মার্ক জাকারবার্গের মতে, কলেজজীবনে একজন শিক্ষার্থীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনটি

মার্ক জাকারবার্গফাইল ছবি: রয়টার্স

কলেজজীবনে একজন শিক্ষার্থী কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, এটিই তাঁর জীবনে সে সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জার ও কেডস অ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। তাঁর মতে, কলেজজীবনে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ভবিষ্যৎ জীবন ও পেশাগত পথচলায় দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ২০২২ সালের একটি পডকাস্টের ভিডিও ক্লিপ নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। সেই পডকাস্টের সঞ্চালক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) কম্পিউটারবিজ্ঞানী লেক্স ফ্রিডম্যান। পুরোনো সেই পডকাস্টে জাকারবার্গ জানান, ফেসবুকের শুরুর গল্প থেকে অনেকেই ভুল শিক্ষা নেন। কলেজ ছেড়ে দেওয়ার কারণেই তিনি ফেসবুক শুরু করতে পেরেছিলেন, এই ধারণা আসলে সঠিক নয়। কলেজে পড়ার সময় গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও যোগাযোগই ছিল তাঁর সাফল্যের মূল ভিত্তি। কলেজজীবনে শিক্ষার্থীরা যাঁদের সঙ্গে সময় কাটান, ধীরে ধীরে তাঁদের চিন্তাভাবনা ও আচরণ সেভাবেই গড়ে ওঠে। আপনি যাঁদের সঙ্গে নিজেকে ঘিরে রাখেন, শেষ পর্যন্ত আপনিও অনেকটা তাঁদের মতো হয়ে ওঠেন। অনেক শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের দিকেই বেশি মনোযোগ দেন, কিন্তু যাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছেন, সেই মানুষগুলোর গুরুত্ব যথেষ্টভাবে বিবেচনা করেন না।

আরও পড়ুন

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় জাকারবার্গের সহপাঠী ছিলেন এদুয়ার্দো স্যাভেরিন, অ্যান্ড্রু ম্যাকলাম, ডাস্টিন মস্কোভিৎজ ও ক্রিস হিউস। তাঁরা ফেসবুকের সহপ্রতিষ্ঠাতা। যদিও পরবর্তী সময়ে তাঁদের পথচলা সুখকরভাবে শেষ হয়নি। এ বিষয়ে জাকারবার্গ বলেন, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে তিনি লক্ষ্য অর্জনের চেয়ে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন দেখা যায় তাঁর নিয়োগ নীতিতেও।

আরও পড়ুন

জাকারবার্গ জানিয়েছেন, তিনি এমন প্রার্থীকে নিয়োগ দেন, যাঁর সঙ্গে তিনি নিজেও কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন। কোনো প্রার্থীকে মূল্যায়নের সময় তিনি কল্পনা করেন, যদি ওই ব্যক্তির অধীনে তাঁকে কাজ করতে হতো, তবে সেটি কেমন হতো। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি তাঁকেই আমার জন্য কাজ করতে নিই, যাঁর সঙ্গে আমি নিজেও কাজ করতে রাজি থাকতাম।’ জাকারবার্গের মতে, এই নীতি কর্মপরিবেশকে আরও সুসংহত ও কার্যকর করে তোলে। মানবিক মূল্যবোধে মিল থাকা মানুষের সঙ্গে কাজ করলে পারস্পরিক বোঝাপড়া সহজ হয় এবং দলগতভাবে কাজের লক্ষ্য অর্জনও সহজ হয়। তাঁর মতে, বিষয়টি অনেকটা বন্ধু বা জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার মতো। যেখানে ব্যক্তিগত সামঞ্জস্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া