গুগলের নতুন এআই অ্যালগরিদম টার্বোকোয়ান্ট নিয়ে প্রযুক্তিবিশ্বে চলছে জল্পনাকল্পনা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দক্ষতা বাড়াতে নতুন একটি মেমোরি কমপ্রেশন অ্যালগরিদম তৈরি করছে গুগল। ‘টার্বোকোয়ান্ট’ নামের এই অ্যালগরিদম এআইয়ের কর্মক্ষমতা অক্ষুণ্ন রেখে মেমোরি ব্যবহারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এআই অ্যালগরিদমটি তৈরির ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই প্রযুক্তি খাতে শুরু হয়েছে নানা ধরনের জল্পনাকল্পনা।
গুগল রিসার্চের তথ্যমতে, টার্বোকোয়ান্টের প্রয়োগক্ষেত্র ভিন্ন। এটি ফাইল কমপ্রেশনের জন্য নয়, এআই প্রযুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা ওয়ার্কিং মেমোরি কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে মেমোরি ব্যবহারের পরিমাণ কমিয়েও এআইয়ের নির্ভুলতা ও কার্যকারিতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। সহজ কথায়, এর ফলে এআই আগের চেয়ে অনেক কম জায়গায় অনেক বেশি তথ্য মনে রাখতে পারবে এবং আগের মতোই নিখুঁত ফলাফল দেবে।
টার্বোকোয়ান্ট ভেক্টর কোয়ান্টাইজেশন–ভিত্তিক একটি পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে এবং এআই প্রক্রিয়াকরণের সময় ক্যাশ–সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে সহায়তা করে। এর ফলে কম জায়গায় বেশি তথ্য সংরক্ষণ করা যায় এবং সামগ্রিক প্রক্রিয়াকরণ দক্ষতা অক্ষুণ্ন থাকে। গবেষকদের দাবি, এ পদ্ধতির মাধ্যমে এআইয়ের ‘কেভি ক্যাশ’ বা চলমান কার্যপ্রক্রিয়ার মেমোরি অন্তত ছয় গুণ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হবে।
ধারণা করা হচ্ছে, আগামী মাসে আইসিএলআর ২০২৬ সম্মেলনে টার্বোকোয়ান্ট উপস্থাপন করতে পারে গুগল। সেখানে টার্বোকোয়ান্টের পাশাপাশি ‘পোলারকোয়ান্ট’ নামে একটি কোয়ান্টাইজেশন পদ্ধতি এবং ‘কিউজেএল’ নামে প্রশিক্ষণ ও অপটিমাইজেশন প্রযুক্তি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করবে প্রতিষ্ঠানটি।
গুগলের তথ্যমতে, টার্বোকোয়ান্ট অ্যালগরিদম এখনো গবেষণাগারের পর্যায়েই রয়েছে। এটি এখনো বাণিজ্যিকভাবে বা বৃহৎ পরিসরে প্রয়োগ শুরু হয়নি। এর ফলে এর বাস্তব প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা সময়ের ওপরই নির্ভর করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যালগরিদমটির বিষয়ে অনেকে রসিকতাও করছেন। জনপ্রিয় একটি টেলিভিশন ধারাবাহিকে সিলিকন ভ্যালিতে একই নামের একটি কাল্পনিক স্টার্টআপের কমপ্রেশন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দৃশ্য ছিল। আর তাই গুগলের নতুন অ্যালগরিদমটিকে সেই কাল্পনিক স্টার্টআপের কাজের সঙ্গে তুলনা করছেন অনেকে।
সূত্র: টেক ক্র্যাঞ্চ