মশা মারার বৈদ্যুতিক ব্যাট

মশা মারার বৈদ্যুতিক ব্যাটফাইল ছবি: কবির হোসেন

এখন প্রায় সব ঋতুতেই মশার আনাগোনা দেখা যায়। তাই মশার কামড় থেকে রক্ষা পেতে আমরা অনেকেই ডিসইনফেক্ট্যান্ট স্প্রে, কয়েল বা বৈদ্যুতিক ব্যাট ব্যবহার করে থাকি। আধুনিক নগরজীবনের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামগঞ্জে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা মশা মারার বৈদ্যুতিক ব্যাট (ইলেকট্রিক ফ্লাইসোয়াটার) ১৯৯৬ সালে উদ্ভাবন করেন তাইওয়ানের সাও-আই শি। প্রথমে তিনি এর নাম দিয়েছিলেন ইলেকট্রনিক ইনসেক্ট-কিলিং সোয়াটার।

টেনিস র‍্যাকেটের মতো দেখতে বৈদ্যুতিক ব্যাটের হ্যান্ডল বা হাতলে থাকে ব্যাটারিচালিত একটি হাই ভোল্টেজ জেনারেটর। এর সার্কিটটি বেশ চমৎকার। এটি একটি মিনিমালিস্ট সেলফ-অসিলেটিং ভোল্টেজ বুস্টার। একে বিজ্ঞানীদের ভাষায় জুল থিফ সার্কিট বলা হয়। এই সার্কিটের বৈশিষ্ট্য হলো, এটি আকারে ছোট, তৈরিতে খরচ কম এবং ব্যাটারির ভোল্টেজ অনেক কমে গেলেও এটি কাজ চালিয়ে যেতে পারে। তাই যখন আপনি ব্যাটের সুইচটি চেপে ধরেন, তখন এর জালের ওপর ৫০০ থেকে ৩ হাজার ভোল্ট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। ব্যাটের জালের ইলেকট্রোডগুলোর মাঝখানে যখন কোনো মশা বা মাছি এসে পড়ে, তখন তাদের শরীরের মাধ্যমেই সার্কিটটি পূর্ণ হয় এবং বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়। ব্যাটের সঙ্গে সংযুক্ত একটি ক্যাপাসিটর সেই মুহূর্তে চার্জ ছেড়ে দেয়, যার ফলে একটি স্পার্ক বা স্ফুলিঙ্গ তৈরি হয়। এই প্রাথমিক ধাক্কাটিই মশা বা মাছিকে মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট। তবে আপনি যদি সুইচটি চেপে ধরে রাখেন, তবে অবিরত বিদ্যুৎপ্রবাহে ছোট পতঙ্গগুলো মুহূর্তেই ভস্মীভূত হয়ে যায়।

অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, এত ভোল্টেজ কি মানুষের জন্য বিপজ্জনক নয়? আসলে এই ব্যাট মানুষের জন্য নির্ধারিত বৈদ্যুতিক সুরক্ষা মান মেনেই তৈরি করা হয়। এই ব্যাটের ক্যাপাসিটরে সঞ্চিত চার্জের পরিমাণ ৪৫ মাইক্রোকুলম্বের কম রাখা হয়। এই পরিমাণ চার্জ মানুষের এক হাত থেকে অন্য হাতে প্রবাহিত হলেও তা নিরাপদ বলে গণ্য করা হয়।

সুরক্ষার জন্য অনেক বৈদ্যুতিক ব্যাটে তিন স্তরের জাল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। বাইরের দুটি জাল এমনভাবে তৈরি, যাতে মানুষের আঙুল ভেতরে না ঢুকে যায়, কিন্তু ছোট পতঙ্গ সহজেই ঢুকতে পারে। এই সুরক্ষার কারণে বড় পতঙ্গ অনেক সময় সরাসরি মারা যায় না; বরং কিছুক্ষণের জন্য জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টাইমস