এআইয়ের উত্থানে সফটওয়্যার প্রকৌশলের পেশা বিলুপ্ত হতে পারে: অ্যানথ্রপিকের সিইও

এআই মডেলগুলো ধীরে ধীরে শক্তিশালী হয়ে উঠছেছবি: রয়টার্স

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এখন আর শুধু মানুষের কাজ দ্রুত করার একটি সহায়ক প্রযুক্তি নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) দারিও আমোদির মতে, এআই ধীরে ধীরে নিজেই কাজ করতে শুরু করেছে। এর প্রথম বড় প্রভাব পড়তে পারে সফটওয়্যার প্রকৌশল পেশায়। তিনি জানান, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই পেশা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে, এমনকি বিলুপ্তির দিকেও যেতে পারে। তবে মানুষ চাইলে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে।

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আমোদি বলেন, মানুষ এখনো মূলত এআই ভবিষ্যতে কী করতে পারবে, তা নিয়ে তর্কবিতর্কে ব্যস্ত। অথচ এআই ইতিমধ্যে চাকরি, উৎপাদনশীলতা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোয় যে বাস্তব ও গভীর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে, সে বিষয়ে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। এক দশকের বেশি সময় ধরে উন্নত এআই নিয়ে কাজ করা আমোদি মনে করেন, এআইয়ের অগ্রগতি একটি প্রায় পূর্বানুমেয় গতিপথেই এগোচ্ছে। তিনি এআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধির তুলনা করেন মুরের সূত্রের সঙ্গে। তাঁর মতে, কয়েক মাস পরপরই এআই মডেলগুলো আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

সফটওয়্যার উন্নয়ন খাতকে এই পরিবর্তনের সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন আমোদি। তিনি জানান, অ্যানথ্রপিকের প্রকৌশল দলের কয়েকজন প্রধান এখন আর নিজেরা কোড লেখেন না। তাঁরা প্রতিষ্ঠানের তৈরি সর্বশেষ এআই মডেল ‘ক্লড’ ব্যবহার করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রয়োজনীয় কোড লেখেন। পরে সেই কোড শুধু যাচাই ও সম্পাদনার কাজ করেন তাঁরা। আরেকটি উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির একটি অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার টুল দুই সপ্তাহের কম সময়ে তৈরি করা হয়েছে। এ প্রকল্পের বড় অংশই ছিল এআই নির্মিত কোড। আমোদির মতে, এসব ঘটনা একটি বড় বাস্তবতার আভাস। আজও সফটওয়্যার প্রকৌশলীরা উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত আছেন ঠিকই, কিন্তু তাঁদের ভূমিকা দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি উৎপাদনশীলতার বড় সাফল্য মনে হলেও দীর্ঘ মেয়াদে এটি টেকসই কোনো পেশাগত মডেল না–ও হতে পারে। এআই যখন আরও জটিল ও উচ্চমাত্রার কাজ সামলাতে শিখবে, তখন বড় বড় মানব প্রকৌশল দলের প্রয়োজন দ্রুত কমে যেতে পারে। এমনকি যে পেশাগুলো গড়ে উঠতে কয়েক দশক লেগেছে, সেগুলো একসময় পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে।

আমোদি সতর্ক করে বলেন, এই পরিবর্তন শুধু সফটওয়্যার খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এআই বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অস্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। যেখানে একদিকে থাকবে খুব উচ্চ প্রবৃদ্ধি, অন্যদিকে থাকবে স্থায়ীভাবে উচ্চ বেকারত্ব ও বাড়তে থাকা বৈষম্য। এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে, যেখানে কোনো দেশের অর্থনীতি বছরে ৫ বা ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে, অথচ বেকারত্ব কমছে না বরং দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চই থেকে যাচ্ছে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে