এআই দিয়ে তৈরি ভিডিও চেনার ৫ উপায়

এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে লাল চিহ্ন থাকতে পারেএআইয়ের তৈরি ছবি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন এমন বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরি করতে পারে, যা দেখে সহজে বোঝার উপায় থাকে না সেটি সত্যিকারের কোনো ঘটনার দৃশ্য, নাকি কম্পিউটারে তৈরি। গুগলের ভিও ও ক্লিং এআইয়ের মতো ভিডিও তৈরির প্রযুক্তি একটি মাত্র লিখিত নির্দেশনা থেকেই কয়েক মিনিটের বাস্তবসম্মত ভিডিও তৈরি করতে পারে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা আগের চেয়ে কঠিন হয়ে উঠেছে।

এআই ভিডিও তৈরির প্রযুক্তি আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন এআই গবেষণাগার ও স্টার্টআপ বাস্তবসম্মত নড়াচড়া, আলোর ব্যবহার এবং পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম আরও নিখুঁতভাবে অনুসরণ করতে পারে এমন মডেল তৈরির কাজ করছে। এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কনটেন্টের উৎস যাচাইয়ের জন্য প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলোও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। সি২পিএ কনটেন্ট ক্রেডেনশিয়ালস ও গুগলের সিনথআইডির মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি বা ভিডিওর সঙ্গে এর উৎস সম্পর্কে যাচাইযোগ্য তথ্য যুক্ত করা যায়। তবে এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত ভিডিও শনাক্ত করার প্রযুক্তি এখনো পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য নয়। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও দেখার পর সেটি অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করার আগে ব্যবহারকারীকেই এর সত্যতা যাচাই করতে হবে। ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কি না, তা বোঝার ক্ষেত্রে কয়েকটি লক্ষণ কাজে আসতে পারে।

মুখের অভিব্যক্তি ও শরীরের নড়াচড়া

এআই দিয়ে তৈরি বাস্তবসম্মত মানুষের ভিডিওতে চোখের পলক ফেলার গতি অস্বাভাবিক হতে পারে। মুখের অভিব্যক্তিও অনেক সময় দৃশ্যের আবেগের সঙ্গে ঠিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয় না। এক ফ্রেম থেকে অন্য ফ্রেমে যাওয়ার সময় ত্বক, চোখ বা চুলের গঠনে হঠাৎ পরিবর্তনও দেখা যেতে পারে। শরীরের নড়াচড়াও ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি কি না, তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে। এআই দিয়ে তৈরি মানুষের চলাফেরা অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে মসৃণ হয়। বাস্তব মানুষের চলাফেরায় ভারসাম্য ঠিক করা বা গতিপথ সামান্য পরিবর্তনের মতো স্বাভাবিক ছোটখাটো নড়াচড়া থাকে। এআই–নির্মিত ভিডিওতে এসব বিষয় অনেক সময় দেখা যায় না।

শব্দ ও ঠোঁটের নড়াচড়ার অমিল

কথা বলার সময় শব্দের সঙ্গে ঠোঁটের নড়াচড়া ঠিকমতো না মেলাও এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত ভিডিওর একটি লক্ষণ হতে পারে। বিশেষ করে কোনো বাক্যের শেষ দিকে শব্দ ও ঠোঁটের নড়াচড়ার মধ্যে অসামঞ্জস্য স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে। তবে শুধু এই লক্ষণের ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। কারণ, গত দুই বছরে কণ্ঠস্বর নকল করার প্রযুক্তি অনেক উন্নত হয়েছে। ফলে শব্দ ও ঠোঁটের নড়াচড়ার মধ্যে সামান্য অমিল থাকলেই ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।

আলো, ছায়া ও প্রতিফলন খেয়াল করুন

বাস্তব জগতের আলোর আচরণ এবং পদার্থবিজ্ঞানের নিয়ম মেনে ভিডিও তৈরি করা এখনো এআই প্রযুক্তির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে ভিডিওতে আলো, ছায়া ও প্রতিফলনের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য দেখা যেতে পারে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কোনো বস্তুর ছায়া ভুল দিকে পড়তে পারে। আয়না বা অন্য কোনো প্রতিফলক পৃষ্ঠে মূল দৃশ্যের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কিছু দেখা যেতে পারে। আবার একটি দৃশ্য থেকে অন্য দৃশ্যে যাওয়ার সময় আলোর দিক বা তীব্রতাও অস্বাভাবিকভাবে পরিবর্তিত হতে পারে।

প্ল্যাটফর্মের লেবেল দেখুন

ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামের মতো বড় মাধ্যম এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত কনটেন্ট শনাক্ত করতে বিভিন্ন লেবেল ও ওয়াটারমার্ক ব্যবহার করছে। কোনো ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি বা সম্পাদিত হলে তাই ভিডিওর কোনো অংশে এ ধরনের চিহ্ন দেখা যেতে পারে। এসব লেবেল সাধারণত নির্মাতার দেওয়া তথ্য ও স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তির সমন্বয়ে যুক্ত করা হয়। মেটার মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রামে, যেমন ভিডিওর পাশে ‘এআই ইনফো’ বা ‘অল্টারড অর সিনথেটিক কনটেন্ট’ লেখা ট্যাগ দেখা যেতে পারে। তবে কোনো ভিডিওতে এমন লেবেল না থাকলেই সেটিকে বাস্তব বলে ধরে নেওয়া যাবে না। অনেক এআই-নির্মিত বা সম্পাদিত কনটেন্ট কোনো লেবেল ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আবার বাস্তব ভিডিওকেও ভুলভাবে এআই দিয়ে তৈরি বলে চিহ্নিত করার ঘটনাও ঘটেছে।

ভিডিওর মূল উৎস খুঁজে দেখুন

ভিডিওটির সত্যতা যাচাইয়ের আরেকটি উপায় হলো সেটি যে অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করা হয়েছে, সেটির তথ্য খতিয়ে দেখা। অ্যাকাউন্টটি কবে তৈরি হয়েছে, আগে কী ধরনের পোস্ট করা হয়েছে, ব্যবহারকারীর নাম ও প্রোফাইল ছবিসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা যেতে পারে। নতুন খোলা কোনো অ্যাকাউন্ট থেকে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুলসংখ্যক পোস্ট করা হলে সেটিকে কিছুটা সন্দেহের চোখে দেখা ভালো। তবে শুধু অ্যাকাউন্টের এসব বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কোনো ভিডিওকে ভুয়া বা এআই দিয়ে তৈরি বলে নিশ্চিত হওয়া উচিত নয়। ভিডিওটির মূল উৎস, ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য মিলিয়ে দেখাও জরুরি।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস