চমৎকার ছবির জন্য সনি আইএমএক্স ৭৬৬ ফ্ল্যাগশিপ সেন্সর

ছবি তোলার ক্ষেত্রে সব সময় সুন্দর আলো পাওয়া যায় না। বিষয়টিকে মাথায় রেখে রিয়েলমি এর ৯ প্রো প্লাস ৫জি ডিভাইসে ফ্ল্যাগশিপ লেভেলের ক্যামেরা সেটআপ যুক্ত করেছে। ডিভাইসটির মেইন ক্যামেরায় নিউ ইমেজিং প্রো লাইট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। লো লাইটে চমৎকার ছবি তোলার সক্ষমতা এ সেগমেন্টের অন্যান্য ফোন থেকে রিয়েলমি ৯ প্রো প্লাস ৫জি ডিভাইসটিকে আলাদা করেছে। বড় আকারের ইমেজিং সেন্সর, অত্যাধুনিক ডিজিটাল নয়েজ রিডাকশন অ্যালগরিদম ও ডুয়েল স্ট্যাবিলাইজেশন সিস্টেম ব্যবহার করে, প্রো লাইট ইমেজিং প্রযুক্তি দিয়ে ব্যবহারকারীরা অনায়াসেই দুর্দান্ত সব ছবি তুলতে পারবেন। ডিভাইসটিতে সনি আইএমএক্স ৭৬৬ ফ্ল্যাগশিপ সেন্সর ব্যবহার করা হয়েছে। জনপ্রিয় এ ক্যামেরা সেন্সরটি অনেক ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসেও ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যয়বহুল। বড় আকারের ১/১.৫৬ ইঞ্চি সেন্সর ডিভাইসটিকে এর সেগমেন্টের সবচেয়ে বড় সেন্সরে পরিণত করেছে, যা এর আগের প্রজন্মের তুলনায় ৬৩.৮ শতাংশ বেশি আলো ক্যাপচার করে। আইফোন ১৩–এর সঙ্গে তুলনা করলে এটি ৪৫ শতাংশ বেশি আলো ক্যাপচার করে।

প্রো লাইট ইমেজিং প্রযুক্তির অংশ হিসেবে ছবি তোলার জন্য ডিভাইসটির মেইন ক্যামেরায় অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (ওআইএস) এবং ভিডিও করার জন্য ইলেকট্রনিক ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন (ইআইএস) ব্যবহার করা হয়েছে। ডিভাইসটিতে অপটিক্যাল ইমেজ স্ট্যাবিলাইজেশন থাকায় যেকোনো ধরনের ঝাঁকুনিতেও পরিষ্কার ও ঝকঝকে ছবি তোলা সম্ভব। প্রো লাইট ইমেজিং প্রযুক্তিতে এআই নয়েজ রিডাকশন ইঞ্জিন ৩.০ কে সমন্বয় করা হয়েছে, যা আরও সূক্ষ্ম ও নিখুঁতভাবে নয়েজ দূর করতে পারবে। ডিজিটাল নয়েজ বিভিন্ন শেপ ও সাইজের হয়। তাই নয়েজ রিডাকশন ইঞ্জিন এই নয়েজের শেপগুলো শনাক্ত ও দূর করতে ডিপ লার্নিং ব্যবহার করে, যা কম ডিজিটাল নয়েজের মাধ্যমে লো লাইটে পরিষ্কার ও চমৎকার ছবি তুলতে সাহায্য করে।

default-image

ডাইমেনসিটি ৯২০ ৫জি প্রসেসরসহ শক্তিশালী ৫জি পারফরম্যান্সের ফোন

রিয়েলমি ৯ প্রো প্লাস ৫জি ডিভাইসটি এই সেগমেন্টের ফোনগুলোর মধ্যে সেরা পারফরম্যান্স নিশ্চিত করবে। ডিভাইসটিতে প্রথমবারের মতো মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি ৯২০ ৫জি প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে; এর শক্তিশালী প্রসেসর ৫ লাখের বেশি আনটুটু স্কোর অর্জন করে রেকর্ড তৈরি করেছে। এতে অত্যাধুনিক ৬ ন্যানোমিটার চিপসেট রয়েছে, এর ফলে ডিভাইসটি দিয়ে ব্যবহারকারীরা ফোন ব্যবহারের উন্নত অভিজ্ঞতা পাবেন। ডিভাইসটির সিপিউয়ের কোর পারফরম্যান্স ২.৪ গিগাহার্টজ থেকে ২.৫ গিগাহার্টজে উন্নীত করা হয়েছে। এ ছাড়া গেমারদের জন্য ডিভাইসটিতে ব্যবহার করা শক্তিশালী এ প্রসেসর গেমিং পারফরম্যান্স ৯ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে সাহায্য করবে। ব্যবহারকারীরা আগের প্রজন্মের ডাইমেনসিটি চিপের চেয়ে এ ডিভাইসটির ডাইমেনসিটি চিপের মাধ্যমে ৩৫ শতাংশের বেশি ডিটেইল সহকারে ছবি তুলতে পারবেন। ফোনটিতে ভ্যাপার চেম্বার কুলিং সিস্টেম রয়েছে, যা দীর্ঘক্ষণ ফোন ব্যবহারের সময় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে ও হাইপারফরম্যান্সের বিষয়টিকে নিশ্চিত করে।

সূর্যোদয় থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লাইট শিফট ডিজাইন

সূর্যোদয় থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রিয়েলমি তাদের রিয়েলমি ৯ প্রো প্লাস ৫জি ডিভাইসে ব্র্যান্ডটির স্বতন্ত্র ডিজাইন ‘লাইট শিফট ডিজাইন’ ব্যবহার করেছে। ডিভাইসটির গ্রেস কালার সানরাইজ ব্লুর সঙ্গে লাইট শিফট ডিজাইন সুন্দর এক আবহ তৈরি করে, যা সূর্যের চমৎকার ইফেক্ট দ্বারা অনুপ্রাণিত। সাধারণত স্বাভাবিক সূর্যের আলো কিংবা অতিবেগুনি রশ্মিতে ফোনটির পেছনের দিক প্রায় তিন সেকেন্ডের জন্য নীল থেকে লাল রং ধারণ করবে। তবে সূর্যের আলো না থাকলে এটি দুই থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে আগের রঙে ফিরে আসে। এ ডিভাইসেই প্রথমবারের মতো ফটোক্রোমিজম ডুয়েল লেয়ার ক্রমিক বন্ডিং প্রসেস ব্যবহার করা হয়েছে। এটি শুধু যেকোনো ধরনের তরল পদার্থ থেকে ফোনের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করবে না, একই সঙ্গে এটি রঙের রেন্ডারিং হার ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি করবে। এর ফলে ফোনের ড্যাজলিং ইফেক্ট ডিভাইসটিকে অন্যান্য ডিভাইস থেকে আলাদা করেছে। ডিভাইসটি রিয়েলমি নম্বর প্রো সিরিজের ডিভাইসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পাতলা। ডিভাইসটি ৭.৯৯ মিমি পাতলা এবং এর ওজন মাত্র ১৮২ গ্রাম। অ্যাডভান্সড স্ট্র্যাকচারাল স্ট্যাকিং প্রযুক্তি ও রিফাইন্ড কম্পোনেন্টগুলো রিয়েলমি ৯ প্রো প্লাস ৫জি ডিভাইসটিকে স্লিম ও হালকা করেছে, যা অনায়াসেই হাতের তালুতে রাখা যাবে।

default-image

ফোনটির ডিসপ্লে কোয়ালিটি দুর্দান্ত। এতে ৯০ হার্টজ হাইরিফ্রেশ রেটসহ সুপার অ্যামোলেড স্ক্রিন ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা খুব আরামদায়কভাবে এ ফোনের ডিসপ্লে ব্যবহার করতে পারবেন এবং একধরনের স্মুথ অনুভূতি পাবেন। এ ফোনে ইন-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও ব্যবহার করা হয়েছে, যা হৃৎস্পন্দন পরিমাপ করতেও সক্ষম। স্মার্টডিভাইস দিয়ে যাঁরা কনটেন্ট উপভোগ করতে ভালোবাসেন, তাঁদের জন্য এ ফোন বেশ সহায়ক হবে। এ ছাড়া ডিভাইসটিতে আছে ৮ জিবি র‌্যাম ও ১২৮ জিবি স্টোরেজ সুবিধা। ডিভাইসটির ডলবি ডুয়েল স্টেরিও স্পিকার ও ৬০ ওয়াট সুপার ডার্ট চার্জিং প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করবে। এর ফলে ফোনটি ০ থেকে ৫০ শতাংশ চার্জ করা যাবে মাত্র ১৫ মিনিটে।

রিয়েলমি সানরাইজ ব্লু ও অরোরা গ্রিন—২টি রঙে মাত্র ৩৯ হাজার ৯৯০ টাকায় (ভ্যাট প্রযোজ্য) দেশের বাজারে নিয়ে এসেছে রিয়েলমি ৯ প্রো প্লাস।

প্রযুক্তি থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন