অজান্তেই ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে স্মার্ট টিভি; নিরাপদ থাকবেন যেভাবে
স্মার্ট টিভিগুলো বিভিন্ন স্ট্রিমিং অ্যাপের মাধ্যমে বিনোদনের সুযোগ হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালে লুকিয়ে আছে একটি বড় সমস্যা। সব সময় ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে এর মাশুল গুনতে হচ্ছে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা দিয়ে। কারণ, ব্যবহারকারী যখন টিভি দেখেন, তখন স্মার্ট টিভিও নীরবে তার দেখার অভ্যাস ও পছন্দসম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে।
আধুনিক স্মার্ট টিভিতে থাকা বিশেষ একধরনের প্রযুক্তির মাধ্যমে এই তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এটি দৃশ্যমান কোনো নজরদারি নয়। তবে তথ্য বিশ্লেষণভিত্তিক একটি স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া। বিশ্বের প্রায় সব বড় টিভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানই এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে, যা সাধারণত শুরু থেকেই সক্রিয় থাকে।
কী তথ্য সংগ্রহ করে স্মার্ট টিভি
স্মার্ট টিভি ব্যবহারকারীর দেখা কনটেন্ট, দেখার সময়, সময়কাল ও দেখার ধরন—এসব তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করে। ‘অটোমেটিক কনটেন্ট রিকগনিশন’ (এসিআর) নামের প্রযুক্তির মাধ্যমে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর পছন্দ ও অপছন্দের একটি বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি করা হয়। ব্যবহারকারী যদি নিয়মিত নির্দিষ্ট ঘরানার অনুষ্ঠান বা চলচ্চিত্র দেখেন, এই প্রযুক্তি সেই প্রবণতা শনাক্ত করে সংরক্ষণ করে। পাশাপাশি কোনো কনটেন্ট কখন থামানো হয়, এগিয়ে নেওয়া হয় বা মাঝপথে বন্ধ করা হয়—এসব আচরণও বিশ্লেষণের মধ্যে থাকে। এ ছাড়া আইপি মাধ্যমে ব্যবহারকারীর আনুমানিক ভৌগোলিক অবস্থান, ব্যবহৃত যন্ত্র এবং টিভিতে স্থাপিত বিভিন্ন অ্যাপ সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
যেভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি
এসিআর প্রযুক্তি টিভিতে চলমান কনটেন্ট থেকে নির্দিষ্ট সময় পরপর ক্ষুদ্র অংশ সংগ্রহ করে এবং তা একটি বৃহৎ তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে কনটেন্ট শনাক্ত করে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়। এর ফলে ব্যবহারকারী তা সাধারণত বুঝতে পারেন না। শুধু স্ট্রিমিং অ্যাপ নয়, স্মার্ট টিভির মাধ্যমে এটি ক্যাবল টিভি, ডিভিডি বা ব্লু-রে প্লেয়ার, গেমিং কনসোল এমনকি স্ট্রিমিং স্টিক থেকেও তথ্য সংগ্রহ করে। এমনকি ল্যাপটপ এইচডিএমআই ক্যাবলের মাধ্যমে টিভির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও এসিআর সেটির ওপর নজর রাখতে পারে।
কারা ব্যবহার করে এই তথ্য
প্রথমে টিভি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এই তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে। পরে তা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞাপনদাতা, তথ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ও বিপণন সংস্থার মতো অংশীদারদের সঙ্গে শেয়ার করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এসব তথ্য বিক্রিও করা হয়। এর ফলে ব্যবহারকারীর আগ্রহ অনুযায়ী লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করা হয়। যেমন কেউ যদি রান্নাবিষয়ক অনুষ্ঠান বেশি দেখেন, তবে খাবার বা রান্নাঘরের পণ্যের বিজ্ঞাপন বেশি দেখা যায়। আবার খেলাধুলাসম্পর্কিত কনটেন্ট বেশি দেখলে সংশ্লিষ্ট পণ্য বা সেবার বিজ্ঞাপন বাড়ে। ব্যবহারকারীর অন্যান্য যন্ত্র ও অনলাইন কার্যক্রমের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের জন্যও এসব তথ্য ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে বন্ধ করবেন এই ট্র্যাকিং
অধিকাংশ স্মার্ট টিভিতে এই ফিচার শুরু থেকেই সক্রিয় থাকে এবং টিভি চালুর সময় শর্তাবলিতে সম্মতি দেওয়ার মাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী অজান্তেই এটি চালু করে ফেলেন। তবে টিভির সেটিংস থেকে এই ট্র্যাকিং ফিচার বন্ধ করা সম্ভব। ব্র্যান্ডভেদে অপশনটির নাম ভিন্ন হতে পারে। সংশ্লিষ্ট অপশন খুঁজে ফিচারটি নিষ্ক্রিয় করলে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ অনেকটাই সীমিত করা যায়।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট