ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস জিতলেন বাংলাদেশের মেহেদী হাসান

মেহেদী হাসান ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে রাইজিং স্টার অব দ্য ইয়ার হয়েছেনছবি: মেহেদী হাসানের সৌজন্যে

স্পেনের বার্সেলোনায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদ মো. মেহেদী হাসান ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬–এ ‘রাইজিং স্টার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার জিতেছেন। ২৫ জুন লন্ডনের ওয়ান মরগেট প্লেসে আয়োজিত ‘ব্ল্যাক–টাই’ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। একই বছর তিনি ‘ডিরেক্টর অব দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরিতেও ফাইনালিস্ট ছিলেন।

মেহেদী হাসানের বাড়ি নওগাঁ জেলার ধামইরহাট থানার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামে। তিনি ঢাকার দক্ষিণখানে বেড়ে উঠেছেন। তাঁর বাবা প্রয়াত খলিলুর রহমান ও মা নিলুফার বেগম। মেহেদী হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। সফটওয়্যার প্রকৌশলের প্রতি আগ্রহে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পেশাজীবন শুরু করেন। পরে ব্যবসায়িক দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে স্পেনের আইইএসই বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। ছয়টি মহাদেশের ৬০টির বেশি দেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

বাংলাদেশে থাকাকালে মেহেদী হাসান বিশ্বব্যাংক ও গ্রামীণফোনে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি স্পেনে পাড়ি জমান। ২০২২ সালে কুবো স্মার্ট লজিস্টিকসের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা থাকাকালে তিনি ফোর্বস টেকনোলজি কাউন্সিলে আমন্ত্রিত হন।

২০২৪ সালের শেষ দিকে মেহেদী হাসান প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে হাসটি লিমিটেডে যোগদান করেন। মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে হাসটির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ‘ওয়েব অ্যাপ’ এআই দিয়ে তৈরি শুরু হয়। প্রকল্পটির ৬০ শতাংশের বেশি কোড এআই দিয়ে তৈরি হয়, যা সফটওয়্যার তৈরির সময় অর্ধেকে নামিয়ে আনে। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মেহেদী এ বছর ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডসে দুটি শ্রেণিতে ফাইনালিস্ট হন এবং রাইজিং স্টার অব দ্য ইয়ার পুরস্কার জেতেন।

ইউরোপিয়ান ফিনটেক অ্যাওয়ার্ডস মহাদেশজুড়ে শত শত আবেদন থেকে ২৩টি বিশেষায়িত শ্রেণিতে কয়েকজনকে ফাইনালিস্ট হিসেবে নির্বাচন করে, যার মধ্যে চারটি ব্যক্তিগত শ্রেণি। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘ফিনটেক ইন্টেল’ এই পুরস্কার পরিচালনা করে। বিচারক প্যানেলে রয়েছেন সুইজারল্যান্ড, সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরিসহ ১০টির বেশি দেশের জাতীয় ফিনটেক সংস্থার নেতারা।