নিরাপত্তা উদ্বেগ নিয়েই আবারও ফিরল মাইক্রোসফটের ‘রিকল’ ফিচার
ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ ১১–এর ‘রিকল’ ফিচার আবার চালু হয়েছে। তবে নতুন করে যুক্ত করা নিরাপত্তাব্যবস্থার পরও এ ফিচার ঘিরে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। ২০২৪ সালে প্রথম চালুর পর থেকেই ‘রিকল’ ফিচারটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। কারণ, এটি ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে চলমান প্রায় সব কার্যক্রমের স্ক্রিনশট সংরক্ষণ করে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা তৈরি হয়। ব্যাপক সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত মাইক্রোসফট ফিচারটি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়।
পরবর্তী সময়ে নতুনভাবে নকশা করে ২০২৫ সালে আবার রিকল চালু করে মাইক্রোসফট। এতে ‘উইন্ডোজ হ্যালো’–ভিত্তিক উন্নত সাইনইন নিরাপত্তা যুক্ত করা হয়। ফলে ফিচারটি চালু করা বা সংরক্ষিত তথ্য দেখতে হলে ব্যবহারকারীকে আঙুলের ছাপ বা মুখের পরিচয় যাচাই করতে হয়। মাইক্রোসফটের দাবি, এ ব্যবস্থায় ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর পরিচয় ব্যবহার করে তথ্য চুরি করতে পারবে না। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের একাংশ এখনো এ ফিচারের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। দ্য ভার্জের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘টোটালরিকল রিলোডেড’ নামের একটি সফটওয়্যার তৈরি করা আলেকজান্ডার হাগেনাহ দাবি করেছেন, নতুন ব্যবস্থাতেও নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে।
হাগেনাহরের মতে, রিকলে তথ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকলেও এর নিরাপত্তার সীমা যথেষ্ট শক্ত নয়। তাঁর তৈরি সফটওয়্যারটি পেছনে সক্রিয় থেকে ব্যবহারকারীকে বারবার যাচাইপ্রক্রিয়ায় বাধ্য করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত সংরক্ষিত তথ্য বের করে আনতে সক্ষম হতে পারে। এর মাধ্যমে তাত্ত্বিকভাবে ব্যবহারকারীর সংরক্ষিত বিভিন্ন সংবেদনশীল তথ্য যেমন পাসওয়ার্ড, ব্যাংক–সংক্রান্ত তথ্যসহ ব্যক্তিগত নানা তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে মাইক্রোসফট। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের নিরাপত্তাকাঠামোয় কোনো ত্রুটি নেই।
উল্লেখ্য, রিকল ফিচারটি ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক নয়। ব্যবহারকারী চাইলে এটি বন্ধ রাখতে পারেন। তবে যাঁরা ফিচারটি ব্যবহার করছেন, তাঁদের জন্য নতুন করে তৈরি হওয়া এই নিরাপত্তা–বিতর্ক আবারও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: টেকরাডার