গরমের সময় এসির বিদ্যুৎ বিল কমানোর ৭টি কৌশল
গরম যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) ব্যবহার। দিনের অসহনীয় গরমে স্বস্তি পেতে এবং রাতে আরামদায়ক ঘুমের জন্য এখন অনেক পরিবারই দীর্ঘ সময় এসি চালিয়ে রাখছে। তবে এর প্রভাব পড়ছে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের খরচ কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এসি ব্যবহারের কিছু সাধারণ ভুলের কারণে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ বিল আসে। কম তাপমাত্রা নির্ধারণ, দীর্ঘদিন এসির ফিল্টার পরিষ্কার না করা, কক্ষের আয়তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন এসি ব্যবহার বা দরজা–জানালার ফাঁক দিয়ে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যেতে দেওয়ার কারণে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। গরমে এসির বিদ্যুৎ বিল কমানোর ৭টি কৌশল জেনে নেওয়া যাক।
১. তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রির মধ্যে রাখুন
অনেকের ধারণা, তাপমাত্রা যত কম রাখা হবে, ঘর তত দ্রুত ঠান্ডা হবে। বাস্তবে বিষয়টি ভিন্ন। তাপমাত্রা কম নির্ধারণ করা হলে এসির কমপ্রেসর বেশি সময় কাজ করে, ফলে বিদ্যুতের খরচও বেড়ে যায়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ২৪ ডিগ্রির নিচে প্রতি ১ ডিগ্রি তাপমাত্রা কমালে বিদ্যুতের খরচ ৬ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার পরামর্শ দেন। এ সময় সিলিং ফ্যান চালালে ঠান্ডা বাতাস দ্রুত ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচে বেশি আরাম পাওয়া যায়।
২. এসির সঙ্গে সিলিং ফ্যান ব্যবহার
এসি চলার সময় সিলিং ফ্যান ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ অপচয় হয়, এমন ধারণা অনেকের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে ফ্যান ব্যবহারে এসির ওপর চাপ কমে। সিলিং ফ্যান ঘরের ঠান্ডা বাতাস সমানভাবে ছড়িয়ে দেয়। ফলে একই ধরনের আরাম পেতে এসির তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়িয়ে রাখা যায়। দীর্ঘমেয়াদে এতে বিদ্যুৎ খরচ কমে।
৩. সূর্যের তাপ প্রতিরোধ
গ্রীষ্মের দুপুরে জানালা দিয়ে সরাসরি রোদ ঘরে ঢুকলে কক্ষের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। তখন এসিকে অতিরিক্ত তাপ অপসারণে বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। ভারী পর্দা, ব্ল্যাকআউট ব্লাইন্ড বা প্রতিফলকযুক্ত জানালার ফিল্ম ব্যবহার করে সূর্যের তাপ অনেকটাই প্রতিরোধ করা যায়। সরাসরি রোদ পড়ার আগেই পর্দা টেনে দিলে ঘরের তাপমাত্রা তুলনামূলক কম থাকে এবং এসির বিদ্যুৎ খরচও কম হয়।
৪. দরজা ও জানালার ফাঁক বন্ধ
ঘরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে গেলে এবং বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢুকলে এসিকে বেশি সময় ধরে চলতে হয়, ফলে বিদ্যুৎ খরচও বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দরজা ও জানালার চারপাশের ছোট ছোট ফাঁক বন্ধ করা গেলে শক্তি অপচয় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
৫. নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার
ফিল্টারে ধুলা জমলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয়। তখন একই মাত্রার শীতলতা দিতে এসিকে বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। গ্রীষ্মকালে প্রতি দুই থেকে চার সপ্তাহ অন্তর ফিল্টার পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। ধুলাবালু বেশি, এমন এলাকায় আরও ঘন ঘন পরিষ্কার করা প্রয়োজন হতে পারে।
৬. বছরে অন্তত একবার সার্ভিসিং
এসি নষ্ট হওয়ার অপেক্ষা না করে নিয়মিত সার্ভিসিং করানো উচিত। এতে সম্ভাব্য ত্রুটি আগেই শনাক্ত করা যায় এবং যন্ত্রের কার্যক্ষমতা বজায় থাকে। সার্ভিসিংয়ের সময় সাধারণত কনডেনসার কয়েল পরিষ্কার করার পাশাপাশি গ্যাসের মাত্রা পরীক্ষাসহ বাতাস চলাচলের পথ পরিষ্কার করা হয়, ফলে এসি কম সময়ে ঘরের তাপমাত্রা কমাতে পারে।
৭. স্লিপ মোড ও টাইমার ব্যবহার করুন
হালনাগাদ প্রযুক্তির এসিগুলোতে থাকা স্লিপ মোড ও টাইমার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখে। স্লিপ মোড চালু থাকলে রাতের বেলায় ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ানো হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় কুলিং কমে এবং বিদ্যুৎ খরচও হ্রাস পায়। একইভাবে টাইমার ব্যবহার করলে নির্দিষ্ট সময় পর এসি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়, ফলে অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ এড়ানো সম্ভব হয়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া