দেশে সাম্প্রতিক সময়ে গাড়ি বিক্রির হার কেমন দেখছেন?
আশিক উন নবী: দুই বছর ধরে সামগ্রিকভাবেই বিক্রির হার কম। সব ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রেই। বৈশ্বিক গাড়ির শিল্পে এই প্রবণতা লক্ষণীয়। বিক্রি ধীরগতির হলেও বিভিন্ন ব্র্যান্ড অত্যাধুনিক ফিচারসমৃদ্ধ গাড়ি বাজারে আনছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ড গ্রাহকের চাহিদার বিষয়কে মাথায় রেখে নানা প্রযুক্তিসমৃদ্ধ নতুন নতুন গাড়ি বাজারে আনছে।
বিএমডব্লিউ গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা কোন কোন বিষয়কে গুরুত্ব দেয়?
আশিক উন নবী: চ্যালেঞ্জিং বাজারেও বিএমডব্লিউর প্রতি মানুষের প্রবল আকর্ষণ বজায় রয়েছে। যাঁরা গাড়ি চালানোর বিষয়টিকে গুরুত্ব দেন, আনন্দ পান, তাঁরা এই ব্র্যান্ডের গাড়ি কিনছেন। যাঁরা ড্রাইভিংয়ে আনন্দ খোঁজেন, তাঁরা বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের গাড়ি পছন্দ করেন। বিএমডব্লিউ তার সব গাড়িতে আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও সর্বাধুনিক ফিচারকে যুক্ত করে একটি পুরোপুরি গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা দেয়। গ্রাহকের জন্য লাক্সারির বিভিন্ন ফিচার ও নিরাপদ গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে উদ্ভাবনীয় ফিচার গাড়িতে যুক্ত করছে বিএমডব্লিউ।
নতুন কোন মডেলটি বাজারে বিক্রি হচ্ছে?
আশিক উন নবী: আমরা সম্প্রতি বাজারে বিএমডব্লিউ এক্স৩ এসইউভি গাড়িটি এনেছি। গ্রাহকেরা এখন এসইউভি গাড়ি কেনার দিকে ঝুঁকছেন। তাঁদের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে এই মডেলের গাড়িটি আমরা বাজারে এনেছি। বাংলাদেশের ভোক্তাদের পছন্দের প্রতি সাড়া দিয়ে এই এসইউভিটি বাজারে আনা হয়েছে। এসইউভি কেনার প্রতি গ্রাহকের আগ্রহ বাড়ছে।
গাড়িটির কিছু ফিচার সম্পর্কে বলুন।
আশিক উন নবী: নতুন বিএমডব্লিউ এক্স৩ গাড়িটি এক্সড্রাইভ৩০ই প্লাগ-ইন হাইব্রিড ঘরানার। ফিচার অনুসারে গাড়ির দাম পড়বে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এই মডেলের গাড়ি শক্তি, দক্ষতাসহ বিভিন্ন ফিচারকে গুরুত্ব দিচ্ছে। ইঞ্জিনের দিক থেকে এক্স৩ মডেলে একটি ২ লিটারের চার-সিলিন্ডার পেট্রল ইঞ্জিন ও একটি বৈদ্যুতিক মোটরের সমন্বয় রয়েছে, যা সম্মিলিতভাবে ২৯৯ হর্স পাওয়ার শক্তি উৎপাদন করে। প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেলের গাড়িটি ৯০ কিলোমিটার সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সীমায় চলতে পারে। চতুর্থ প্রজন্মের বিএমডব্লিউ এক্স৩ মডেলের গাড়িটিতে আছে উচ্চ-ভোল্টেজ ব্যাটারি, যা পূর্ববর্তী সংস্করণের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ক্ষমতাসম্পন্ন। এতে দৈনন্দিন দক্ষতা ও ড্রাইভিংয়ে গ্রাহকেরা বেশ আরাম ও স্বাচ্ছন্দ্য পাচ্ছেন। এক্স৩ মডেলের গাড়িটিতে ১৬০০ লিটার পর্যন্ত লাগেজ স্পেস প্রদান করে। গাড়ির সেন্টার কনসোল, ওয়্যারলেস চার্জিং, স্বয়ংক্রিয় টেলগেট ও স্প্লিট-ফোল্ডিং রিয়ার সিটের মতো বৈশিষ্ট্য গাড়িটিকে বেশ ভালোভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এক্স৩ মডেলের গাড়ির অভ্যন্তরে প্রিমিয়াম বিভিন্ন ফিচার রয়েছে। গাড়ির ককপিটে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অপারেটিং সর্বোচ্চ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ১৪.৯ ইঞ্চির বিএমডব্লিউ কার্ভড ডিসপ্লে অনন্য অভিজ্ঞতা দিচ্ছে। এই গাড়িতে ৬২ সেকেন্ডে ০ থেকে ১০০ কিমি/ঘণ্টা গতিতে পৌঁছানো যায়। সব মিলিয়ে গাড়ি চালানোর সময় দারুণ এক অভিজ্ঞতা পেতে এই গাড়িতে গ্রাহকের চাহিদা ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সব ফিচারই যুক্ত করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকার: জাহিদ হোসাইন খান