সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে কমছে তরুণ প্রজন্মের সুখ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে ব্যাপকভাবে ঝুঁকে পড়ছেন অনেকেফাইল ছবি: রয়টার্স

পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সুখ ও মানসিক প্রশান্তি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার বড় ভূমিকা রাখছে বলে সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্টে জানানো হয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ ও জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন সমাধান নেটওয়ার্কের অংশীদারত্বের ভিত্তিতে নিয়মিত এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েলবিয়িং রিসার্চ সেন্টার।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ ১৫টি পশ্চিমা দেশে তরুণদের ভালো থাকার সূচকে বড় ধরনের পতন হয়েছে। গবেষকদের মতে, এই অবনতির পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার। তবে তরুণদের অসুখী হওয়ার এই প্রবণতা বিশ্বজুড়ে সমান নয়।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ যে অঞ্চলে বাস করে, সেখানকার তরুণেরা আগের তুলনায় তাঁদের জীবন নিয়ে অনেক বেশি সন্তুষ্ট। মূলত ইংরেজিভাষী দেশ ও পশ্চিম ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নেতিবাচক পরিবর্তন বেশি দৃশ্যমান। বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, মহাদেশভেদে এই প্রবণতার কারণ ভিন্ন হতে পারে। তবে গবেষণার তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিশেষ কিছু দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক ব্যবহার তরুণদের ভালো না থাকার পেছনে একটি বড় কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির খবর সামনে আসার পর থেকে বিভিন্ন দেশের সরকার তরুণদের সুরক্ষায় কঠোর আইন প্রণয়নের দিকে ঝুঁকছে। অস্ট্রেলিয়া গত বছর বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ইন্দোনেশিয়া, ফ্রান্স ও গ্রিসও বর্তমানে একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করেছে।

সূত্র: আল–জাজিরা