গ্যালিলিওর পরীক্ষার মুখোমুখি এআই

গ্যালিলিও গ্যালিলিছবি: উইকিমিডিয়া কমনস

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যে গতিতে বিবর্তিত হচ্ছে, তাতে বিজ্ঞানীদের মনে এখন একটি বড় প্রশ্ন আসছে। কোনো একটি এআই সিস্টেমের প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা আমরা কীভাবে পরিমাপ করব, এমন উত্তর কীভাবে জানা যাবে? এই জিজ্ঞাসার কেন্দ্রবিন্দুতে গ্যালিলিও পরীক্ষার কথা জানা যায়। স্পেসএক্স ও এক্সএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ইলন মাস্ক মাঝেমধ্যেই এই পরীক্ষার আলাপ তোলেন। ৬ ফেব্রুয়ারি এক এক্স বার্তায় এই পরীক্ষা নিয়ে একটি ভিডিও শেয়ার করেন তিনি। ইলন মাস্কের মতে, এআই সিস্টেমের এমন সক্ষমতা থাকা উচিত যে তা অপ্রিয় হলেও সত্য বলতে পারে আর গ্যালিলিও টেস্টে উত্তীর্ণ হতে পারে।

গ্যালিলিও টেস্টের নামকরণ করা হয়েছে বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলির নামানুসারে। সপ্তদশ শতাব্দীতে গ্যালিলিও বলেছিলেন, পৃথিবী নয়; বরং সূর্যই সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত ও পৃথিবী তার চারদিকে ঘুরছে। এই হেলিক্যাল তত্ত্ব তখন ছিল চরম অজনপ্রিয় একটি মত। তৎকালীন প্রচলিত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে যাওয়ার অপরাধে তাঁকে কারাবরণ করতে হয়েছিল। যদিও গ্যালিলিও তাঁর বৈজ্ঞানিক সত্য থেকে বিচ্যুত হননি।

গ্যালিলিও পরীক্ষা এমন একটি মানদণ্ড, যা বিচার করবে কোনো একটি এআই কেবল তথ্য বিশ্লেষণ বা পূর্বনির্ধারিত সমস্যার সমাধানই করবে না; বরং তা মানুষের সাহায্য ছাড়াই সম্পূর্ণ নতুন মৌলিক কোনো বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব বা ধারণা দিতে পারবে কি না। এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে এআইয়ের বেশ কিছু দক্ষতা প্রয়োজন। এআইকে এমন নতুন কোনো তত্ত্ব বা অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করতে হবে, যা বিদ্যমান জ্ঞানের সীমানা ছাড়িয়ে যায়। গ্যালিলিও যেভাবে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাঁর তত্ত্ব প্রমাণ করেছিলেন, এআইকেও তার প্রস্তাবিত ধারণার পেছনে যৌক্তিক ও তথ্যভিত্তিক ব্যাখ্যা দিতে হবে। এ ছাড়া এআইয়ের দেওয়া ধারণাকে অবশ্যই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির আওতায় হতে হবে, যাতে অন্য বিজ্ঞানীরা তা যাচাই বা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন।

বর্তমানে আমরা যেসব এআই ব্যবহার করি, তা মূলত ইন্টারনেটে থাকা বিদ্যমান তথ্য বিশ্লেষণ করে উত্তর দেয়। তারা নতুন কিছু সৃষ্টি করে না; বরং পুরোনো তথ্যের সংমিশ্রণ ঘটায়। গ্যালিলিও টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়ার অর্থ হবে, এআই তখন মানুষের মতো সৃজনশীল চিন্তা করতে সক্ষম। ইলন মাস্কের মতে, সত্য অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে এআইকে হতে হবে আপসহীন। অনেক সময় এআইকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য উত্তর দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যার ফলে প্রকৃত সত্য আড়ালে পড়ে যেতে পারে। মাস্ক চান এআই যেন গ্যালিলিওর মতোই অটল থেকে কেবল ধ্রুব সত্যটুকু প্রকাশ করে।

আসলে গ্যালিলিও টেস্টে উত্তীর্ণ হওয়া কোনো সহজ কাজ নয়। সৃজনশীলতা কেবল ডেটা প্রসেসিংয়ের বিষয় নয়, এর জন্য প্রয়োজন বিষয়ের গভীরে ঢোকার ক্ষমতা এবং বিদ্যমান জ্ঞানের ফাঁকগুলো চিহ্নিত করে নতুন সমাধানের কল্পনা করা। যদি কোনো দিন এআই এই পরীক্ষায় সফল হয়, তবে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, এমনকি দর্শন ও শিল্পের ক্ষেত্রেও এক অভাবনীয় মোড় আসবে।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে