টাইম ম্যাগাজিনের এআই ১০০ ব্যক্তিত্বের তালিকা প্রকাশ
টাইম ম্যাগাজিন বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তারকারী ১০০ জন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যক্তিকে নিয়ে একটি বিশেষ তালিকা প্রকাশ করেছে। এ তালিকা প্রযুক্তিপ্রেমী ও গবেষকদের মধ্যে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। এতে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিবিদ থেকে শুরু করে গবেষক ও শিল্পজগতের নানা মুখ উঠে এসেছে।
তালিকার শুরুতেই রয়েছে এমআইটির সিএসএআইএল ল্যাবরেটরির পরিচালক ড্যানিয়েলা রুসের নাম। তিনি লিকুইড এআই প্রকল্পের অন্যতম প্রবক্তা। এ নতুন প্রযুক্তির লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বেশ প্রশংসিত হয়েছে। ছোট ও সাশ্রয়ী মডেল তৈরির মাধ্যমে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত না থেকেও এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করছে এটি। সরকারি বা বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের নজরদারি ছাড়াই নিজের মতো করে মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া সম্ভব হয় এর মাধ্যমে।
তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় তিনটি এআই কোম্পানির প্রধানদের রাখা হয়েছে। ওপেনএআইয়ের স্যাম অল্টম্যান, মার্ক চেন ও গ্রেগ ব্রকম্যান এ তালিকায় আছেন। এ ছাড়া ইলন মাস্ক এবং অ্যানথ্রপিকের প্রতিষ্ঠাতা দারিও ও ড্যানিয়েলা আমোদিও স্থান পেয়েছেন। পরে অ্যামাজনের জেফ বেজোসের নামও দেখা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে করপোরেট সংস্কৃতির প্রভাব এ তালিকায় স্পষ্ট। অন্যদিকে চীনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীভূত সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও ওপেন সোর্স মডেলের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়। তবে সেখানেও আলিবাবা, টেনসেন্ট এবং বাইটড্যান্সের মতো কোম্পানির বড় প্রভাব রয়েছে।
তালিকায় কেবল প্রযুক্তিবিদেরাই নন, বিনোদন জগতের মানুষেরাও জায়গা করে নিয়েছেন। ইন্টারপজিটিভের সঙ্গে কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ অভিনেতা বেন অ্যাফ্লেক এ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ উন্নত করতে ডিজিটাল টুইনিংয়ের ব্যবহার নিয়ে তিনি কাজ করছেন। এ ছাড়া মুভি নির্মাণে এআইয়ের ভূমিকা নিয়ে তাঁর নিজস্ব মত রয়েছে।
পূর্ণাঙ্গ এআই ইকোসিস্টেমের বিভিন্ন দিক এ তালিকায় ফুটে উঠেছে। গুগলের কাজে আজালিয়া মিরহোসেইনি ও আনা গোল্ডির অবদান রয়েছে। মুনশট এআইয়ের ইয়াং ঝিলিন এবং এজিবটের ডেং তাইহুয়া রোবোটিকস খাতে কাজ করছেন। হার্ডওয়্যার, এলএলএম মডেল, ভোক্তা সেবা ও রোবোটিকস—সব মিলিয়ে এআই খাতের সামগ্রিক অগ্রগতি এ তালিকার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।
সূত্র: ফোর্বস