রটোটাইপ প্রদর্শন করছে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)। ক্যামেরাযুক্ত থাকায় দূর থেকে আগ্নেয়াস্ত্রটি ব্যবহার করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন এমআইএসটির সাইবার নিরাপত্তা গবেষক জাওয়াদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমান্ত এলাকায় অনেক দুর্গম এলাকা রয়েছে, যেখানে সব সময় সহজে পৌঁছানো যায় না। এসব এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোতে সংক্রিয়ভাবে গুলি করতে সংক্ষম এ ধরনের প্রযুক্তি রয়েছে। “চৌকস প্রহরী” নামের আগ্নেয়াস্ত্রটি স্বয়ংক্রিয় বা মানুষের সহায়তায় ব্যবহার করা যায়।’

আখের ছোবড়া থেকে তৈরি প্লেট ও গ্লাস প্রদর্শন করছে শূন্য। দামও বেশ কম
ছবি: প্রথম আলো

আখের ছোবড়া থেকে নিজস্ব প্রযুক্তিতে প্লেট ও গ্লাস তৈরি করে প্রদর্শন করছে ‘শূন্য’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আকিল আহমেদ বলেন, ‘আমরা মূলত আখের ফেলে দেওয়া অংশ নিয়ে কাজ করি। আখের বর্জ্য ব্যবহার করে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লেট ও গ্লাস তৈরি করছি। এগুলোর দাম প্লাস্টিকের তৈরি প্লেট ও গ্লাসের প্রায় কাছাকাছি। তবে আমাদের তৈরি পণ্য পরিবেশবান্ধব। অন্যদিকে প্লাস্টিকের প্লেট ও গ্লাস পরিবেশের ক্ষতি করে।’

মেলায় প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা, সংলাপ, অধিবেশন ও গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হবে। এসব আয়োজনে উদ্ভাবন, গবেষণা, প্রযুক্তির ব্যবহার, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা তৈরি এবং উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।

মেলার দ্বিতীয় দিন আগামীকাল স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে আন্তর্জাতিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হবে।