যাঁদের এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁরা হলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান এবং বিটিআরসির স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপপরিচালক।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, অ্যান্ড্রয়েড ফোনে বিজয় বাংলা কি–বোর্ড অ্যাপ ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক বলে বিটিআরসি যে নির্দেশনা দিয়েছে, তা সম্পূর্ণ স্বেচ্ছারি (আরবিট্রারি) এবং বিটিআরসি এ ধরনের নির্দশনা দেওয়ার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত নয়।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ফোনে অ্যাপটির ইনস্টলেশন বিনা মূল্যের হলেও, এটি গুগলের মাধ্যমে করতে হয়, যা প্রকৃতপক্ষে বিনা মূল্যের নয়। বিটিআরসির নোটিশের মাধ্যমে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এটি প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২–এর লঙ্ঘন এবং একই আইনের ২৪ ধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইনি নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে বিটিআরসি ১৩ জানুয়ারি দেওয়া এই নির্দেশনা প্রত্যাহার করে না নিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে ইশরাত হাসান স্বাক্ষরিত আইনি নোটিশে বলা হয়েছে।
ইশরাত হাসান আজ ই–মেইলে চারজনকে আইনি নোটিশটি পাঠিয়েছেন। আগামীকাল মঙ্গলবার রেজিস্ট্রি ডাকযোগে তাঁদের ঠিকানায় এই নোটিশ পাঠানো হবে বলে তিনি প্রথম আলোকে জানান।
ইশরাত হাসান বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের তৈরি কোনো একটি অ্যাপের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার এখতিয়ার কারওর নেই। এটা ভোক্তাদের জন্য ক্ষতিকর। এ জন্য সংক্ষুব্ধ নাগরিক মহিউদ্দিন আহমেদের পক্ষে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছি। নোটিশের জবাবের ওপর নির্ভর করে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।
মহিউদ্দিন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এই আইনি নোটিশ পাওয়ার পরও যদি বিটিআরসি এই নির্দেশনা প্রত্যাহার না করে, তবে আমরা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করব।

প্রসঙ্গত, ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেমের সব অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোনে বাধ্যতামূলকভাবে বিজয় কি–বোর্ড অ্যাপ ব্যবহার করার নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। বিজয় ‘এপিকে’ (কার্যত মোবাইল অ্যাপ) ছাড়া কোনো ধরনের অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন দেশে বাজারজাত করতে দেওয়া হবে না বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিটিআরসি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন থাকা একটি সংস্থা। আর ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এই বিজয় বাংলা কি–বোর্ড ও সফটওয়্যারের নির্মাতা। তাঁর প্রতিষ্ঠিত আনন্দ কম্পিউটার্স বিজয় কি-বোর্ড সরবরাহ করে। আনন্দ কম্পিউটার্সের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, এটির মেধাস্বত্ব মোস্তাফা জব্বারের নামে। বিটিআরসির এই নির্দেশনা দেওয়ার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা–সমালোচনা চলছে।