মেধাস্বত্ব ভঙ্গের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে প্রকাশকদের মামলা

মেটাছবি: রয়টার্স

নিজেদের তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মডেলের প্রশিক্ষণে একাধিক লেখকের বই ও গবেষণা প্রবন্ধ অনুমতি ছাড়া ব্যবহারের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিশ্বের একাধিক শীর্ষ প্রকাশনা সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটান ফেডারেল আদালতে গতকাল মঙ্গলবার মামলাটি করা হয়। মামলা করা প্রকাশনা সংস্থাগুলোর মধ্যে এলসেভিয়ার, সেনগেজ, হ্যাচেট, ম্যাকমিলান ও ম্যাকগ্রা হিলও রয়েছে। তাদের অভিযোগ, মেটা অনুমতি ছাড়াই বিপুলসংখ্যক বই ও প্রবন্ধ সংগ্রহ করে সেগুলো নিজেদের এআই মডেল ‘লামা’র প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছে। এর ফলে বই ও প্রবন্ধগুলোর মেধাস্বত্ব ভঙ্গ হয়েছে।

মামলার পর এক বিবৃতিতে মেধাস্বত্ব ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার করেছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য উদ্ভাবন, উৎপাদনশীলতা ও সৃজনশীলতার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে এআই। আদালতও স্বীকার করেছেন, মেধাস্বত্বযুক্ত উপকরণ ব্যবহার করে এআই প্রশিক্ষণ অনেক ক্ষেত্রে ফেয়ার ইউজ বা ন্যায্য ব্যবহারের আওতায় পড়তে পারে। আর তাই মেটা এ মামলার বিরুদ্ধে জোরালো আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।

প্রকাশকদের তথ্য অনুযায়ী, মেটা বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ এবং এন কে জেমিসিনের ‘দ্য ফিফথ সিজন’ ও পিটার ব্রাউনের ‘দ্য ওয়াইল্ড রোবট’-এর মতো উপন্যাসের তথ্য এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার করেছে। আর তাই এ বিষয়ে আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকান পাবলিশার্সের প্রেসিডেন্ট মারিয়া পালান্টে এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, মেটার ব্যাপক মাত্রার মেধাস্বত্ব লঙ্ঘন কোনো জনকল্যাণমূলক অগ্রগতি নয়। প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো যদি সৃজনশীলতার চেয়ে পাইরেসি সাইটগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেয়, তবে এআইয়ের প্রকৃত সম্ভাবনা কখনোই বাস্তবায়িত হবে না।

প্রসঙ্গত, এআই প্রশিক্ষণে মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগে ইতিমধ্যে একাধিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এর আগে চ্যাটজিপিটি ও ক্লড এআইয়ের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে মেধাস্বত্ব ভঙ্গের অভিযোগে ডজনখানেক লেখক, সংবাদমাধ্যম ও শিল্পী মামলা করেছেন।

সূত্র: রয়টার্স