স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের গোপনে নজরদারি ঠেকাতে যা করতে হবে

গোপনে ব্যবহারকারীদের নানা ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে থাকে মোবাইল অ্যাপছবি: রয়টার্স

স্মার্টফোনের বিভিন্ন অ্যাপ আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তবে প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়ার পাশাপাশি অনেক অ্যাপ গোপনে ব্যবহারকারীদের নানা ধরনের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে থাকে। কখনো কখনো এসব তথ্য সংগ্রহের পরিমাণ ব্যবহারকারীর ধারণার চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। আর তাই কোন কোন অ্যাপ গোপনে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে তা জানার পাশাপাশি নজরদারি ঠেকাতে বেশ কিছু কৌশল মেনে চলতে হবে।

১. অ্যাপের সংগ্রহ করা অনুমতি যাচাই

স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপগুলো ইনস্টলের সময় কোন ধরনের তথ্য বা সুবিধা ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছে, তা প্রথমে যাচাই করতে হবে। ধরা যাক, একটি টর্চলাইট অ্যাপ যদি ব্যবহারকারীর অবস্থান, মাইক্রোফোন, ক্যামেরা কিংবা যোগাযোগের তালিকায় প্রবেশাধিকার চায়, তাহলে বিষয়টি সন্দেহজনক। কারণ, অ্যাপটির কাজের সঙ্গে এসব যন্ত্র ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।

২. অবস্থানের তথ্য ব্যবহারের অনুমতি পর্যালোচনা

অনেক অ্যাপ প্রয়োজন না থাকলেও ব্যবহারকারীর অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করতে চায়। আর তাই ফোনের সেটিংসে প্রবেশ করে দেখে নিতে হবে, কোন অ্যাপগুলো সব সময় লোকেশন ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছে। প্রয়োজন না হলে ‘অলওয়েজ অ্যালাউ’ অপশন বন্ধ করে ‘হোয়াইল ইউজিং দ্য অ্যাপ’ নির্বাচন করতে হবে। এতে অপ্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের ঝুঁকি কমবে।

৩. মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি পর্যালোচনা

অনেক অ্যাপ প্রয়োজন ছাড়াই স্মার্টফোনের মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি নিয়ে থাকে। কিন্তু পরে আর সেটির প্রয়োজন হয় না। তাই ফোনে থাকা অ্যাপগুলোর মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে। যেসব অ্যাপের মাইক্রোফোন ও ক্যামেরা ব্যবহারের প্রয়োজন নেই, সেগুলোকে দেওয়া অনুমতি বাতিল করতে হবে।

৪. প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ড ব্যবহার

অ্যান্ড্রয়েডের প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ড এবং আইফোনের প্রাইভেসি সেটিংসে সাম্প্রতিক সময়ে কোন অ্যাপ ব্যবহারকারীর অবস্থান, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা যোগাযোগের তালিকা ব্যবহার করেছে, তা দেখা যায়। স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপের গোপনে নজরদারি ঠেকাতে প্রাইভেসি ড্যাশবোর্ড নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে।

৫. ব্যবহার না করা অ্যাপ মুছে ফেলা

অনেক সময় দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলেও বিভিন্ন অ্যাপ ফোনে থেকে যায়। এসব অ্যাপ আগের দেওয়া অনুমতি ব্যবহার করে নির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। তাই যেসব অ্যাপের আর প্রয়োজন নেই, সেগুলো নিয়মিত মুছে ফেললে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি অপ্রয়োজনীয় নজরদারির ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।

সূত্র: টেকলুসিভ