চিকিৎসা নথি বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রে চ্যাটজিপিটি হেলথ চালু
ব্যবহারকারীর চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও স্বাস্থ্য অ্যাপের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিগতভাবে উপযোগী উত্তর দিতে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি ফিচার চালু করেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। ‘চ্যাটজিপিটি হেলথ’ নামের এই সুবিধার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও সুস্থতা–সংক্রান্ত প্রশ্নে আরও প্রাসঙ্গিক তথ্য দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে স্বাস্থ্যতথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও উঠেছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, ব্যবহারকারীরা চাইলে তাঁদের চিকিৎসা নথির পাশাপাশি অ্যাপল হেলথ, পেলোটন ও মাইফিটনেসপ্যালের মতো স্বাস্থ্য ও ফিটনেস অ্যাপ থেকে সংগৃহীত তথ্য চ্যাটজিপিটির সঙ্গে শেয়ার করতে পারবেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণের ভিত্তিতে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত পটভূমি অনুযায়ী উত্তর দেওয়া হবে।
তবে প্রতিষ্ঠানটি স্পষ্ট করেছে, এই ফিচার রোগনির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের জন্য নয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটি হেলথে হওয়া কথোপকথন অন্য সাধারণ চ্যাটের সঙ্গে সংরক্ষণ করা হবে না। একই সঙ্গে এসব তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হবে না।
স্বাস্থ্যতথ্য সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড টেকনোলজির গবেষণা পরিচালক অ্যান্ড্রু ক্রফোর্ড। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য মানুষের সবচেয়ে সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্যগুলোর একটি। তাই এসব তথ্য ব্যবহারে কঠোর ও নির্ভরযোগ্য সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
ক্রফোর্ডের মতে, এআইভিত্তিক নতুন স্বাস্থ্যসেবা রোগীদের আরও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে পারে। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, এসব সেবার মাধ্যমে নিজেদের পণ্যের মূল্য বাড়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই বেশি ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহে ঝুঁকছে। বিশেষ করে ওপেনএআই যখন ভবিষ্যতে বিজ্ঞাপনভিত্তিক ব্যবসা মডেল নিয়ে ভাবছে, তখন স্বাস্থ্যতথ্য ও অন্যান্য আলাপচারিতায় সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে কঠোর বিভাজন থাকা প্রয়োজন।
ওপেনএআই জানিয়েছে, প্রতি সপ্তাহে বিশ্বজুড়ে ২৩ কোটির বেশি মানুষ স্বাস্থ্য ও সুস্থতা–সংক্রান্ত প্রশ্ন নিয়ে চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেন। এক ব্লগ পোস্টে প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, চ্যাটজিপিটি হেলথে সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষায় উন্নত গোপনীয়তার ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এই ফিচারের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবাকে সহায়তা করা হবে। এটি চিকিৎসকের বিকল্প হয়ে উঠবে না। জেনারেটিভ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট অনেক সময় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করতে পারে, এমন আশঙ্কা আগেও প্রকাশ পেয়েছে।
এআই মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম আজোমার প্রধান নির্বাহী ম্যাক্স সিনক্লেয়ার মনে করেন, চ্যাটজিপিটি হেলথ চালুর মাধ্যমে ওপেনএআই তাদের চ্যাটবটকে একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য স্বাস্থ্য পরামর্শদাতা’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছে। সিনক্লেয়ারের মতে, এই ফিচার ভবিষ্যতে রোগীর সেবা ও খুচরা বাজার—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে। মানুষ কীভাবে স্বাস্থ্যতথ্য সংগ্রহ করবেন এবং স্বাস্থ্য সমস্যার সমাধানে তাঁরা কোন পণ্য বা সেবা বেছে নেবেন, সেটিতেও প্রভাব ফেলতে পারে এই সুবিধা।
প্রাথমিকভাবে সীমিতসংখ্যক ব্যবহারকারীর জন্য চ্যাটজিপিটি হেলথ চালু করা হচ্ছে। আগ্রহীদের জন্য একটি অপেক্ষমাণ তালিকাও খুলেছে ওপেনএআই। তবে যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপীয় অঞ্চলে এখনো এই ফিচার চালু হয়নি। এসব অঞ্চলে ব্যবহারকারীর তথ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সুরক্ষায় কঠোর আইন কার্যকর থাকায় সেখানে ফিচারটি চালু করতে সময় লাগতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পটভূমিতে অ্যান্ড্রু ক্রফোর্ড বলেন, কিছু প্রতিষ্ঠান কঠোর স্বাস্থ্যতথ্য সুরক্ষা আইনের আওতায় পড়ে না। ফলে স্বাস্থ্যতথ্য সংগ্রহ, ব্যবহার ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। তাঁর মতে, দুর্বল নীতিমালা সংবেদনশীল স্বাস্থ্যতথ্যকে বাস্তব ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
সূত্র: বিবিসি