আইফোন ও আইপ্যাড ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় অ্যাপলের নতুন উদ্যোগ
হালনাগাদ সংস্করণের আইফোন ও আইপ্যাড ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তায় নতুন নিরাপত্তা সুবিধা চালু করেছে অ্যাপল। ‘লিমিট প্রিসাইস লোকেশন’ নামের সুবিধাটি চালু করলে মোবাইল অপারেটররা ব্যবহারকারীদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে না। ফলে সাইবার অপরাধীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কারও অবস্থান নিখুঁতভাবে অনুসরণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অ্যাপলের তথ্যমতে, লিমিট প্রিসাইস লোকেশনসুবিধা চালু থাকলে আইফোন ও সেলুলার সুবিধাযুক্ত আইপ্যাড থেকে মোবাইল অপারেটরের কাছে পাঠানো লোকেশন তথ্য বর্তমানের মতো নির্ভুল হবে না। অর্থাৎ ব্যবহারকারীরা যেখানে অবস্থান করছেন, সেটির বদলে তাঁদের আশপাশের এলাকার আনুমানিক তথ্য শেয়ার করা হবে। এর ফলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা আরও সুরক্ষিত থাকবে। তবে সুবিধাটি চালু থাকলেও বিভিন্ন অ্যাপের সঙ্গে শেয়ার করা লোকেশন তথ্য নির্ভুলভাবে দেখা যাবে। একইভাবে জরুরি ফোনকলের সময় ফার্স্ট রেসপন্ডার সংস্থাগুলোর সঙ্গে সঠিক অবস্থানের তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থাও আগের মতোই কার্যকর থাকবে।
লিমিট প্রিসাইস লোকেশন সুবিধাটি বর্তমানে আইওএস ২৬.৩ অপারেটিং সিস্টেমে চলা আইফোন এয়ার, আইফোন ১৬ই এবং আইপ্যাড প্রো (এম৫) ওয়াই ফাই ও সেলুলার সংস্করণে ব্যবহার করা যাবে। প্রাথমিকভাবে জার্মানির টেলিকম, থাইল্যান্ডের এআইএস ও ট্রু, যুক্তরাজ্যের ইই ও বিটি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বুস্ট মোবাইলসহ কয়েকটি নির্বাচিত অপারেটরের নেটওয়ার্কে এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।
নতুন এই সুবিধা চালুর পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ জানায়নি অ্যাপল। তবে মোবাইল নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও সিটিজেন ল্যাবের গবেষক গ্যারি মিলার জানিয়েছেন, মোবাইল অপারেটররা সাধারণত কোনো ফোনের আনুমানিক অবস্থান নির্ধারণ করতে পারে। তবে সেই তথ্য আরও নির্ভুল করতে ব্যবহারকারীদের যন্ত্রগুলোই অবস্থানের তথ্য পাঠিয়ে থাকে। বেশির ভাগ মানুষই জানেন না যে অ্যাপের বাইরেও তাঁদের ব্যবহৃত যন্ত্র থেকে অবস্থানের তথ্য শেয়ার হতে পারে। অ্যাপ পর্যায়ে জিপিএসের তথ্য নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও এত দিন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট লোকেশন শেয়ার পুরোপুরি সীমিত করার সুযোগ ছিল না। অল্প কয়েকটি অপারেটরের নেটওয়ার্কে সীমাবদ্ধ হলেও অ্যাপলের এই উদ্যোগ ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
সূত্র: টেক ক্র্যান্চ