ইরান যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, দাবি পালান্টিয়ার কর্মকর্তার
চলমান ইরান যুদ্ধে প্রথমবারের মতো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে জানিয়েছেন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান পালান্টিয়ার টেকনোলজিসের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) শ্যাম শঙ্কর। সম্প্রতি ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এই যুদ্ধ আধুনিক সমর কৌশলের ক্ষেত্রে একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বিভিন্ন দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থা পালান্টিয়ারের বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করায় পালান্টিয়ার শীর্ষ প্রযুক্তি কর্মকর্তার এ মন্তব্যকে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
শ্যাম শঙ্করের মতে, যদিও বর্তমানে সামরিক অভিযান চলমান রয়েছে, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন এই যুদ্ধের দিকে ফিরে তাকাবে, তখন তারা একে ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করবে। মানুষ এই যুদ্ধের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলবে, এটিই ছিল প্রথম বড় আকারের যুদ্ধ, যা সত্যিকার অর্থে প্রযুক্তি এবং এআই দিয়ে পরিচালিত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধে এআইয়ের ব্যবহার শুধু ড্রোন পরিচালনা বা লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে সীমাবদ্ধ নেই। গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ, রসদ সরবরাহ এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে এআই। এআইয়ের সম্পৃক্ততা যুদ্ধকে আরও নিখুঁত করে তুলছে, যা আগে কেবল সায়েন্স ফিকশন সিনেমাতেই দেখা যেত। তবে একই সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এই দাপট বিশ্বজুড়ে নৈতিক এবং নিরাপত্তাবিষয়ক নতুন বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে।
ইরান যুদ্ধে এআইয়ের সফল বা ব্যাপক প্রয়োগ বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর দেশগুলোকে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে উদ্বুদ্ধ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে যুদ্ধ কেবল অস্ত্রের লড়াই নয় অ্যালগরিদমের লড়াইয়ে পরিণত হবে।
সূত্র: ব্লুমবার্গ