ভুয়া এআই জরিমানার এসএমএস, কী করবেন

ছবিটি এআই দিয়ে আঁকা

ধরুন, বেলা ৩টা। অফিসের ডেস্কে বসে রাজীবের (ছদ্মনাম) ফোনে বার্তা এল, ‘আপনার মোটরসাইকেলের ট্রাফিক জরিমানা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে না দিলে অর্থদণ্ড দ্বিগুণ হবে।’ সঙ্গে একটা লিংক আর আগে দিলে ছাড়ের লোভ! বার্তাটা এমনভাবে লেখা, যেন সত্যিই সরকারি কোনো দপ্তর থেকে এসেছে। বুকটা ধক করে উঠল রাজীবের!

ঢাকায় এখন এআই-চালিত স্মার্ট ক্যামেরা বা স্বয়ংক্রিয় নজরদারি ক্যামেরা দিয়ে ট্রাফিক আইন প্রয়োগ চলছে—সীমিত আকারে। এই সুযোগে প্রতারকেরা সরকারি নোটিশের নকলে ভুয়া বার্তা বা এসএমএস ছড়াচ্ছে। লিংকে ক্লিক করলে সেটা নিয়ে যায় হুবহু বিআরটিএর সেবা পোর্টালের মতো দেখতে ভুয়া একটা ওয়েবসাইটে। প্রতিবেদন অনুযায়ী এমন এক ঘটনায় বিকাশে জরিমানা দিতে গিয়ে একজনের ১৫ হাজার টাকা চলে গেছে।

ঝুঁকিটা কোথায়?

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, প্রতারকেরা এখন জেনারেটিভ এআই দিয়ে নির্ভুল বানানের, বিশ্বাসযোগ্য বার্তা বানাতে পারে। আগের মতো সহজেই বানানের ভুল বা অসামঞ্জস্যতা দেখে ধরা কঠিন।

তাই মনে রাখুন—অচেনা লিংক পেলেই ক্লিক করবেন না। • ওটিপি, পিন বা সিভিভি কাউকে দেবেন না। • জরিমানা যাচাই করুন শুধু সরকারি মাধ্যমে। • সন্দেহ হলে পুলিশ বা সাইবার ইউনিটে জানান, আর পরিচিতদেরও সতর্ক করুন।

প্রতারকের সবচেয়ে বড় অস্ত্র আসলে এআই নয়, আমাদের তাড়াহুড়ো করার মানসিকতা। একটু ধীরেসুস্থে এগোলে, আর কষ্ট করে একবার যাচাই করলেই ফাঁদ থেকে বাঁচা যায়। মনে রাখবেন জরুরি তাগাদা মানেই সন্দেহের কারণ।

● লেখক: টেক ব্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর