দৈনন্দিন কাজে এআই ব্যবহারের লক্ষ্যে মেটার নতুন উদ্যোগ
কোড লেখা, তথ্য বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন তৈরির মতো নিয়মিত কাজেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কার্যকরভাবে যুক্ত করতে চায় মেটা। আর তাই নিজ কর্মীদের এআই ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নতুন এই লক্ষ্য সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি ‘এআই ট্রান্সফরমেশন উইক’সহ একাধিক অভ্যন্তরীণ কর্মসূচি চালু করেছে। এসব কর্মসূচিতে বিভিন্ন বিভাগের কর্মীরা অংশ নিয়ে হ্যাকাথন, পণ্য প্রদর্শনী ও হাতে-কলমে প্রকল্পে কাজ করছেন। বাস্তব কর্মপরিবেশে এআই ব্যবহারের অভিজ্ঞতা দেওয়ার মাধ্যমে কর্মীদের দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানোই এসব আয়োজনের উদ্দেশ্য।
বিজনেস ইনসাইডারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকৌশলীসহ প্রতিষ্ঠানের সব স্তরের কর্মীদের মধ্যেই এআই ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায় মেটা। প্রশিক্ষণ সেশনগুলোতে কর্মীদের এমন এআই এজেন্টের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা কোড লেখা, তথ্য সংক্ষেপণ ও প্রতিবেদন প্রস্তুতের মতো কাজে সহায়তা করতে পারে। এসব এআই টুল ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন উভয় মাধ্যমেই ব্যবহার করার সুযোগ থাকায় কর্মীরা সহজেই নিজেদের কাজের ধারায় এগুলো যুক্ত করতে পারছেন।
প্রশিক্ষণে প্রদর্শিত কয়েকটি প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে ‘ক্লড কোড’ নামের একটি এআই টুল ব্যবহার করে। এটি মেটার অভ্যন্তরীণ কাজে ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। নির্ধারিত উপস্থাপনার পাশাপাশি কিছু দল উন্মুক্ত পরীক্ষামূলক উদ্যোগেও অংশ নিচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে ‘ভাইব কোডিং’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। এতে কর্মীরা বাস্তব পরিস্থিতিতে এআইয়ের সম্ভাবনা যাচাই ও নতুন প্রয়োগের ক্ষেত্র অন্বেষণের সুযোগ পাচ্ছেন।
এআই ব্যবহারের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে মেটা বিভিন্ন দলের জন্য নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করতে প্রতিষ্ঠানটি সাংগঠনিক কাঠামোও পুনর্গঠন করেছে। এসব কাঠামোতে ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে কর্মীদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে এআইনির্ভর কাজের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে কর্মীদের দায়িত্ব পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ‘এআই বিল্ডার’ এর মতো নতুন পদবিও চালু করা হয়েছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে