গণিতের সমস্যা সমাধানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাফল্যকে কীভাবে দেখছেন গণিতবিদেরা

এআই মডেলগুলো এখন জটিল কাজ করতে পারেফাইল ছবি: রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি কম সময়ে গণিতের জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারায় সংখ্যার জটিল মারপ্যাঁচ সমাধানে মানবমস্তিষ্কের শ্রেষ্ঠত্ব আজ বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। তবে এআই মডেলগুলো গণিতশাস্ত্রে একের পর এক নতুন আবিষ্কার করলেও সেগুলোর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নতুন ফলাফলের পেছনের তত্ত্ব উন্মোচন করছে না বলে জানিয়েছেন গণিতবিদেরা। এ ঘটনা বৈশ্বিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

নতুন ফলাফলের পেছনের তত্ত্ব উন্মোচন না করা বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন গণিতে নোবেলখ্যাত ফিল্ডস পদক বিজয়ী বিখ্যাত গণিতবিদ টেরেন্সটা। তাঁর মতে, এই প্রবণতা গণিতচর্চার দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর এই আচরণ নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, যা গণিতের ক্ষতি করছে। এটি গণিতকে এগিয়ে নেওয়ার সঠিক পদ্ধতি নয়। মেশিনের তৈরি জটিল প্রমাণের পেছনের অন্তর্নিহিত অর্থ না বুঝলে মানবজ্ঞানের প্রসার বাধাগ্রস্ত হয়।

বিজ্ঞান গবেষণার ক্ষেত্রে এআইয়ের এই যান্ত্রিক অগ্রগতি নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। গবেষকেরা মনে করেন, মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সাধনা ও সৃজনশীলতা বজায় রাখা জরুরি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কেবল দ্রুত সমাধান দিতে পারে কিন্তু তার পেছনের গভীর সৌন্দর্য বুঝতে মানুষের মেধা লাগে। আর তাই ভবিষ্যতে গণিতের এই সংকটের সমাধান কীভাবে হবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর (এআই) প্রায় ১০ হাজার এজেন্ট ব্যবহার করে নেভিয়ার-স্টোকস সমীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের দাবি করেছে ওপেনএআই। গণিতের ইতিহাসে এটি অন্যতম কঠিন ও দীর্ঘস্থায়ী ধাঁধা হিসেবে পরিচিত ছিল। সমস্যাটি ‘মিলেনিয়াম প্রাইজ প্রবলেম’ হওয়ায় পুরস্কার পেতে পারে প্রতিষ্ঠানটি।

সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট