স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় চোখের ওপর চাপ কমাবেন যেভাবে

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা বেশ কিছু সুবিধা কাজে লাগিয়ে চোখের ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভবছবি: পেক্সেলস

দীর্ঘ সময় স্মার্টফোনের পর্দায় তাকিয়ে থাকলে অনেকের চোখে জ্বালা, শুষ্কতা বা ভারী ভাব অনুভূত হয়। কখনো কখনো মনে হয় যেন চোখে বালুকণা লেগে আছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ সমস্যাকে ‘স্ক্রিন স্ট্রেইন’ বা পর্দাজনিত চোখের চাপ বলা হয়। দীর্ঘ সময় ফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তবে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা বেশ কিছু সুবিধা কাজে লাগিয়ে চোখের ওপর চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব। ফলে আলাদা কোনো অ্যাপ ব্যবহার করতে হয় না। চোখের ওপর চাপ কমাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে থাকা কয়েকটি সেটিংস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

১. নাইট লাইট সুবিধা

স্মার্টফোনের পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো মানুষের মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করতে পারে। এতে মনে হয় এখনো দিন রয়েছে। ফলে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চোখও দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই সমস্যা কমাতে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ‘নাইট লাইট’ সুবিধা রয়েছে। সুবিধাটি চালু করলে পর্দার নীল আলোর মাত্রা কমে যায় এবং স্ক্রিনের রং তুলনামূলক উষ্ণ বা কমলা আভা ধারণ করে। এতে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলেও চোখে তুলনামূলক কম চাপ পড়ে।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের ফোনের সেটিংসে গিয়ে ‘ডিসপ্লে’ অপশনের মধ্যে থাকা ‘আই কমফোর্ট শিল্ড’ বা ‘নাইট লাইট’ চালু করতে হবে।

২. ডার্ক মোড ব্যবহার

স্মার্টফোনের উজ্জ্বল সাদা পটভূমি অনেক সময় সরাসরি চোখে লাগে, বিশেষ করে অন্ধকার বা কম আলোতে। ডার্ক মোড চালু করলে বেশির ভাগ অ্যাপের পটভূমি কালো বা গাঢ় ধূসর হয়ে যায়। ফলে স্ক্রিনের আলো তুলনামূলক নরম মনে হয় এবং চোখের ওপর চাপ কিছুটা কম পড়ে। ডার্ক মোড চালু করলে হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও জিমেইলের মতো অনেক অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডার্ক থিমে চলে যায়। বিশেষ করে রাতে স্মার্টফোন ব্যবহার করলে এ সুবিধা চোখের জন্য কিছুটা আরামদায়ক হতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেটিংসের ‘ডিসপ্লে’ অপশনে গিয়ে ‘ডার্ক থিম’ চালু করা যায়।

৩. অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ

চোখের ওপর চাপ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো ফোন ব্যবহারের সময় সীমিত রাখা। এ জন্য অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমেই নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণের সুবিধা রয়েছে। সুবিধাটি ব্যবহারের জন্য ফোনের সেটিংসে প্রবেশ করে ‘ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং অ্যান্ড প্যারেন্টাল কন্ট্রোলস’ অপশনে থেকে ‘সেট টাইমার’ বা ‘ড্যাশবোর্ড’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর যেসব অ্যাপ বেশি ব্যবহার করা হয়, সেগুলো নির্বাচন করে দৈনিক ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করতে হবে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া