হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দিতে চায় মেটা, গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) সেবার পরিধি বাড়াতে স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিচ্ছে মেটা। এরই ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ সুবিধা চালুর পরিকল্পনা করেছে মেটা। ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন মেটার এআই বিভাগের প্রধান আলেকজান্ডার ওয়াং
ওয়াং জানান, এআই প্রযুক্তিকে শত কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বৃহৎ পরিসরে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা মেটার অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্ষেত্র। চলতি বছরের শুরুতে মেটার সুপারইনটেলিজেন্স ল্যাবসের (এমএসএল) অধীনে ‘মিউজ স্পার্ক’ নামের একটি এআই মডেল উন্মোচন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য–সম্পর্কিত বিভিন্ন কাজে মডেলটির সক্ষমতা আশাব্যঞ্জক।
ওয়াংয়ের তথ্যমতে, ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও প্রাথমিক পরামর্শ দিতে মেটার এআই প্রযুক্তিকে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের সঙ্গে যুক্ত করা হতে পারে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যবহারের উপযোগী আরও বড় ও উন্নত মডেল তৈরির কাজও চলছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ব্যবহারকারীরা হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকেই স্বাস্থ্যবিষয়ক নানা তথ্য ও প্রাথমিক পরামর্শ পাবেন। তবে চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য ও পরামর্শ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এ ধরনের সেবার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারের আগে তথ্যের নির্ভুলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
ওয়াংয়ের এ মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, স্বাস্থ্যসেবায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়লে চিকিৎসক ও নার্সদের পেশাও ভবিষ্যতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে কি না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘এআইয়ের যুগে চিকিৎসক ও নার্সদের চাকরিও এখন ঝুঁকির মধ্যে।’ আরেকজন জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘দ্য বয়েস’–এর চরিত্র হোমল্যান্ডারের একটি ভিডিও চিত্র শেয়ার করে মন্তব্য করেন, ‘এআই এবার চিকিৎসকদের কাজের দিকেও এগোচ্ছে।’ তবে সবাই বিষয়টিকে একইভাবে দেখছেন না। অনেকের মতে, বর্তমানের অধিকাংশ এআই সেবাই ভুল করার শঙ্কা সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করে। ফলে স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভুল তথ্য বা ভুল পরামর্শ গুরুতর ঝুঁকির কারণ হতে পারে। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, ‘ভুল কনটেন্টের (আধেয়) সুপারিশ বিরক্তিকর হতে পারে, কিন্তু ভুল স্বাস্থ্য পরামর্শের মূল্য অনেক বেশি।’
বর্তমানে রোগ নির্ণয়, ব্যায়াম ও পুষ্টিবিষয়ক পরামর্শ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য জানতে চ্যাটজিপিটি, ক্লডসহ বিভিন্ন এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন অনেক মানুষ। তবে স্বাস্থ্যসেবায় এআইয়ের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার রোগীর নিরাপত্তা, তথ্যের নির্ভুলতা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে